সুঁই-সুতার সম্প্রীতি

মডেল: ইক্রা তাহ্রাত প্রমা; পোশাক: কাদম্বরী এক্সক্লুসিভ বাই রজবী; সাজ: শামীম; কৃতজ্ঞতা: বিহাইভ স্টুডিও; ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
যেখানে কাপড়ের সঙ্গে কথা বলে সুতা, সুতার সঙ্গে আলাপ জমায় হাত। আর সেই হাতের ফোঁড়ে ফোঁড়ে ফিরে আসে চেনা গল্প। এই তো ফ্যাশন, যেখানে নতুনত্বের পাশে শিকড়ও নিজের মতো জায়গা করে নেয়। লিখেছেন রেজাউল আহমেদ
একটি সুঁইয়ের ডগায় কতটুকুইবা জায়গা! তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটুখানি সুতাও যেন সামান্য। অথচ সেই সামান্য দিয়েই কাপড়ের বুকে ফুটে উঠতে পারে একটি ফুল, উড়ে যেতে পারে পাখি, বাঁক নিতে পারে লতা, তৈরি হতে পারে নদী-নৌকা কিংবা মানুষের মুখ। ফোঁড়ের পর ফোঁড় বসতে বসতে একটি কাপড়ের জমিন কখন যে গল্পের ক্যানভাস হয়ে ওঠে, তা বোঝা যায় কাজটি শেষ হওয়ার পর। কথাগুলো বলছিলেন অনলাইন ফ্যাশন ব্র্যান্ড কাদম্বরী এক্সক্লুসিভ বাই রজবীর স্বত্বাধিকারী রজবী তাসনীম।
বাংলার ঘরে এমন গল্পের অভাব ছিল না। দুপুরের অবসরে কিংবা বিকালের কোমল আলোয়, উঠানের এক কোণে কিংবা বারান্দায় বসে নারীর হাতে চলত সুঁই-সুতা। পুরনো কাপড়ের স্তরে স্তরে ভেসে উঠত নতুন নকশা। ফুল, পাখি, লতা, গাছ; কখনো সংসারের চেনা দৃশ্য, কখনো স্মৃতি, কখনো মনের গোপন কথা। জসীম উদ্দীনের ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ সেই লোকজ স্মৃতিকে সাহিত্যে এমন এক মায়াময় রূপ দিয়েছে, যেখানে কাঁথা আর নিছক আচ্ছাদন বস্ত্র হয়ে নেই। তার ফোঁড়ে ফোঁড়ে জমে মিশে আছে প্রেম, অপেক্ষা, অভিমান ও জীবনের দীর্ঘশ্বাস। বাংলাদেশের নকশিকাঁথার ঐতিহ্যও তেমনই— স্মৃতি ও নকশার পাশাপাশি চলা এক দীর্ঘ উত্তরাধিকার। ইউনেসকোর নথিতে এ দেশের নকশিকাঁথাকে নারীদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী সূচিকর্ম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ফুল, লতা, বৃক্ষ, প্রাণীসহ নানা চিত্রময় মোটিফ তার পরিচিত বৈশিষ্ট্য। সেই গল্পের ক্যানভাস আজ বদলেছে। কাঁথার জমিন পেরিয়ে ফোঁড় উঠে এসেছে শাড়ি, কামিজ, লং কামিজ, শার্ট, টপ, স্কার্ট, জ্যাকেট, ব্যাগ ও নানা আধুনিক অনুষঙ্গে। কোথাও ঐতিহ্যের নকশা, কোথাও তার ইশারামাত্র। ফোঁড়টি পুরনো; কিন্তু তার ব্যবহার একবারেই আনকোরা।
সুতার গল্প
হাতের সূচিকাজের সৌন্দর্য নকশার চেয়ে অনেক সময় বেশি ধরা পড়ে তার অসম্পূর্ণতায়। কেননা এ কাজে থাকে সরাসরি মানুষের হাতের স্বাক্ষর। কোথাও সুতার টান একটু আলাদা, কোথাও ফোঁড়ের দূরত্বে সামান্য হেরফের। সেই ছোট্ট অমিলই কাজটিকে করে তোলে অনন্য। দূর থেকে একটি ফুলের কাছে গেলে যেমন দেখা মেলে সেটি আসলে অসংখ্য ছোট ফোঁড়ের সমষ্টি; তেমনি পাতার শিরা, পাপড়ির ভাঁজ, সুতার ওঠানামা— সব মিলিয়ে সূচিকাজে কাপড়ের ওপর তৈরি হয় চিত্রকল্প। এ কারণেই একরঙা পোশাক সূচিকাজের জন্য এত সুন্দর ক্যানভাস। বিশেষ করে সাদা কাপড়ে রঙিন সুতা কিংবা সাদা কাপড়ে সাদা সুতা— দুই ধরনের কাজেই থাকে আলাদা মায়া। নকশা তখন পোশাকের ওপর বসানো কোনো অলংকার নয়, পোশাকেরই অংশ হয়ে ওঠে।
