আমাদের গল্প লিখেছেন যে বইয়ে

এক ছিল রাজার ছেলে। এক ছিল রাখাল ছেলে। খুব বন্ধুত্ব তাদের মধ্যে। রাখাল ছেলে খুব ভালো বাঁশি বাজাতে পারে। তার বাঁশির সুরে ধানের ক্ষেতে বাতাস বয়ে যায়। নদীর জলে সুর খেলে যায়। আর রাজার ছেলে বাঁশি শুনতে খুব পছন্দ করে।
রাখাল মাঠে যায়। বুড়ো বটগাছের তলে বসে উদাস দুপুরে বাঁশি বাজায়। রাজার ছেলে ঘোড়ায় চড়ে রাখালের বাঁশি শুনতে সেই মাঠে আসে। মুগ্ধ হয়ে বাঁশি শোনে।
রাজার ছেলে একদিন বলে, ‘বন্ধু, একদিন আমি রাজা হব। সেদিন তুমি আমার প্রধানমন্ত্রী হবে। তুমি দেশ চালাবে। আর আমি শুধু নামেই রাজা থাকব। সব ক্ষমতা দেওয়া হবে তোমাকে।’
এইভাবে বাঁশি বাজিয়ে আর বাঁশির সুর শুনে ওদের হাসি-আনন্দে দিন কাটে।
দিন গড়িয়ে চলে।
চাঁদ ওঠে। সূর্য ডোবে।
রাজার ছেলের বিয়ে হলো। বউয়ের নাম কাঞ্চনমালা। পরমাসুন্দরী রাজকন্যা। সুখে তাদের দিন কাটে। সেই রাখাল ছেলে একদিন ভাবল, ‘অনেক দিন রাজার ছেলের সঙ্গে দেখা হয় না। যাই একদিন, বন্ধুর বউকে দেখে আসি।’
কিন্তু রাখাল ছেলে রাজপ্রাসাদে ঢোকার কোনো সুযোগ পেল না। রাজার ছেলে তাকে চিনল না। রাজ তোরণের সামনে থেকেই তাকে প্রহরীরা বিদায় দিল।
তারপর?
তারপর রাখাল ছেলে মনের দুঃখে বনে চলে গেল।
তারপর?
তার পরের গল্প তোমরাই পড়ে নিতে পারো ‘রাখাল ও রাজার ছেলে’ শিরোনামে গল্পে।
অনেকের কাছে গল্পটা পরিচিত মনে হতে পারে। মনে হতে পারে, এই তো সেদিন দাদাভাইয়ের কাছে শুনেছি। শুনেছি, গেল ঈদের ছুটিতে নানুবাড়ি গিয়ে ছোট খালামণির কাছে! এই মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ, এই গল্প আমাদের গাঁও-গেরামের।
বলি, এমন আরও অসংখ্য গল্প। ‘বোকা চাষীর মধুর হাসি’, ‘পোষাকী খাবারের গল্প’, ‘রাজকন্যা ও গরিবের ছেলে’, ‘শেয়াল নেতার গল্প’, ‘নাই দেশের আজগুবি গল্প’, ‘ছিলো মোরগ হলো ডাল’, ‘রাজা ও ময়না পাখির গল্প’সহ ২২টি গল্প পেয়ে যাবে বইটিতে।
কোন বই?
তাই তো বলছি; বইটির নাম ‘বাংলার গল্প বাঙালির গল্প’।
এই বইয়ের গল্পগুলোর কোনোটা মজার, কোনোটা ভাবনার, কোনোটা আবার মন খারাপের। তবে সব গল্পই আমাদের। এই গল্পগুলো পড়তে গিয়ে কবি জসীম উদ্দীনের ‘বাঙ্গালীর হাসির গল্প’ বইটির কথা বড্ড মনে পড়ে গেল। কারণ, জসীম উদ্দীনের বইটির পর সেভাবে কেউই আমাদের গাঁও-গেরামের গল্প লেখেননি। এই লেখকই লিখেছেন।
ও, তোমাদের তো লেখকের নামটাই বলা হয়নি। লেখকের নাম আমীরুল ইসলাম।
আমীরুল ইসলামের লেখা এই বই তোমাদের জন্য প্রকাশ করেছে বাংলাবাজারের কলি প্রকাশনী। বইটির প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন শিল্পী ধ্রুব এষ। ২৭০ টাকা দামের বইটি পড়তে পড়তে লেখকের কথাটাও একটু ভেবে নিও। কারণ, এই লেখক ভাবতে ভাবতেই কিছুদিন আগে আকাশের দেশে চলে গেছেন। পারলে আকাশের দিকে তাকিয়ে তোমার মনের কথাটা বলে দিও। তারায় তারায় মনের কথা পৌঁছে যাবে লেখকের কাছে। লেখক তখন হয়তো খলবলিয়ে হেসে উঠবেন!



