নারী এমপি বিব্রতকর অবস্থায় আটকের দাবিটি সত্য নয়

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে—জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য (এমপি) সানজিদা ইসলাম তুলি বিব্রতকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন। ভিডিওটি শেয়ার করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে নানান নেতিবাচক মন্তব্য ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। আলোচিত ভিডিওটি কোনো সংসদ সদস্যের নয়, বরং এটি সাভারের একটি পোশাক কারখানার (গার্মেন্টস) দুজন কর্মী অনৈতিক ও বিব্রতকর অবস্থায় ধরা পড়ার পুরোনো ঘটনা।
আসল ভিডিওর উৎস ও ঘটনার প্রকৃত বিবরণ
ভিডিওটির সত্যতা অনুসন্ধানে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ করা হলে, গত ২ মে ‘Falconfeedltd’ নামক একটি ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে প্রচারিত আলোচিত ভিডিওটির একটি বর্ধিত সংস্করণ খুঁজে পাওয়া যায়। ওই বর্ধিত ভিডিওটিতে দৃশ্যমান নারীর মুখমণ্ডল স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যার সাথে এমপি সানজিদা ইসলাম তুলির চেহারার কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটির আসল বিবরণ থেকে জানা যায়, ঘটনাটি মূলত সাভারের আশুলিয়া নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থিত ‘অনন্ত গার্মেন্টস’-এর ভেতরে ঘটেছিল। কারখানার আইটি ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা এবং স্টাফ ওয়েলফেয়ারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নারী সহকর্মীকে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়রা হাতে-নাতে আটক করেছিলেন। সেই ঘটনার ভিডিওটিকেই বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে।
ফেস রিকগনিশন পরীক্ষা ও আগের ফ্যাক্ট-চেক
প্রযুক্তিগতভাবে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত টুল ‘Toolpie’-এর ‘Face Comparison’ (মুখমণ্ডল তুলনা) ফিচার ব্যবহার করা হয়। সানজিদা ইসলাম তুলির অফিশিয়াল ছবির সাথে ভিডিওতে দৃশ্যমান নারীর ছবি তুলনা করে দেখা যায়, দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি এবং তাদের চেহারায় কোনো মিল নেই।
এছাড়া অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিলেও হুবহু একই ভিডিও শেয়ার করে এমপি সানজিদা ইসলাম তুলির নামে ভুয়া দাবিটি ছড়ানো হয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশি সত্যতা যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফ্যাক্টওয়াচ’ (FactWatch) বিস্তারিত অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
সামগ্রিক তথ্য ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ‘সংরক্ষিত আসনের এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি বিব্রতকর অবস্থায় আটক হয়েছেন’ দাবিটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট। সাভারের আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার দুই কর্মীর অনৈতিক অবস্থায় ধরা পড়ার পুরোনো ভিডিওকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।






