Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
অরক্ষিত রেলক্রসিং পাহারায় ইসলাম
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় খোলা হাওয়া

৯ দশকের মালেকের হোটেল

শাহীন মোল্লা
agamir somoy
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৪৭
৯ দশকের মালেকের হোটেল

‘যিনি আগে আসবেন, তিনি আগে খাবার পাবেন।’ দেয়ালে লেখা এ বাক্যটিই যেন টঙ্গীর মালেকের হোটেলের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। আর এর পরের নির্দেশনাতেও রয়েছে বেশ কড়াকড়ি, ‘প্রতি টেবিলে চারজন করে বসতে হবে।’ তেমনি তাড়াহুড়ো থাকলে মানে মানে কেটে পড়ার ইশারাও আছে।
গ্রাহক টানতে যেখানে এখন রেস্তোরাঁগুলো নানা ধরনের ছাড়, অফার ও বিশেষ সেবার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত, সেখানে টঙ্গী বাজারের এ পুরনো হোটেলটি প্রায় নয় দশক ধরে নিজের নিয়মেই চলছে। আশ্চর্যের বিষয়, এ নিয়মের কড়াকড়িই মালেকের হোটেলকে দিয়েছে আলাদা পরিচয়।

শুধু নিয়ম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে টঙ্গী বাজারের বাণিজ্যিক ইতিহাস, নৌপথে আসা ব্যবসায়ীদের স্মৃতি, হ্যাজাক বাতির আলো আর কয়েক প্রজন্ম ধরে একই পরিবারের হাতে ধরে রাখা খাবারের ঐতিহ্য। ‘তাজ রেস্টুরেন্ট’ নামের এ প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়দের কাছে তাই আজও এক নামে ‘মালেকের হোটেল’ নামেই পরিচিত।

ঢাকা শহরের অন্যতম প্রবেশদ্বার টঙ্গী। আর টঙ্গী শহরের প্রাণকেন্দ্র টঙ্গী বাজার। এ বাজারেই ১৯৩৯ সালে স্বল্প পরিসরে একটি খাবারের দোকান শুরু করেন আব্দুল মালেক মিয়া। দেশভাগের পর বাড়তে থাকে এ দোকানের নামডাক। ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা আর ব্যবসায়ের বাড়বাড়ন্তে দোকানও বড় হয়। যোগ হয় একটি বাহারি নাম— ‘তাজ রেস্টুরেন্ট’।

ষাটের দশকে টঙ্গীতে শিল্পায়নের গতি বাড়তে শুরু করে। ক্রমে টঙ্গী বাজার পাইকারি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের অনেকেরই দুপুরের খাবারের ভরসা হয়ে ওঠে এ রেস্তোরাঁ।

৪৭ বছর সফলভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার পর ১৯৮৬ সালে মারা যান প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল মালেক মিয়া। এরপর হাল ধরেন তার ছেলে সাদেক মিয়া ও পুত্রবধূ জায়েদা বেগম। ২০১৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে রয়েছেন মালেক মিয়ার নাতি এম এ জুবায়ের।

প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। সন্ধ্যার পর হ্যাজাক বাতি জ্বালিয়েই আলো করা হতো। সময় বদলেছে, এসেছে বিদ্যুৎ ও আধুনিক আলোকসজ্জা। কিন্তু পূর্বপুরুষের স্মৃতি ধরে রাখতে সেই হ্যাজাক লাইট আজও ঝুলছে রেস্তোরাঁর ভেতরে। দেয়ালে টাঙানো রয়েছে প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল মালেক মিয়া ও তার ছেলে সাদেক মিয়ার ছবিও।

পুরনো কাঠের টেবিল-বেঞ্চ, টিন ও কাঠের ঘেরা পরিবেশ, মাটির মেঝে, সব মিলিয়ে এখানে খাবারের সঙ্গে পাওয়া যায় অন্যরকম একসময়ের অনুভূতি। মালেকের হোটেলের বিখ্যাত নিয়মগুলোর জন্মও প্রয়োজন থেকেই।

