রূপপুরে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হচ্ছে রবিবার
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিলেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) এ অনুমোদন দিয়েছে। তাই আগামী রবিবার থেকে প্রথমবারের মতো এই বিক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে যাওয়ার বড় ধরনের অগ্রগতি এটি, যাকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’।
বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান আগামীর সময়কে জানান, সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্বে যেতে নিতে হবে আরও দুটি অনুমোদন।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের দুজন কর্মকর্তা আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, অনুমোদন পাওয়ায় এখন পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ অক্টোবর রবিবার থেকে এই ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি শুরু হবে। তবে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দু-এক দিন সময় বেশি লাগতে পারে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভালভে (পিওআরভি/পিওএসভি) জটিলতা দেখা দেওয়ায় এতদিন অনুমোদন আটকে ছিল। স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাপ কমানোর ওই ভালভের সমস্যা সমাধানে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসে। বিভিন্ন কৌশলে এটি মেরামতের পর একাধিক পরীক্ষায় তা সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ ধাপে প্রথমে চুল্লিতে খুব কম শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হবে। এ সময় চুল্লির বিভিন্ন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।
নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধীরে ধীরে চুল্লির শক্তি বাড়িয়ে শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। পুরো প্রক্রিয়ায় ৩০-৪০ দিন লাগতে পারে। এই ধাপে চুল্লির ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইন চালু করা হবে। এরপর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এজন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে আরও একটি পরিচালন অনুমোদন নিতে হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় চালানো হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেওয়া হবে। সব পরীক্ষা সন্তোষজনক হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। ডিসেম্বরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরও ধীরে ধীরে এর উৎপাদন বাড়ানো হবে। পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন শুরুর পর কিছুদিন পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলবে। এরপর শুরু হবে বাণিজ্যিক উৎপাদন। এতে ৭ থেকে ৮ মাস সময় লাগতে পারে।
রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হবে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন একটি উৎস যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতারও নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
দুই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট। যেখান থেকে প্রায় ২৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রথম ইউনিটের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও পুরোদমে চলছে। দুই ইউনিটের বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হলে লোডশেডিং কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। তেল, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুতের দামও কম পড়বে।



