প্রবীণদের সহজ ব্যায়াম হাঁটা

ছবি: সামিয়া
বয়স বাড়লেই কি শরীরচর্চার ইতি? মোটেই নয়। বরং এ সময়েই শরীরকে সচল রাখা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সেজন্য জিমে যাওয়ারও দরকার নেই, কঠিন কোনো ব্যায়াম শেখারও প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুটা সময় হাঁটলেই মিলতে পারে সুস্থ ও প্রাণবন্ত জীবনের চাবিকাঠি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক ব্যায়াম করা প্রয়োজন। অর্থাৎ সপ্তাহে পাঁচ দিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটলেও এই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব। নিয়মিত এই অভ্যাস শরীর ও মন— দুইয়ের জন্যই সমান উপকারী।
হাঁটা ক্যালরি খরচ করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করে। খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমতে পারে। এ ছাড়া নিয়মিত হাঁটলে পেশি শক্তিশালী হয় এবং হাঁটুসহ বিভিন্ন জোড়া সচল ও নমনীয় থাকে, যা আর্থ্রাইটিসে ভোগা প্রবীণদের জন্যও উপকারী।
গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত হাঁটা ডিমেনশিয়া স্ট্রোক, কিছু ধরনের ক্যানসার এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে
হাঁটার সুফল শুধু শরীরেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মনকেও রাখে সতেজ। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে, মন ভালো রাখে এবং স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাঁটা ডিমেনশিয়া, স্ট্রোক, কিছু ধরনের ক্যানসার এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। এমনকি দ্রুতগতিতে হাঁটার অভ্যাস দীর্ঘায়ুতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে হাঁটা শুরু করার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো, বিশেষ করে যদি আর্থ্রাইটিস, কোমর বা হাঁটুর ব্যথা কিংবা চলাফেরায় কোনো সমস্যা থাকে। প্রয়োজনে লাঠি, ওয়াকার, আরামদায়ক জুতা বা পিঠের সাপোর্ট ব্যবহার করলে হাঁটা আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
হাঁটার অভ্যাস একদিনে গড়ে ওঠে না। তাই শুরুতেই দীর্ঘ সময় হাঁটার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন ১৫ মিনিট বা সপ্তাহে দুদিন ৩০ মিনিট হাঁটা দিয়ে শুরু করুন। এরপর ধীরে ধীরে সময় ও গতি বাড়ান। প্রতিদিন একই সময়ে হাঁটার চেষ্টা করুন। চাইলে প্রিয় গান বা অডিওবুক শুনতে শুনতে হাঁটতে পারেন কিংবা কোনো বন্ধু বা পরিবারের সদস্যকে সঙ্গী করলে অভ্যাসটি আরও আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে।
মনে রাখবেন, সুস্থ বার্ধক্যের জন্য বড় কোনো পরিবর্তন নয়, ছোট ছোট ভালো অভ্যাসই সবচেয়ে বেশি কাজে আসে। প্রতিদিনের কয়েক হাজার পদক্ষেপই হতে পারে দীর্ঘ, কর্মক্ষম ও আনন্দময় জীবনের ভিত্তি।
সূত্র: হেলথ লাইন




