সাদিক কায়েম-রাফিয়ার ভিডিও বিকৃত করে অপপ্রচার

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের আপত্তিকর দৃশ্য দাবিতে একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলোকে কেন্দ্র করে নেটিজেনদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া। ছবিগুলো সাদিক কায়েমের আসল কোনো মুহূর্তের ছবি নয়; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সহায়তায় প্রযুক্তিগতভাবে সম্পাদিত ও তৈরি করা ডিপফেক ছবি।
অনুসন্ধানে মূল ভিডিও ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানের তথ্য
ছবিগুলোর আসল সত্যতা জানতে অনুসন্ধানে ‘Newsinbd’ নামের একটি টিকটক অ্যাকাউন্টে গত ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবরে প্রকাশিত ‘রাফিয়া ও সাদিকের হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্ত’ ক্যাপশনের একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির দৃশ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এতে থাকা নারী (রাফিয়া) ও সাদিক কায়েমের পরনের পোশাক, ব্যাগের ধরণ, হিজাব এবং শারীরিক গড়নের সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো আপত্তিকর ছবিগুলোর গভীর মিল রয়েছে।
পরবর্তী অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও রাফিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি (TSC)-তে আয়োজিত ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস’ সম্পর্কিত একটি কর্মসূচিতে একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। মূল ভিডিওটি সেই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানেরই দৃশ্য। তবে কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যম, গণমাধ্যম বা অফিশিয়াল সূত্রে প্রচারিত ছবিগুলোর মতো কোনো আপত্তিকর দৃশ্যের অস্তিত্ব বা সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ছবি বিশ্লেষণ ও এআই বিকৃতি
প্রযুক্তির সহায়তায় প্রচারিত ছবিগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সাদিক কায়েম ও রাফিয়া—উভয়ের চেহারায় অস্বাভাবিক অস্পষ্টতা, অসামঞ্জস্যতা এবং বিকৃতি খুঁজে পাওয়া গেছে। ডিজিটালি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সম্পাদিত বা জেনারেট করা ছবির ক্ষেত্রে সাধারণত চেহারার যে ধরনের কারিগরি ত্রুটি ও গঠনগত বিকৃতি দেখা যায়, ছবিগুলোতে ঠিক সেই একই বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট। মূলত মূল অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও থেকে তাদের রূপরেখা নিয়ে এআইয়ের মাধ্যমে আপত্তিকর অবয়ব তৈরি করা হয়েছে।
সামগ্রিক বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের আপত্তিকর দৃশ্য দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের সাধারণ ভিডিও চিত্রকে ভিত্তি করে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে জালিয়াতি করে ছবিগুলো তৈরি করা হয়েছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।






