বিজ্ঞান কল্পকাহিনি
অবলিভিয়ন

অবলিভিয়ন চলচ্চিত্রের দৃশ্য
বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অবলিভিয়ন এক অনন্য ভিজ্যুয়াল মাস্টারপিস। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়ার পর এটি সায়েন্স ফিকশনপ্রেমীদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। জোসেফ কোসিনস্কির পরিচালনায় এবং টম ক্রুজের অভিনীত এই সিনেমার মূল পটভূমি আবর্তিত হয়েছে ভবিষ্যতের এক ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীকে কেন্দ্র করে। গল্পের প্রেক্ষাপট ২০৭৭ সালের, যেখানে ভিনগ্রহের প্রাণীদের আক্রমণের মুখে পড়ে পৃথিবী। হয় ভয়ংকর যুদ্ধ। যদিও সেই যুদ্ধে মানবজাতি জয়ী হয়, তবে পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসলীলায় পৃথিবী হয়ে পড়ে জনমানবহীন। বাধ্য হয়ে মানবজাতি পাড়ি জমায় শনি গ্রহের উপগ্রহ টাইটানে। তবে পৃথিবীতে রয়ে যায় যোগাযোগ টাওয়ার ও জল পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা দুই ক্রু জ্যাক হার্পার ও ভিক্টোরিয়া ওলসেন। তাদের স্মৃতি মুছে ফেলা হয়েছে এবং শুধু নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। সিনেমার প্রতিটি ফ্রেমে আধুনিক প্রযুক্তির দারুণ ব্যবহার দেখা যায়, যা বিজ্ঞানমনস্ক দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। জ্যাকের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত বাবল শিপ নামে অত্যাধুনিক ও অ্যারোডায়নামিক আকাশযানটি বাস্তবসম্মত সায়েন্স ফিকশনের এক চমৎকার নিদর্শন। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণ, মানুষের ক্লোনিং এবং স্ক্যাভেঞ্জারদের হাত থেকে জলশোধন কেন্দ্র রক্ষা করার জন্য স্বয়ংক্রিয় এআই ড্রোনের ব্যবহার ভবিষ্যতের রোবোটিকসের কথাই মনে করিয়ে দেয়। তবে অবলিভিয়ন শুধু কোনো অ্যাকশন সিনেমা নয়; এর মূল সুর লুকিয়ে আছে মানুষের অস্তিত্ব, আত্মত্যাগ এবং ভালোবাসার টানে। জ্যাক হার্পার যখন বুঝতে পারে তার স্মৃতির সম্পূর্ণ অংশটি কৃত্রিমভাবে তৈরি এবং আসল সত্য অন্য কোথাও, তখন সিনেমার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায়। চমৎকার ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, মনকাড়া সাউন্ডট্র্যাক এবং চোখ জুড়ানো চিত্রগ্রহণের জন্য এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মোহিত করে রাখার জন্য যথেষ্ট।
মুক্তির তারিখ: ১৯ এপ্রিল ২০১৩
পরিচালক: জোসেফ কোসিনস্কি
অভিনয়ে: টম ক্রুজ, মরগান ফ্রিম্যান, ওলগা কুরিলেঙ্কো, অ্যান্ড্রিয়া রাইজবরো
প্রযোজনায়: ইউনিভার্সাল পিকচার্স