নকশার মায়া
রজবী তাসনীমের মতে, সূচিকাজ মানেই পুরো পোশাকের জমিন জুড়ে কাজ করা নয়; বরং কোথায় ফোঁড় থাকবে আর কোথায় কাপড় তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখবে— এ ভাবনাটুকুও নকশার অংশ। লং কামিজের মতো দীর্ঘ ও সরল গড়নে এ খালি জায়গার ব্যবহার বিশেষ সুন্দর। কলারের চারপাশে ফুল থাকলে মুখের কাছে তৈরি হয় একটি মনোরম ফ্রেম। হাতার কাছে কয়েকটি মোটিফ থাকলে হাতের নড়াচড়ায় নকশাও বদলে যায়। নিচের দিকে ছড়িয়ে থাকা ফুল বা লতা পোশাকের দৈর্ঘ্যকে করে তোলে আরও ছন্দময়। নকশা আর খালি জমিনের এ দূরত্ব পরিধেয়কে জমকালো নয়; বরং হাতে করা কাজটির সূক্ষ্মতা আরও স্পষ্ট করে তোলে। এ সময়ের পোশাকে তাই কোনো বড় নকশার বদলে কয়েকটি ছোট মোটিফ কিংবা নির্দিষ্ট একটি অংশে সূচিকাজের ব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে।
বাংলার সূচিকাজে ফুল কোনো নতুন অতিথি নয়। গোলাপ, পদ্ম, জবা, শাপলা কিংবা লতা— এ মোটিফগুলো বহুদিন ধরে ঘুরেফিরে এসেছে। এখন এগুলোকেই দেখা যাচ্ছে নতুন ভঙ্গিতে। কোনো ফুল বড় হয়ে উঠছে প্রায় বিমূর্ত আকারে, কোথাও তার পুরো অবয়বের বদলে রয়েছে বরং কয়েকটি রেখা। কোথাও পাতার নকশা বাস্তবের কাছাকাছি, কোথাওবা জ্যামিতিক। রঙেও এসেছে বদল। উজ্জ্বল লাল-হলুদের পাশাপাশি একই রঙের নানা শেড; কোথাও আবার সম্পূর্ণ একরঙা কাজ। কোনো কোনো পোশাকের গায়ে একটি পদ্মই যথেষ্ট হতে পারে কিংবা একটি পাখি, কয়েকটি পাতা কিংবা একটি অসম লতা। এভাবে চেনা কোনো মোটিফকে নকশাকার নিজের মতো ব্যবহার করলেই পোশাক পেয়ে যায় নিজস্ব আবহ।
কাঁথার জমিন পেরিয়ে ফেঁাড় উঠে এসেছে শাড়ি, কামিজ, লং কামিজ, শার্ট, টপ, স্কার্ট, জ্যাকেট, ব্যাগ ও নানা আধুনিক অনুষঙ্গে। কোথাও ঐতিহ্যের নকশা, কোথাও তার ইশারামাত্র
ফোঁড়ের নিজস্ব ছন্দ
একটি সূচিকাজের নকশা কেমন দেখাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে ফোঁড়ের ওপর। রানিং ফোঁড়ের সরল চলন, সাটিন ফোঁড়ের ঘন বুনন, চেইন ফোঁড়ের লতানো রেখা, ক্রস ফোঁড়ের জ্যামিতিক ছন্দ কিংবা ফ্রেঞ্চ নটের ছোট ছোট উঁচু বিন্দু— প্রতিটি কৌশলের নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। এখন এ ফোঁড়গুলোকে আলাদা করে দেখানোও ফ্যাশনের অংশ। শার্টের কলারে দৃশ্যমান সেলাই, পকেটের ওপর ছোট্ট মোটিফ, কাফে কয়েকটি ফোঁড় কিংবা জ্যাকেটের পিঠ জুড়ে বড় নকশার কাজ নিজেকে লুকিয়ে না রেখে যেন সগৌরবে উপস্থিতি জানান দেয়।
কাঁথা থেকে কতুরে
