ইন্টারভিউতে ভুল স্বীকার করা কি ইতিবাচক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অনেকে মনে করেন, ইন্টারভিউতে নিজের ভুলের কথা বললে সেটি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করবে। এ বিষয়ে পরামর্শ দিলেন আকিজ রিসোর্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার আহমেদ-উর রহীম যূবাইর
ভুল স্বীকার করা একটি ইতিবাচক বিষয়; তবে আপনি তা প্রকাশ করছেন, সেটিই আসল। চাকরির ইন্টারভিউতে নিয়োগকর্তারা আসলে নিখুঁত প্রার্থী খোঁজেন না। তারা এমন কাউকে খোঁজেন, যে নিজের শক্তি আর দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন এবং ভুল থেকে শিখে আরও ভালো করার মানসিকতা রাখেন। কারণ বাস্তবতা হলো, কর্মজীবনে আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় ভুল করি। কিন্তু সবাই সেই ভুলের দায়িত্ব নেয় না।
এখানেই পার্থক্যটা তৈরি হয়। যদি আপনি নিজের ভুলের জন্য অন্যকে দোষ না দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, এখানে আমার একটা ভুল হয়েছিল, আমি সেটা বুঝতে পেরেছি এবং ঠিক করার জন্য এ কাজগুলো করেছি’— তাহলে সেটি আপনার দায়িত্ববোধ এবং পরিণত মানসিকতার পরিচয় দেবে। তবে শুধু ‘আমি ভুল করেছি’ বললেই চলবে না। তিনটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলতে হবে। প্রথমত, কী ভুল হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, সেটি ঠিক করার জন্য আপনি কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আর তৃতীয়ত, ওই অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখেছেন এবং পরবর্তীকালে কীভাবে নিজেকে আরও বিকশিত করেছেন।
একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। এমন কোনো উদাহরণ দেবেন না, যা আপনার সততা, নৈতিকতা বা পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আবার এমন ভুলও বলবেন না, যা শুনে মনে হবে আপনি ওই কাজের জন্য যোগ্য নন। যেমন, ‘আমি হিসাব মেলাতে প্রায়ই ভুল করতাম’— কোনো অ্যাকাউন্ট্যান্ট যদি এ কথা বলেই থেমে যান, তাহলে তার ওপর ভরসা করা মুশকিল। তিনি বরং সঙ্গে সঙ্গেই আরও বলতে পারেন, ‘প্রথম চাকরিতে একবার ডেটা এন্ট্রিতে একটি ভুল হয়ে গিয়েছিল, যার কারণে রিপোর্ট জমা দিতে দেরি হয়েছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার ম্যানেজারকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। অতিরিক্ত সময় দিয়ে ভুলগুলো শুধরে নিয়েছিলাম এবং এরপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য একটি চেকলিস্ট ব্যবহার করা শুরু করি। এখন যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ডেটা আমি অন্তত দুবার যাচাই করি।’ তাহলে তার সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা জন্মাবে।
তাই ইন্টারভিউতে ভুল স্বীকার করা কোনো দুর্বলতা নয়। বরং সেটি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা প্রমাণ করে, আপনি সৎ, দায়িত্বশীল এবং শেখার মানসিকতাসম্পন্ন একজন মানুষ। অনেক সময় এ গুণগুলোই একজন প্রার্থীকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেয়।




