ছানি অপারেশনের পরও দৃষ্টি ঝাপসা হলে

চোখে ছানি পড়া একটি অত্যন্ত পরিচিত সমস্যা। সাধারণত ছানি অপারেশন করলে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া যায়, এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে, সফল অপারেশনের পরও রোগী চোখে আগের মতো দেখতে পান না বা দৃষ্টি ঝাপসা রয়ে যায়। অনেকেই মনে করেন, অপারেশনে হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। ছানি অপারেশনের পরও রোগী পরিষ্কার দেখতে না পাওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে—
চোখের চাপ নিয়ন্ত্রণে অপারেশন: অনেক সময় ছানির কারণে চোখের ভেতরে প্রেশার বা চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই তীব্র চাপ রোগীর অসহ্য ব্যথার কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ছানি অপারেশন করা হয় মূলত চোখের প্রেশার নিয়ন্ত্রণের জন্য। ডাক্তার শুরুতেই রোগীকে জানান, এই অপারেশনের উদ্দেশ্য দৃষ্টিশক্তি বাড়ানো নয়; বরং চোখের জটিল পরিস্থিতি বা প্রেশার নিয়ন্ত্রণ। এক্ষেত্রে অপারেশনের পর স্বাভাবিক দৃষ্টি ফিরে আসার সম্ভাবনা কম থাকে।
ছানির আড়ালে থাকা চোখের অভ্যন্তরীণ সমস্যা: যদি ছানি এতটাই ঘন হয় যে, অপারেশনের আগে চোখের ভেতরের অংশ (রেটিনা বা নার্ভ) দেখা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে ডাক্তার অপারেশনের আগে দৃষ্টি কেমন হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। ছানি অপসারণের পর যদি দেখা যায় চোখের ভেতরের নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা রেটিনায় বড় কোনো ক্ষত রয়েছে, তবে রোগী পরিষ্কার দেখতে পান না। অপারেশনের আগে ‘বি স্ক্যান’ নামক আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে রেটিনা ছিঁড়ে গেছে কি না, তা বোঝা গেলেও নার্ভের ক্ষতি বা রেটিনার অন্যান্য সূক্ষ্ম ক্ষত অনেক সময় ধরা পড়ে না। তাই অপারেশন-পরবর্তী সময়েই কেবল এই অবস্থা শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
লেন্স বসাতে না পারা এবং বিকল্প ব্যবস্থা: কখনো কখনো ছানি অত্যন্ত জটিল হওয়ার কারণে প্রথম অপারেশনে লেন্স বসানো সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রেও রোগী প্রথম দিন থেকে স্পষ্ট দেখতে পান না। তবে যদি চোখের ভেতরের রেটিনা ও নার্ভ সুস্থ থাকে, তবে পরবর্তী সময়ে বিকল্প পদ্ধতিতে চোখের সামনে লেন্স বসিয়ে রোগীকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।
দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি ফিরে না পেলে দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। করণীয়গুলো হলো—
চিকিৎসাযোগ্য কি না তা পরীক্ষা: প্রথমেই বুঝতে হবে সমস্যাটি চিকিৎসাযোগ্য কি না। চক্ষুবিশেষজ্ঞ পরীক্ষা করে দেখবেন চোখের ভেতরের নার্ভ বা রেটিনার অবস্থা কেমন।
রেটিনার চিকিৎসা: যদি রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত থাকে, কিন্তু তা অপারেশনযোগ্য হয়, তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
বিকল্প লেন্স স্থাপন: যদি জটিলতার কারণে প্রথমবার লেন্স না বসে এবং চোখের পেছনের অংশ সুস্থ থাকে, তবে পরে বিকল্প উপায়ে লেন্স বসানোর ব্যবস্থা করা যায়।
পরামর্শ গ্রহণ: যদি নার্ভ বা রেটিনা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে চিকিৎসক রোগীকে তার চোখের বর্তমান অবস্থা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবেন।
ছানি অপারেশনের পর স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি না আসা মানেই যে সব শেষ হয়ে গেল, এমনটা নয়। অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে থাকা জটিলতাগুলোর আধুনিক চিকিৎসা সম্ভব। তাই আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরুন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নির্দেশনায় পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।
লেখক: কনসালট্যান্ট, চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও সার্জন বাংলাদেশ আই হসপিটাল ও ইনস্টিটিউট, ঢাকা



