বিউটি
মেকআপ কম : ত্বকের যত্ন বেশি

মডেল: তাহরিমা সিনথি; সাজ: রেড বাই আফরোজা পারভীন; ছবি: আশরাফুল আলম
সৌন্দর্যের উদ্দেশ্য ত্বককে নিখুঁত দেখানো নয়, বরং সুস্থ ও স্বস্তিতে রাখা। তাই প্রসাধনের স্তর কমিয়ে প্রতিদিনের যত্নে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিলেন ফারিয়া আলম
সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমেই ফাউন্ডেশন খোঁজার বদলে ত্বকের দিকে একটু নজর দিলে সৌন্দর্যচর্চার গল্পটাই বদলে যাবে। ত্বক ভালো থাকলে প্রতিদিন ভারী মেকআপের প্রয়োজনও কমে আসবে। যত্ন নেওয়া খুব জটিল কিছু নয়। নিয়ম মেনে পরিষ্কার করা, আর্দ্রতা ধরে রাখা, রোদ থেকে সুরক্ষা এবং প্রয়োজন বুঝে উপযুক্ত প্রসাধন ব্যবহার— এ কয়েকটি অভ্যাসই হতে পারে সুন্দর ত্বকের জাদু, জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহা।
সকালের যত্ন: ঘুম থেকে উঠে মুখ পরিষ্কার করার জন্য ত্বকের ধরন অনুযায়ী কোমল ক্লিনজার ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ফেনা হয় বা মুখ ধোয়ার পর ত্বক টানটান লাগে এমন ক্লিনজার এড়িয়ে চলাই ভালো। তৈলাক্ত ত্বকে হালকা ধরনের এবং শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকে তুলনামূলক কোমল ক্লিনজার উপযোগী। মুখ পরিষ্কার করার পর ত্বক একেবারে শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।
সানস্ক্রিনে ছাড় নয়: বাইরে বের হওয়ার সময় মুখ, গলা ও উন্মুক্ত ত্বকে উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এমন সানস্ক্রিন বেছে নিন, যা ত্বকের ধরন ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সঙ্গে মানানসই। বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে বা ঘামলে সানস্ক্রিন পুনরায় ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে। জানালার পাশে দীর্ঘ সময় থাকা বা দিনের বেশিরভাগ সময় বাইরে কাটানোর অভ্যাস থাকলে সানস্ক্রিন অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত।
ময়েশ্চারাইজার: তৈলাক্ত ত্বকেরও ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন। ত্বক তেলতেলে হলেই ময়েশ্চারাইজার বাদ দেওয়া ঠিক নয়। বরং হালকা, ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে হবে। শুষ্ক ত্বকে একটু ঘন ময়েশ্চারাইজার আর তৈলাক্ত ত্বকে হালকা জেল বা লোশন বেশ উপযোগী। তবে সংবেদনশীল ত্বকে সুগন্ধি বা অতিরিক্ত উপাদানযুক্ত পণ্য ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।
রাতের যত্ন: সারা দিন মুখে মেকআপ থাকলে রাতে ঘুমানোর আগে তা ভালোভাবে তুলে ফেলতে হবে। মেকআপ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস ত্বকের জন্য ভালো নয়। প্রথমে মেকআপ পরিষ্কার করে তারপর কোমল ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। মেকআপ না করলেও রাতে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। দিনের ঘাম, ধুলোবালি ও ত্বকে জমে থাকা অন্যান্য পদার্থ পরিষ্কার করে তারপর ঘুমানোই ভালো অভ্যাস।
সপ্তাহে একদিন: ত্বকের ধরন ও ব্যবহৃত উপাদানের ওপর নির্ভর করে সপ্তাহে একবার এক্সফোলিয়েশন করা ভালো। ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব বা শুষ্কতা দেখা দিলে তা বন্ধ করা উচিত। খুব শক্ত স্ক্র্যাব দিয়ে ঘষাঘষি করে ত্বক পরিষ্কার করা যাবে না। এতে ত্বকের ওপরের সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একসঙ্গে অনেক কিছু নয়: ত্বকের যত্নে অনেক পণ্য ব্যবহার করলেই ফল ভালো হবে এমন ধারণা ঠিক নয়। ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিনের মতো মৌলিক যত্ন ঠিক রাখার পর ত্বকের নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো অন্য উপাদান যোগ করা যেতে পারে। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে কানের ত্বকে বা হাতের ওপরে পরীক্ষা করে নিতে পারেন। জ্বালা বা অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে।
সঠিক খাবার: সুন্দর ত্বকের জন্য বাইরের যত্নের পাশাপাশি জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা ত্বকের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। অতিরিক্ত চিনি বা অস্বাস্থ্যকর খাবার কমিয়ে শাকসবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাছসহ বৈচিত্র্যময় খাবার খেতে হবে। তবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা পানীয় খেলেই ত্বক রাতারাতি উজ্জ্বল হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা না রাখাই ভালো।
মেকআপ হোক প্রয়োজনমতো: ত্বক ভালো থাকলে প্রতিদিন পুরো মুখে ভারী বেস দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। প্রয়োজনমতো সামান্য কনসিলার, হালকা ব্লাশ, মাসকারা আর ঠোঁটে একটু লিপস্টিক; এতেই তৈরি হতে পারে পরিপাটি সাজ।