সুঁই-সুতায় করা কাজের এ সূক্ষ্মতা এখন শুধু লোকজ পোশাকের গল্প নয়। আন্তর্জাতিক কতুরেও হাতে করা কারুকাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের প্যারিস কতুরের বিভিন্ন সংগ্রহে সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি, স্তরযুক্ত অলংকরণ ও জটিল হাতের কাজ দেখা গেছে। শ্যানেলের সংগ্রহে এমন সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি ছিল, যার সৌন্দর্য দূর থেকে যতটা বোঝা যায়, কাছে গেলে তার স্তর ও কারিগরি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভোগ ম্যাগাজিনের বিশ্লেষণেও এ ধরনের কাজের সূক্ষ্মতা কাছ থেকে দেখার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ভারতীয় নকশাকার রাহুল মিশ্রর ২০২৬ সালের কতুর সংগ্রহে আকাশ, বায়ু, পানি, আগুন ও মাটি— এ পাঁচ মৌলিক উপাদান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে স্থানীয় কারিগরদের হাতে তৈরি হয়েছে পোশাকের কারুকাজ। মনীশ মালহোত্রার প্যারিস কতুর সংগ্রহেও জরি, জরদৌজি, রেশম, সিকুইন ও হাতে করা সূচিকাজের সঙ্গে এই উপমহাদেশের কারুশিল্পকে সমকালীন গড়নে দেখা গেছে। ফলে হাতে করা কাজ এখন ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে বসে নেই। নতুন পোশাকের গড়ন, উপাদান ও নান্দনিকতার সঙ্গে তার কথোপকথন চলছে বিশ্ব জুড়ে।
বিশ্বমঞ্চে সুচের কারিকুরি
এ গল্পের নেপথ্যে আছে দক্ষিণ এশিয়ার অসংখ্য কারিগরের হাত। মুম্বাইয়ের চাণক্য ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিলাসবহুল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের জন্য জটিল হাতে করা এমব্রয়ডারির কাজ করছে। ক্রিশ্চিয়ান ডিওর, প্রাডা ও ফেন্ডির মতো ব্র্যান্ডের পোশাকেও তাদের কারিগরদের কাজ ব্যবহৃত হয়েছে। জাপানি টেক্সটাইল শিল্পী রেইকো সুদোর কাজ আবার দেখায় অন্য এক সম্ভাবনা— ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সঙ্গে আধুনিক উপাদানের মেলবন্ধন। তার স্টুডিও নুনো ধাতু, স্প্যানডেক্স ও জীবাণুহীন প্লাস্টিকের মতো উপাদানকে ঐতিহ্যবাহী কারিগরি পদ্ধতির সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করেছে। অর্থাৎ সুতা এখন শুধু কাপড় সাজাচ্ছে না; নতুন নতুন উপাদান, গঠন ও প্রযুক্তির সঙ্গেও তার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে সূচিকাজ শুধু সমতল কাপড়ে আঁকা ফুলেই থেমে নেই; সুতার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পুঁতি, ধাতব সুতা, অ্যাপলিক, মুক্তা ও নানা স্তর। কোথাও পাপড়ি কাপড়ের ওপর থেকে সামান্য উঠে এসেছে, কোথাও নকশা তৈরি করছে আলো-ছায়ার গভীরতা। সিরিয়ান নকশাকার রামি আল আলির ২০২৬ সালের কতুর সংগ্রহে ধাতব এমব্রয়ডারি, অ্যারাবেস্ক মোটিফ ও মুক্তার কাজ আধুনিক পোশাকের গড়নের সঙ্গে মিলেছে। কোথাও নকশা উঁচু হয়ে উঠেছে, কোথাও সূক্ষ্ম ধাতব সেলাইয়ের সঙ্গে স্বচ্ছ কাপড় তৈরি করেছে অন্যরকম আবহ। ফোঁড় তখন শুধু রেখা নয়; কখনো হয়ে উঠছে পোশাকের শরীরও!
