ফিটনেস
সকাল সকাল যোগব্যায়াম

মডেল: পলি চৌধুরী, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
দিনের শুরুতে মাত্র ২০ মিনিটের যোগব্যায়াম শত ব্যস্ততার মাঝেও শরীর ও মনে এনে দিতে পারে স্বস্তি। অনুশীলনের উপায় জানাচ্ছেন নাহিদ ইসলাম
সকালের যোগব্যায়ামে সূর্য নমস্কার হতে পারে চমৎকার শুরু। বিভিন্ন পেশি ও জয়েন্টকে সক্রিয় করার পাশাপাশি এটি শরীরকে ধীরে ধীরে দিনের কাজের জন্য প্রস্তুত করে। এর সঙ্গে কয়েক মিনিটের সচেতন শ্বাস-প্রশ্বাস যোগ হলে মনোযোগ ধরে রাখাও সহজ হয়।
বিখ্যাত আমেরিকান যোগ প্রশিক্ষক অ্যাড্রিয়েন মিশলারও দিনের শুরুতে শরীরচর্চার পাশাপাশি একটি ইতিবাচক মানসিক লক্ষ্য স্থির করার কথা বলেছেন। সকালের প্রথম কয়েকটি মুহূর্ত যদি নিজের জন্য রাখা যায়, তার রেশ থেকে যেতে পারে অনেকটা সময়।
সেরা সময়: সার্টিফায়েড ইয়োগা ট্রেইনার ও ফিটনেস কোচ কাজী মৌসুমী বললেন, সকালে ৫টা ৩০ থেকে ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে যোগব্যায়াম করা যেতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরকে কিছুটা সময় দিয়ে, প্রায় ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পর এর অনুশীলন শুরু করা বেশ আরামদায়ক। খালি পেটে যোগব্যায়াম করলে শরীর তুলনামূলক হালকা থাকে। এতে শরীরের রক্তসঞ্চালন ও নমনীয়তা বাড়ে। সারা দিনের এনার্জি ও ফোকাস ধরে রাখতেও নিয়মিত যোগব্যায়াম উপকারী। যেহেতু ভোরে ওঠা সবার পক্ষে সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেও সময় বের করে এর অনুশীলন করা সম্ভব। নির্দিষ্ট সময় নয়, বরং নিয়মিত অনুশীলনই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সকাল না হলে সন্ধ্যা: সবার সকাল যে একইরকম, তা নয়। কারও দিন শুরু হয় ক্যাম্পাসের তাড়া দিয়ে, কারও অফিসের প্রস্তুতিতে, আবার কারও সংসারের একগুচ্ছ কাজে। তাই সকালের সময়টা একেবারেই না মিললে সন্ধ্যাও হতে পারে যোগব্যায়ামের সুন্দর সময়। কাজী মৌসুমীর মতে, বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শরীর তুলনামূলকভাবে সক্রিয় থাকে। ফলে এ সময়ও যোগব্যায়ামের জন্য আদর্শ। আবার অফিস শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হালকা যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিংয়ের অভ্যাস সারা দিনের মানসিক চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে খুব ভারী ব্যায়াম না করে হালকা স্ট্রেচিং, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন ও মেডিটেশন বেছে নেওয়া ভালো। এতে শরীরকে ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করা যায়।
অভ্যাস টিকিয়ে রাখা: যোগব্যায়াম শুরু করার চেয়ে নিয়মিত চালিয়ে যাওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ। তাই শুরুতেই নিজেকে কঠিন রুটিনে বেঁধে না ফেলে শরীর ও সময়ের সঙ্গে মানিয়ে অভ্যাসটি গড়ে তোলা জরুরি।
- ভারী খাবার খাওয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা পর যোগব্যায়াম করা ভালো। সকালে খালি পেটে করলে শরীর তুলনামূলক স্বস্তিতে থাকে।
- প্রথম দিনেই শরীরকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোনো আসনে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে থেমে যাওয়া উচিত।
- সপ্তাহে একদিন এক ঘণ্টা অনুশীলনের চেয়ে প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিটের একটি সহজ রুটিন ধরে রাখা অনেকের জন্য বেশি বাস্তবসম্মত।
- যোগব্যায়ামে নতুন হলে কমসংখ্যক রাউন্ড দিয়ে শুরু করুন। শরীর অভ্যস্ত হলে ধীরে ধীরে সময় বা রাউন্ড বাড়ানো যেতে পারে।
- যোগব্যায়ামের সময় ফোনের নোটিফিকেশন, মেইল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। এই কয়েক মিনিট বরাদ্দ থাক শুধু নিজের জন্য।
- সকাল হোক বা সন্ধ্যা— প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে করলে যোগব্যায়াম ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।






