আত্মহত্যা প্রতিরোধে করণীয়

প্রতি বছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আত্মহত্যা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে করণীয়’। পৃথিবীতে প্রতি বছর আট লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন।
আত্মহত্যার কারণ
কৈশোরে মৃত্যুর তৃতীয় সর্বোচ্চ কারণ আত্মহত্যা। সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম ‘সামাজিক সমর্থন হারানো’কে আত্মহত্যার গুরুত্বপূর্ণ কারণ মনে করেন। জীবনে বড় বিপর্যয় বা বিশৃঙ্খলা, অন্যদের মানসিক শান্তি দেওয়ার উদ্দেশ্য এবং নিউরোবায়োলজিক্যাল কারণেও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়তে পারে। আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তির সন্তানদের মধ্যে এ ঝুঁকি ছয় গুণ বেশি। আত্মহত্যাকারীদের ৮০ শতাংশ বিভিন্ন মানসিক রোগে ভোগেন, যার মধ্যে বিষণ্ণতা অন্যতম। আশাহীনতা আত্মহত্যার চেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ ছাড়া কেউ কোনো লজ্জাজনক, অপমানজনক, কলঙ্কজনক, মানহানিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে, তখন আত্মহত্যার চিন্তা আসতে পারে।
প্রতিরোধে করণীয়
মানসিক কষ্টে থাকা ব্যক্তির কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং তাকে একা না রেখে পরিবার ও বন্ধুদের পাশে রাখুন। হতাশা বা আত্মহত্যার কথা হালকাভাবে নেবেন না। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন। পরিবারে সহানুভূতিশীল ও খোলামেলা পরিবেশ গড়ুন, মাদকাসক্তি ও সহিংসতা থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ দিন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ান।
লেখক: মনোচিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানী, অলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর



