অমরত্বের বাসনা
ইতসকভের ‘২০৪৫ ইনিশিয়েটিভ’

রুশ বিলিয়নেয়ার ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা দিমিত্রি ইতসকভ
রাজ-রাজাদের অমরত্বের বাসনা দীর্ঘদিনের। তারই ধারাবাহিকতায় অমর হতে চান এক রুশ বিলিয়নেয়ারও। হাতে নিয়েছেন প্রকল্প। অগ্রগতি কতদূর, তা নিয়ে লিখেছেন এহতেশাম শোভন
অমরত্ব লাভের চিরন্তন বাসনা মানুষের আদিমতম প্রবৃত্তিগুলোর একটি, যা সময়ের বিবর্তনে আজ রূপ নিয়েছে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম এক অগ্রযাত্রায়। এই উচ্চাভিলাষী ভাবনার পেছনে এবার আরেক কারিগর যুক্ত হয়েছেন। তিনি রুশ বিলিয়নেয়ার ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা দিমিত্রি ইতসকভ। ১৯৮০ সালে রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তার অনলাইন মিডিয়া কোম্পানি ও প্রকাশনা ব্যবসা থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার পর সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন মানব প্রজাতির জৈবিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার গবেষণায়। তিনি বিশ্বাস করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির মাধ্যমে মানুষের চেতনাকে অমরত্ব দান সম্ভব। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘২০৪৫ ইনিশিয়েটিভ’ নামক একটি যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক প্রকল্প।
এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শারীরিক নশ্বরতাকে পেছনে ফেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারনেটিকস ও রোবোটিকসের হাত ধরে মানুষের চেতনাকে একটি কৃত্রিম মাধ্যমে স্থানান্তর করা, যা দীর্ঘ মেয়াদে মানবজাতিকে সাইবারনেটিকস অমরত্ব বা রূপান্তরকামী জীবনের দিকে নিয়ে যাবে। এই উদ্যোগের আওতায় মূলত একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মানুষের চেতনাকে শরীর থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার চারটি ভিন্ন ধাপ বা অবতার এ, বি, সি, ডি প্রজেক্টের কথা বলা হয়েছে।
তবে বর্তমানে এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টের বাস্তব অবস্থা বেশ মন্থর এবং অনেকটাই স্থবির। দিমিত্রি ইতসকভ এবং একদল গবেষক ও রোবোটিকস বিশেষজ্ঞ শুরুতে যে দ্রুতগতির রোডম্যাপ বা সময়সীমা ঘোষণা করেছিলেন, তার প্রায় বেশিরভাগ লক্ষ্যই নির্ধারিত সময়ে অর্জিত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ‘অবতার এ’ বা মানুষের মস্তিষ্ক দিয়ে দূরনিয়ন্ত্রিত রোবট চালনার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা নির্ধারিত সময়ে বাস্তবে রূপ নেয়নি। একইভাবে ২০২৫ সালের মধ্যে মানুষের মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনের যে ‘অবতার বি’ ধাপ অর্জনের কথা ছিল, তাও সফল হয়নি। চেতনাকে কম্পিউটারে আপলোড করা বা মানুষের মস্তিষ্ককে কৃত্রিম উপায়ে সম্পূর্ণ অনুকরণ করার মতো প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং এর পেছনের বিশাল বৈজ্ঞানিক অজ্ঞতার কারণে এই প্রজেক্ট বর্তমানে শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা এবং ট্রান্সহিউম্যানিজমের ধারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিজ্ঞান মহলের একটি বড় অংশ এই পরিকল্পনাগুলো অবাস্তব ও কল্পবিজ্ঞান বলে মনে করে।