একসময় নৌপথে টঙ্গী বাজারে প্রচুর ব্যবসায়ী আসতেন। দুপুরের খাবারের সময় রেস্তোরাঁয় উপচে পড়ত ভিড়। কে আগে এসেছেন আর কে পরে এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে প্রায়ই বাগ্‌বিতণ্ডা বাধত। সেই বিশৃঙ্খলা এড়াতেই চালু করা হয় ‘আগে আসলে আগে খাবার’ নীতি। একই সঙ্গে টেবিলে নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ বসানোর নিয়মও করা হয়। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সেই নিয়মে পরিবর্তন আসেনি। আধুনিক রেস্তোরাঁর সংখ্যা বেড়েছে, বদলেছে মানুষের খাদ্যাভ্যাস। তবু মালেকের হোটেলের আবেদন কমেনি।

ঢাকা, উত্তরা, দক্ষিণখান, উত্তরখান, গাজীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন মানুষ আসেন এখানে দুপুরের খাবার খেতে।

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা ৭০ বছর বয়সী মো. জলিল মিয়া বললেন, ‘টঙ্গী বা আশপাশে এলেই এখানে খাই। এদের খাবারের মান ও পরিবেশনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। একদম ঘরের খাবারের মতো।’
স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আল-আমিন মিয়াসহ অনেকেই নিয়মিত এখান থেকে দুপুরের খাবার খান কিংবা পার্সেল নিয়ে যান। টঙ্গী বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী রমিজ মিয়া বললেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের অনেকের কাছেই দুপুরের খাবারের প্রথম পছন্দ মালেকের হোটেল।

রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে খেতে আসা ইমন ও মিম দম্পতি জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেস্তোরাঁটির ভিডিও দেখে তাদের আগ্রহ জন্মায়। তারা বললেন, ‘রাজধানীর এত কাছে এখনো পুরনো আসবাবপত্র আর কিছু ঐতিহ্যবাহী নিয়ম মেনে একটি রেস্তোরাঁ চলছে, এটি নিজ চোখে দেখার আগ্রহ থেকেই এসেছি। এসে যা দেখলাম, অসাধারণ। মাটির মেঝে, কাঠ ও টিনের পরিবেশ, পুরনো হ্যাজাক লাইট, পাখা আর কাঠের টেবিল-বেঞ্চে বসে খাবার খেয়ে খুব তৃপ্তি পেয়েছি।’
তাদের পাতে ছিল ভাজি ও ভর্তা, দেশি বোয়াল ও মলা মাছের ঝোল, দেশি মুরগি ও আলুর তরকারি, টক ডাল এবং শেষে মাঠা।

রেস্তোরাঁটির তত্ত্বাবধায়ক মো. রবিন মিয়া জানালেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখানে শুধু দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়। কখনো সকালের নাশতা বা রাতের খাবারের ব্যবস্থা চালু করা হয়নি।
এখানে চোখধাঁধানো দীর্ঘ মেন্যু নেই। প্রতিদিন সীমিত কয়েকটি পদই রান্না হয়— দেশি মুরগি, খাসির মাংস, নদীর বড় মাছ, ছোট মাছ, ঘন ডাল, সবজি বা ভাজি এবং গরম ভাত। সীমিত মেন্যুর পেছনে রয়েছে খাবারের তাজা মান বজায় রাখার চিন্তা। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, আইটেম যত বেশি হবে, খাবার অবিক্রীত থেকে যাওয়ার ঝুঁকিও তত বাড়বে। সীমিত পদে রান্না করলে প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনই শেষ করা সহজ হয়।

