৬০ পেরোলেও ব্যায়াম

ছবি: সামিয়া পারভীন
অনেকেই মনে করেন, বয়স ৬০-৬৫ পেরিয়ে গেলে নতুন করে ব্যায়াম শুরু করে আর লাভ নেই। কিন্তু গবেষণা বলছে, এই ধারণা ভুল। নিয়মিত শরীরচর্চা শুরু করার জন্য বয়স কোনো সমস্যা নয়।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের খুব অল্প অংশই প্রয়োজনীয় শারীরিক কার্যক্রম করেন। অনেকের ধারণা, বয়সের কারণে ব্যায়াম করলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা বয়স্কদের শরীর ও মন— দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে।
নিয়মিত ব্যায়াম করলে ভারসাম্য রক্ষা, পেশির শক্তি, হাঁটার সক্ষমতা, সহনশীলতা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হাড়ের ঘনত্ব উন্নত হয়। এমনকি ৯০ বছর বয়সী নারীদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১২ সপ্তাহের শক্তিবর্ধক ব্যায়াম তাদের পায়ের পেশিকে প্রায় ২০ বছর আগের অবস্থার মতো কার্যকর করে তুলেছিল। নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমায়; স্মৃতিশক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং সামাজিক যোগাযোগও উন্নত করে। তবু অনেক প্রবীণ ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পড়ে যাওয়ার ভয় বা একা বাইরে যাওয়ার অনীহার কারণে ব্যায়াম এড়িয়ে চলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ভয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অমূলক; বরং নিষ্ক্রিয় জীবনই শরীরকে দ্রুত দুর্বল করে তোলে।
শরীরচর্চা শুরু করার আগে নিজের শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করা জরুরি। যাদের হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাঁটুর সমস্যা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়ামের ধরন ঠিক করতে পারেন। শুরুতে অল্প সময় হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করেই ধীরে ধীরে সময় ও তীব্রতা বাড়ানো উচিত। এক দিনেই বেশি করার চেষ্টা করলে শরীরে ব্যথা বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে, যা অনেককে আবার ব্যায়াম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
নিয়মিত শরীরচর্চা বয়স্কদের শরীর ও মন— দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাঁটলেই হবে না; সপ্তাহে অন্তত দুদিন পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম, ভারসাম্য উন্নত করার অনুশীলন এবং নমনীয়তা বাড়াতে স্ট্রেচিংও করা প্রয়োজন। এসব ব্যায়াম পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায় এবং দৈনন্দিন কাজ, যেমন— সিঁড়ি ভাঙা, চেয়ার থেকে ওঠা বা বাজারের ব্যাগ বহন করা সহজ করে তোলে। অনেকের কাছে একা ব্যায়াম করা একঘেয়ে মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা প্রতিবেশীর সঙ্গে হাঁটা কিংবা দলীয় শরীরচর্চায় অংশ নেওয়া উৎসাহ ধরে রাখতে সাহায্য করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যায়ামকে সাময়িক উদ্যোগ হিসেবে নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের একটি অভ্যাস হিসেবে গড়ে তোলা। নিয়মিত এই অভ্যাসই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে কর্মক্ষম, মনকে প্রফুল্ল এবং জীবনকে আরও স্বাধীন ও উপভোগ্য রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শুরুতেই কঠিন ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন একটু বেশি হাঁটা, বাগানের কাজ, ঘরের ছোটখাটো কাজ বা হালকা স্ট্রেচিং দিয়েও শুরু করা যায়। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শক্তি, ভারসাম্য ও নমনীয়তা বাড়ানোর ব্যায়ামও উপকারী। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এমন একটি শরীরচর্চা বেছে নেওয়া, যা নিয়মিত করতে ভালো লাগে। কারণ, সুস্থ ও কর্মক্ষম বার্ধক্যের চাবিকাঠি হলো নিয়মিত নড়াচড়া।
সূত্র: গার্ডিয়ান