পুরনো নকশা, নতুন পোশাক
নকশিকাঁথার ফুল, পাখি, লতা, পাতা কিংবা জ্যামিতিক মোটিফেরও তাই নতুন জীবন হয়েছে। কোনো শার্টের বুক জুড়ে কাঁথার নকশা, জ্যাকেটের পিঠে বড় একটি ফুল, কুর্তির পাড়ে সূক্ষ্ম ফোঁড় কিংবা সমন্বিত পোশাকে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট মোটিফ— ঐতিহ্য ঢুকে পড়ছে প্রতিদিনের পোশাকে। শুধু তাই নয়; এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে ব্যাগ, জুতা, স্কার্ফ আর ছোট অনুষঙ্গেও। ফলে সূচিকাজ এখন আর বিশেষ দিনের সাজের মধ্যে আটকে নেই; দৈনন্দিন পোশাকেও তার জায়গা তৈরি হয়েছে।
দূর দেশে আপন নকশা
বিশ্ব ফ্যাশনের নানা প্রান্তেও হাতের কাজ ফিরে আসছে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির স্মৃতি নিয়ে। ব্রিটিশ নকশাকার প্রিয়া আহলুওয়ালিয়ার কাজে ভারত ও নাইজেরিয়ার পারিবারিক-সাংস্কৃতিক স্মৃতি এবং পুরনো ঘরের উপকরণ নতুন পোশাকের ভাষা পেয়েছে। ইন্দোনেশিয়ান নকশাকার টোটনের কাজে বাটিক, বয়ন ও হাতে করা সূচিকাজ মিশেছে আধুনিক গড়ন ও পরীক্ষামূলক নির্মাণের সঙ্গে। ভিন্ন দেশ, ভিন্ন মোটিফ, ভিন্ন কারিগরি; তবু কোথাও যেন মিল আছে— নিজের মাটির কাজকে সঙ্গে নিয়েই আধুনিক হয়ে ওঠা।
দেশি পোশাকে সুতার কাজ
বাংলাদেশের ফ্যাশনেও এ পরিবর্তন স্পষ্ট। নকশিকাঁথার রানিং ফোঁড়, কাঁথা ফোঁড়, চেইন ফোঁড়, ফুল-লতা ও লোকজ মোটিফের পাশাপাশি এখন শাড়ি, কুর্তি, কামিজ, পাঞ্জাবি, জ্যাকেট ও আধুনিক পোশাকে নানা ধরনের হাতের কাজ দেখা যায়। কাদম্বরী এক্সক্লুসিভ বাই রজবীর সব পোশাকেই রয়েছে সুঁই-সুতার নকশা। আড়ংয়ের পোশাকে নকশিকাঁথা ও দেশীয় কারুশিল্পের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। নকশিকাঁথা, জামদানি ও মসলিনের ঐতিহ্যকে তারা বিভিন্ন সময় নতুন নকশায় ফিরিয়ে এনেছে। কে ক্র্যাফটের কাজেও দেশীয় বুনন, নকশা ও হাতের কাজের সঙ্গে সমকালীন পোশাকের মেলবন্ধন দেখা যায়। অরণ্যর নকশায় নকশিকাঁথার ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক রঙ ও হাতে করা কারুকাজের উপস্থিতি রয়েছে। এ ছাড়া খুঁত, দেশালসহ দেশি বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ডের পোশাকেও সুঁই-সুতার মনকাড়া নকশা দেখতে পাওয়া যাবে। শার্ট, টপ, কুর্তি কিংবা জ্যাকেটের ছোট্ট একটি অংশে নকশা রেখে দেওয়া হচ্ছে; কোথাও আবার ব্যাগ বা অনুষঙ্গে উঠে আসছে কাঁথার মোটিফ। ফলে ফোঁড়ের জগৎ আর ঐতিহ্যবাহী পোশাকের মধ্যে আটকে নেই; শহরের রাস্তায়, অফিসে, আড্ডায়, উৎসবের সাজে নিজের মতো করে সে জায়গা করে নিচ্ছে।
জসীম উদ্দীনের সাজুর কাঁথায় যেমন জীবন জমে ছিল ফোঁড়ে ফোঁড়ে, আজকের পোশাকেও রেখে দেওয়া আছে তেমন কোনো ব্যক্তিগত গল্প। পার্থক্য শুধু ক্যানভাসের। কাঁথা পেরিয়ে সেই ফোঁড় এসেছে লং কামিজে, শার্টে, স্কার্টে, জ্যাকেটে। ঘরের মায়া পেরিয়ে এসেছে শহরের পোশাকে। আর প্রতিটি নতুন ফোঁড় যেন বলে দিচ্ছে ফ্যাশন যতই সামনে এগোক, তার সুতাটি কোথাও না কোথাও নিজের মাটির সঙ্গেই বাঁধা।






