ছাত্রলীগ নেত্রী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ‘মব’-এর শিকারের দাবির সত্যতা কী

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীতে এক ছাত্রলীগ নেত্রী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ‘মব’-এর শিকার হয়েছেন এবং তাকে শ্লীলতাহানি করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে-এমন এক ভয়ংকর দাবিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও আগামীর সময়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবির সাথে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়, বরং প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিহার রাজ্যের।
বিভ্রান্তিকর প্রচারণা
গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক ও এক্স প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হয় যে, এটি ঢাকার কোনো একটি এলাকার চিত্র। ভিডিওর বর্ণনায় সুনির্দিষ্টভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর নাম জড়িয়ে একে ‘শ্লীলতাহানি’ ও ‘অপহরণের’ ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়। তবে দেশের কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে এমন কোনো ঘটনার সত্যতা মেলেনি।
ভিডিওর প্রকৃত উৎস
অনুসন্ধানে দেখা যায়, একই ভিডিও চিত্র Suraj Kumar Bauddh নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনাটি ভারতের বিহার রাজ্যের নালন্দা জেলার। গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় এক নারী বাজার করে বাড়ি ফেরার পথে একদল বখাটের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হন। অভিযুক্তরা সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিল।
প্রেক্ষাপট
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর নালন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। নালন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এটি ভারতের বিহারের অভ্যন্তরীণ একটি অপরাধমূলক ঘটনা।
সামগ্রিক তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এটি প্রমাণিত যে, ভারতের বিহারে ঘটা একটি নারী নির্যাতনের ভিডিওকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার রূপ দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। ‘ছাত্রলীগ নেত্রীকে ছাত্রদলের মব জাস্টিস’-দাবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির একটি অপচেষ্টা মাত্র।







