ফিটনেস
হাঁটা কেন জরুরি

মডেল: নিশা চৌধুরী, সাজ: অরা বিউটি লাউঞ্জ, পোশাক: দেশাল, ছবি: মঞ্জু আলম
হাঁটা এমন এক ব্যায়াম, যার জন্য আলাদা আয়োজনের দরকার হয় না। শুধু কয়েক কদম পা ফেলাই যথেষ্ট! আর তা শরীরকে সচল, মনকে সতেজ এবং দৈনন্দিন জীবনকে গতিময় রাখতে উপকারী। লিখেছেন নাহিদ ইসলাম
হাঁটার সময় পায়ের পেশি সক্রিয় হয়, রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং দৈনন্দিন চলাফেরার সক্ষমতা বজায় থাকে। আমেরিকান কাউন্সিল অন এক্সারসাইজের (এসিই) ফিটনেস ট্রেইনার রেজাউর রহমান বাঁধন বললেন, নিয়মিত ও সঠিক গতিতে হাঁটা শরীরকে সক্রিয় রাখার অন্যতম সহজ উপায়। বিশেষ করে যারা দিনের বেশিরভাগ সময় বসে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীর সচল রাখতে সবসময় জিম, দামি যন্ত্রপাতি কিংবা কঠিন শরীরচর্চার প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাও শরীর ও মনের জন্য দারুণ উপকারী হতে পারে।
হৃৎপিণ্ডের যত্নে
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়ায়েজ মারুফ রহমান জানালেন, নিয়মিত হাঁটা হৃদযন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। দ্রুতগতিতে হাঁটলে হৃৎস্পন্দন বাড়ে এবং রক্তসঞ্চালন সক্রিয় হয়। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক বলে প্রতিদিনের রুটিনে হাঁটার জায়গা রাখা ভালো।
ওজন নিয়ন্ত্রণে
শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে পরিশ্রমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় অনেকের জন্য এটি নিয়মিত চর্চা করার মতো একটি কার্যকর উপায়। প্রতিদিন কতটুকু হাঁটবেন, তা বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও দৈনন্দিন রুটিনের ওপর নির্ভর করে।
শর্করা নিয়ন্ত্রণে
হাঁটার সময় পেশিগুলো সক্রিয়ভাবে শক্তি ব্যবহার করে। এ ধরনের নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় বসে থাকেন, তারা মাঝে অল্প সময়ের বিরতি নিয়ে হাঁটলে উপকার পাবেন।
পেশি ও হাড়ের জন্য
নিয়মিত হাঁটা পায়ের পেশিকে সক্রিয় রাখে এবং শরীরের ভারসাম্য ও চলাফেরার সক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের শক্তি ও ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব আরও বাড়ে। তাই বয়স ও নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী হাঁটার অভ্যাস শরীর ভালো রাখে।
মনের ওষুধ
নিয়মিত হাঁটা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক সুস্থতার জন্যও সহায়ক। ব্যস্ততার মধ্যেও কিছুক্ষণ হাঁটা, চারপাশ দেখা কিংবা একটু খোলা বাতাসে সময় কাটানো মনকে হালকা করে। তবে হাঁটাকে মানসিক চাপ বা বিষণ্নতা উপশমের বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এ ধরনের সমস্যায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বসে থাকার বিরতি
অফিসে বা বাড়িতে কাজের ফাঁকে উঠে কয়েক মিনিট হাঁটা শরীরকে সচল করে। ফোনে কথা বলার সময় হাঁটাচলা, লিফটের বদলে নিরাপদ হলে সিঁড়ি ব্যবহার করা কিংবা কাছের কোনো কাজে হেঁটে যাওয়া— এভাবেও দৈনন্দিন হাঁটার সময়ব্যাপ্তি বাড়ানো যায়।
ঘুমের সঙ্গে সম্পর্ক
নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ঘুমের মান উন্নয়নে উপকারী। দিনের একটি সময়ে হাঁটার অভ্যাস শরীরকে সক্রিয় এবং রাতে স্বাভাবিক ঘুমের প্রস্তুতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তবে ঘুমের ঠিক আগে খুব জোরে বা বেশিক্ষণ হাঁটার বদলে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে সময় নির্বাচন করা ভালো।
কতক্ষণ হাঁটবেন
প্রতিদিন ঠিক কত কদম হাঁটতেই হবে, তার কোনো নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ হলো প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম প্রয়োজন। এর মধ্যে দ্রুত হাঁটাও থাকতে পারে। তবে একেবারেই অভ্যাস না থাকলে শুরুতে দীর্ঘ সময় হাঁটা ঠিক নয়। অল্প সময় দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় ও গতি বাড়ানো যেতে পারে। কেননা, এখানে সময়ব্যাপ্তির চেয়ে নিয়মিত হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।
হাঁটার সময় কয়েকটি বিষয়
- আরামদায়ক জুতা পরুন
- হাঁটার জায়গাটি নিরাপদ হওয়া জরুরি
- প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন
- হাঁটার জন্য আলাদা সময় বের করতে না পারলে গাড়ি থেকে গন্তব্যের একটু দূরে নেমে পড়ুন
- সন্ধ্যায় হাঁটতে বের হওয়া শরীর ও মন ভালো রাখবে
- বুকব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অন্য কোনো গুরুতর অস্বস্তি হলে হাঁটা থামিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন



