নবম-দশম শ্রেণি (বাংলা প্রথম পত্র)
কপোতাক্ষ নদ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তর

কপোতাক্ষ কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাগরদাঁড়ি গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদ। শৈশবের নানা স্মৃতি কবির মনে ভিড় করে। ফলে কবি যখন একান্ত নিরিবিলিতে থাকেন, তখন এই নদের কথা ভাবেন। কপোতাক্ষের কথা সবসময় তার মনে পড়ে। প্রবাসে রূঢ় বাস্তবতায় কবি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। কপোতাক্ষের স্মৃতি তাকে ভাবিয়ে তোলে। রাতে মানুষ যেমন ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে, মায়ামন্ত্র ধ্বনিতে আবেগে আপ্লুত হয়, কবিও অনুরূপভাবে কপোতাক্ষকে নিয়ে স্বপ্নে বিভোর হন। স্বপ্নের মতো কপোতাক্ষের সব সুখ-স্মৃতি তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তিনি নদের কলকল শব্দে বয়ে চলা অনুভব করেন। তিনি যেন স্বপ্নের ঘোরে কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান।
প্রবাস জীবনে কবি বহু নদনদী দেখেছেন, কিন্তু আর কোনো নদীর জল কপোতাক্ষের মতো তৃপ্তি দিতে পারেনি। কারণ, শৈশব-কৈশোরে কপোতাক্ষই ছিল তার প্রাণসখা। এই নদের সৌন্দর্য অনুভব করে এর জলেই তার স্নেহের তৃষ্ণা মিটেছে। বিদেশের কোনো নদনদীর জলে কিংবা সৌন্দর্যে কবির সে তৃষ্ণা মেটেনি। প্রবাস জীবনে কবি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছেন তার জন্মভূমির রূপসৌন্দর্যকে। কবির স্বদেশানুরাগটি মূলত কপোতাক্ষ নদকে কেন্দ্র করে ফুটে উঠেছে। তিনি জন্মভূমির এই নদীর জলকে মাতৃদুগ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রবাস জীবনের স্নেহহীন দুঃসময় কবির মনে যখন গভীর বেদনা সৃষ্টি করেছে, কপোতাক্ষ নদের টলটলে স্বচ্ছ স্রোতধারা তখন কবির কল্পনায় ভূমিমাতার দুধের ফোয়ারা হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।
কবি জানেন যে তার শৈশবের নদটি আগের মতোই সাগরকে বারিরূপ (জল) কর দিয়ে যাচ্ছে। প্রজা যেমন রাজাকে কর বা রাজস্ব দেয়, তেমনি কপোতাক্ষ নদও সাগরকে জলরূপ কর বা রাজস্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের কানে কানে কররূপ সেই স্রোতধারা কলকল ধ্বনিতে সাগরের বুকে ছুটে চলছে। কপোতাক্ষ নদ যেন কবিকে স্নেহাদরে বন্ধু ভাবে। প্রেমভাবে যেন তাকে স্মরণ করে। কারণ কবি তাকে গভীর আবেগ, ভালোবাসায় স্মরণ করেছেন। এ কবিতায় স্মৃতিকাতরতার আবরণে কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। দেশপ্রেমের আবেগে আপ্লুত হয়ে কবি এ নদের কাছে মিনতি করেছেন বাংলা কবিতা ও গানে তিনি যেন এ নদের কথা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। তার প্রিয় নদের নাম বঙ্গের সংগীতে রূপান্তর হয়েছে।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :
১. কপোতাক্ষ নদ কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: কপোতাক্ষ নদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের অন্যতম বড় নদ।
২. কপোতাক্ষ নদ কবিতাটি রচনাকালে কবি কোন দেশে ছিলেন?
উত্তর: কপোতাক্ষ নদ কবিতাটি রচনাকালে কবি ফ্রান্সে ছিলেন।
৩. কপোতাক্ষ নদ কবিতার অষ্টকের মিলবিন্যাস কী?
উত্তর : ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার প্রথম আট চরণের অন্তমিল হলো— কখকখকখখক।
৪. কপোতাক্ষ নদ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেট সংকলনের গ্রন্থ হলো ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’। এ গ্রন্থের একটি উল্লেখযোগ্য সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা ‘কপোতাক্ষ নদ’।
৫. কপোতাক্ষ নদ কোন ধরনের কবিতা?
উত্তর: ‘কপোতাক্ষ নদ’ একটি চতুর্দশপদী কবিতা।
৬. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন ছন্দে লেখা?
উত্তর : ছন্দ বিবেচনায় ‘কপোতাক্ষ নদ’ অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা।
৭. সনেট কাকে বলে?
উত্তর: চৌদ্দ-চরণ-সমন্বিত, ভাবসংহত সুনির্দিষ্ট গীতিকবিতাকে সনেট বলা হয়।
৮. কত খ্রিস্টাব্দে মধুসূদন দত্তের নামের প্রথমে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়?
উত্তর: ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে মধুসূদন দত্তের নামের প্রথমে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
৯. বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রবর্তন করেন কে?
উত্তর: বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রবর্তন করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
১০. ‘সতত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘সতত’ শব্দের অর্থ সর্বদা বা সব সময়। (চলবে)