রেস্তোরাঁটির পাশের একটি প্লাস্টিক আসবাবপত্রের দোকানের মালিক নুরু মিয়া জানালেন, সপ্তাহের তিন দিন— রবি, সোম ও মঙ্গলবার, টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস খোলা থাকায় দুপুরের পর মালেকের হোটেলে ভিড় বেশি থাকে। তিনি বললেন, ‘দুপুর ১টা থেকে খেতে আসা মানুষের ঢল নামে। তবে শুধু ওই তিন দিন নয়, সপ্তাহ জুড়েই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। অনেকে শুধু খেতে নয়, পুরনো পরিবেশ দেখতে এবং ছবি-ভিডিও করতেও আসেন।’ টঙ্গী বাজারের ঐতিহ্যের সঙ্গে মালেকের হোটেলের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে বলেও মনে করেন তিনি।

শুধু ব্যবসার মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি প্রতি বৃহস্পতিবার সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে দুপুরের খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি এ সামাজিক উদ্যোগও প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের ভালোবাসা বাড়িয়েছে।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা বা আশপাশের এলাকা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে টঙ্গী বাজার এলাকায় পৌঁছানো যায়। টঙ্গী বাজার স্টেশনের আশপাশে স্থানীয় কাউকে ‘মালেকের হোটেল’ বললেই সহজে পথ দেখিয়ে দেবেন।

কালের পরিক্রমায় টঙ্গীতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য আধুনিক খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ। কিন্তু কাঠের বেঞ্চ, হ্যাজাকের স্মৃতি, ঘরের খাবারের স্বাদ আর শৃঙ্খলার নিজস্ব নিয়ম নিয়ে ‘তাজ রেস্টুরেন্ট’ আজও আলাদা। যেখানে দুপুরের খাবারের সঙ্গে মেলে প্রায় সাত দশকেরও বেশি সময়ের এক টুকরো ইতিহাস।

দশকহোটেলকড়াকড়িইতিহাসখোলা হাওয়া
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    খালে পড়ে ছিল যুবকের দুই হাত রশি দিয়ে বাঁধা মরদেহ, সঙ্গে ইট বাঁধা বস্তা

    খালে পড়ে ছিল যুবকের দুই হাত রশি দিয়ে বাঁধা মরদেহ, সঙ্গে ইট বাঁধা বস্তা

    মাইকিং করে ঘোষণা হলো শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন

    মাইকিং করে ঘোষণা হলো শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন

    ওসির বিরুদ্ধে বিকাশে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

    ওসির বিরুদ্ধে বিকাশে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

    ওসির সঙ্গে বাদানুবাদ, ‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’ বললেন রুমিন ফারহানা

    ওসির সঙ্গে বাদানুবাদ, ‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’ বললেন রুমিন ফারহানা

    হাতছাড়া এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতেই সাজেক অস্থির

    হাতছাড়া এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতেই সাজেক অস্থির

    ভোট টানতে জোট ভাঙছে হেফাজত!

    ভোট টানতে জোট ভাঙছে হেফাজত!

    সন্তানের সামনেই মারধর, ন্যায়বিচার চান মা তানিশা

    সন্তানের সামনেই মারধর, ন্যায়বিচার চান মা তানিশা

    সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা যুবদল নেতার!

    সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা যুবদল নেতার!

    মনে রাখতে হবে আমরা কী মন্ত্রে দেশ স্বাধীন করেছি!

    মনে রাখতে হবে আমরা কী মন্ত্রে দেশ স্বাধীন করেছি!

    শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধর

    শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধর

    ‘মব করতে নয়, গিয়েছিলাম বিচার চাইতে’

    ‘মব করতে নয়, গিয়েছিলাম বিচার চাইতে’

    রাস্তার পাশে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ, কাভার্ড ভ্যানচাপায় এসআইসহ নিহত ২

    রাস্তার পাশে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ, কাভার্ড ভ্যানচাপায় এসআইসহ নিহত ২

    বনমালী

    বনমালী

    পদ্মা যমুনায় এক সেতু রেললাইন ছাড়া

    পদ্মা যমুনায় এক সেতু রেললাইন ছাড়া

    সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি

    সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি