টিকটিকি

অলংকরণ করেছেন রজত
এক বাসায় ছিল হিংসুটে একটি টিকটিকি। একদিন সে ওই বাসার বাকি প্রাণী ও পতঙ্গকে বের করে দিল। তারপর যখন সে একদম একা তখন ঘটল বিপদ। কী বিপদ? কীভাবে উদ্ধার পেল সে? কী শিক্ষা পেল? সেই গল্প লিখেছেন দন্ত্যস রওশন
টিকটিকি কথা বলছে। কথা বলছে সবার উদ্দেশে। সে দাঁড়িয়েছে একটা সোফায় ওপর। বলছে, ‘এ বাসায় শুধু আমি থাকব। পিঁপড়া থাকবে না। তেলাপোকা থাকবে না। অন্য আর কেউ থাকবে না।’
টিকটিকির কথা শুনল সবাই। তারপর বাসা থেকে একে একে চলে গেল। চলে গেল অনেক পিঁপড়া। চলে গেল অনেক তেলাপোকা। চলে গেল ছোট ইঁদুর।
টিকটিকি একা একা বাসায় থাকে। সে খুব খুশি। সে পোকা ধরে খেত। হঠাৎ টিকটিকি দেখল, বাসায় কোনো পোকা নেই । সে কী খাবে? পোকারাও নেই। চলে গেছে।
একদিন টিকটিকি সিলিং ফ্যানের কাছে ঘুরছিল। কোনো খাবার নেই। তার মন খুব খারাপ হলো। হঠাৎ তার লেজটা খসে পড়ে গেল। খুব ব্যথা পেল সে। লেজটা নড়ছে সোফার সামনে।
লাল পিঁপড়ারা লাইন ধরে যাচ্ছে। একটি লাল পিঁপড়া দৌড়ে এলো। সে যাচ্ছিল অন্যদিকে। বলল, ‘তোমরা শুনেছ? টিকটিকির লেজ পড়ে গেছে। আহা ওর কত কষ্ট!’
একটি কালো পিঁপড়া বলল, ‘চল যাই। ওকে দেখে আসি।’ এ কথা শুনে সবাই বলল, ‘চল, চল।’ তারা ছুটল টিকটিকিকে দেখতে। সেই বাসায়। পিঁপড়াদের দলে যোগ দিল তেলাপোকা, পোকামাকড় ও ছোট ইঁদুর।
লাল পিঁপড়া বলল, ‘আমাদের ডাক্তার পিঁপড়া কোথায়?’ ছুটে এলো ডাক্তার পিঁপড়া। ডাক্তার পিঁপড়াও চলল তাদের সঙ্গে।
বাসায় ঢোকার পর তারা দেখল, টিকটিকির লেজটা পড়ে আছে। পিঁপড়ারা লেজ তাদের মাথায় তুলে নিল।
লেজ মাথায় নিয়ে তারা ছুটছে। হাঁটতে হাঁটতে তারা টিকটিকিকে খুঁজে পেল। টিকটিকির খুব মন খারাপ। ডাক্তার পিঁপড়া বলল, ‘আমি তোমার লেজ জোড়া দিয়ে দিচ্ছি। কোনো অসুবিধা নেই।’
অনেক কষ্টে পিঁপড়ারা টিকটিকির লেজ জোড়া লাগিয়ে দিল। ছোট্ট ইঁদুর দিল লেজে সেলাই করে। ফড়িং নিয়ে এলো খাবার। সে বলল, ‘বেশি করে খাও। তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবে।’
টিকটিকি খুব খুশি। ডাক্তার পিঁপড়া বলল, ‘এবার যাই।’ ইঁদুর বলল, ‘চল, চলে যাই।’ ফড়িং-পোকারা বলল, ‘চল, যেতে তো হবেই। আমরা তো আর থাকতে পারব না।’
টিকটিকি ছোটাছুটি করছে। লাফালাফি করছে। তার অনেক আনন্দ। পিঁপড়ারা লাইন ধরেছে, তারা চলে যাবে। লাইনের পেছনে ইঁদুর ও ফড়িং। তারা পেছন ফিরে দেখছে টিকটিকিকে।
টিকটিকি ডাকল, ‘অ্যাই, কোথায় যাচ্ছ তোমরা? যেও না। আমি তোমাদের যেতে দেব না।’
ডাক্তার পিঁপড়া বলল, ‘তুমি তো একাই থাকতে চাও, তাই না? আমরা চলে যাই।’
টিকটিকি বলল, ‘না। আমি সরি বলছি। এ বাসায় আমরা সবাই থাকব। মিলেমিশে থাকব। তোমাদের আর চলে যেতে বলব না। সবাই মিলে অনেক মজা করব।’
এখন ওরা সবাই একই বাসায় থাকে। টিকটিকি আর একা থাকতে চায় না।



