স্বাস্থ্য টিপস
গ্লাস স্কিন কি বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘গ্লাস স্কিন’ ট্রেন্ডটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও এটি কোনো মেডিকেল টার্ম নয়। মূলত মসৃণ, হাইড্রেটেড ও স্বচ্ছ দীপ্তিময় ত্বককেই গ্লাস স্কিন বলা হয়। তবে মনে রাখবেন, ছিদ্রহীন বা নিখুঁত ত্বক বাস্তবে অসম্ভব; ত্বকে পোরস, ফাইন লাইন বা মাঝেমধ্যে ব্রণ হওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
গ্লাস স্কিনের মূল রহস্য হলো সুস্থ ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ ও ত্বকের সঠিক আর্দ্রতা বজায় রাখা। এর জন্য ৭ থেকে ১০টি প্রসাধনী ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। একটি সাধারণ ও নিয়মিত রুটিনই যথেষ্ট।
সঠিক রুটিন: মৃদু ক্লিনজার, উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার এবং ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন— এ তিনটিই হলো সুস্থ ত্বকের ভিত্তি। অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
কার্যকর উপাদানের ব্যবহার: ত্বক উজ্জ্বল করতে ও টেক্সচার ঠিক রাখতে নিয়াসিনামাইড, ভিটামিন সি, রেটিনয়েডস বা জেন্টল এক্সফোলিয়েটিং অ্যাসিড ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা জরুরি। কারণ অতিরিক্ত ব্যবহারে ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে।
ভুল ধারণা: প্রচুর পানি পান করলেই গ্লাস স্কিন পাওয়া যাবে— এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; ত্বকের আর্দ্রতা মূলত সঠিক স্কিনকেয়ার ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। এ ছাড়া ত্বকের উপরিভাগ মসৃণ রাখতে এক্সফোলিয়েশন সাহায্য করলেও অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বকের ব্যারিয়ার নষ্ট করে ফেলে।
গ্লাস স্কিনের আসল রহস্য হলো সুস্থ ত্বক। সুস্থ, সুরক্ষিত ও সঠিকভাবে পরিচর্যা করা ত্বকই হলো গ্লাস স্কিনের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সংস্করণ।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন বিভাগ, আলোক হাসপাতাল, মিরপুর।



