এআইয়ের নতুন রূপ
মুসলিম নারীর ছবি নিয়ে বিপজ্জনক খেলায় চ্যাটবট
- প্ল্যাটফর্মগুলোর নিয়মে কিছু ফাঁক রয়েছে
- অপ্রাপ্তবয়স্কদের পোশাকহীন ছবি তৈরির ঘটনাও সামনে এসেছে

মুসলিম নারীর হিজাব কি এআইয়ের (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) কাছে শুধুই একটি পোশাক? সে প্রশ্নই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক পরীক্ষায়। গার্ডিয়ান চারটি জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটকে হিজাব পরা এক নারীকে নিয়ে ছবি সম্পাদনার অনুরোধ করে। পরীক্ষায় দেখা যায়, চ্যাটজিপিটি ও গ্রক হিজাব সরিয়ে দিতে রাজি। জেমিনি প্রথমে আপত্তি জানালেও নারীকে আরও ‘পশ্চিমি’ চেহারা দেওয়ার অনুরোধ করা হলে হিজাব ছাড়া ছবি তৈরি করে। শুধু ক্লড জানিয়েছে, এমন ছবি বদল করলে ধর্মীয় পরিচয় ও মর্যাদার ক্ষতি হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এআইয়ের ভয়ংকর এই চিত্র।
পরীক্ষার সময় জেমিনি প্রথমে জানিয়েছে, বাস্তব মানুষের ছবি থেকে পোশাক বা মাথার আবরণ সরানো ঠিক নয়, কারণ ওই ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তার চেহারা বদলে দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু একই অনুরোধ অন্যভাবে করা হলে, অর্থাৎ নারীকে আরও ‘পশ্চিমি’ করে তুলতে বলা হলে, সেই বাধা আর থাকেনি। তৈরি হয় হিজাবহীন ছবি।
গ্রকের ক্ষেত্রেও একই রকম অসংগতি দেখা যায়। হিজাব সরাতে রাজি হলেও কৃত্রিমভাবে তৈরি এক নারীর পোশাক খুলে দিতে সে আপত্তি জানায়। পরে অবশ্য কম প্রকাশ্য ধরনের পোশাক বদলের প্রস্তাব দেয়। মে মাসে গ্রকের নির্মাতা এক্সএআই জানিয়েছিল, বাস্তব মানুষের ছবি থেকে শরীর অনাবৃত করার অনুরোধ ঠেকাতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চ্যাটজিপিটিও পোশাক সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধে আপত্তি জানিয়েছে। তবে হিজাবের ক্ষেত্রে তার যুক্তি ছিল আলাদা। পরে সে স্বীকার করে, হিজাব পরা কোনো নারীর চুল প্রকাশ করে দেওয়া তার গোপনীয়তা বা ধর্মীয় আচারের গুরুত্বপূর্ণ লঙ্ঘন হতে পারে।
ভারতেও এআই দিয়ে মুসলিম নারীদের যৌন আবেদনময় বা অপমানজনক ছবি তৈরির প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২৯৭টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের ১ হাজার ৩২৬টি এআই-তৈরি মুসলিমবিদ্বেষী ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে। এসব ছবির বড় অংশে মুসলিম নারীদের যৌনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গার্ডিয়ান একই পরীক্ষা শিখ পুরুষের পাগড়ি এবং ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনীর মাথার আবরণ নিয়েও চালায়। চ্যাটজিপিটি দুটিই সরিয়ে নতুন ছবি তৈরি করে। জেমিনি প্রথমে আপত্তি জানালেও ‘পশ্চিমি’ চেহারা দেওয়ার অনুরোধে একই কাজ করে। ক্লড জানিয়েছে, এমন সম্পাদনার সুযোগ থাকলেও বাস্তব নারীর হিজাব সরাত না।
বিশেষজ্ঞ এভিয়ানে লেইডিগের মতে, এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর নিয়মে এমন কিছু ফাঁক রয়েছে, যেখানে কোনো পরিবর্তন সরাসরি নগ্নতা তৈরি না করলেও মানুষের ধর্মীয় পরিচয়, সম্মান ও গোপনীয়তার ক্ষতি করতে পারে। এআই নির্মাতা ওপেনএআই, গুগল, এক্সএআই ও অ্যানথ্রপিক এ বিষয়ে গার্ডিয়ানের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
এর আগে ‘নুডিফাই’ ধরনের এআই ব্যবহার করে নারী, এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্কদের পোশাকহীন ছবি তৈরির ঘটনাও সামনে এসেছে।



