কাঁদতে কাঁদতেই শুরু, তারপরই সুপারস্টার ধানুশ

ধানুশ
তামিল সিনেমা থেকে শুরু করে বলিউড, এমনকি হলিউডের ‘দ্য গ্রে ম্যান’ ছবিতেও নিজের অভিনয়ের ডঙ্কা বাজিয়েছেন সাউথ সুপারস্টার ধানুশ। আজ তিনি একাধারে অভিনেতা, পরিচালক ও সফল প্রযোজক।
কিন্তু শুনলে অবাক হবেন, বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি ভক্তের মনে রাজত্ব করা এই ধানুশ নাকি কখনোই অভিনেতা হতেই চাননি! এমনকি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে শুটিংয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে বাচ্চাদের মতো কান্নাকাটি করতেন এবং বাবাকে বলতেন, ‘আমাকে এই সিনেমার জগৎ থেকে মুক্তি দাও, আমি চলে যাব!’
সম্প্রতি ধানুশের বাবা তথা সাউথ সিনেমার গুণী পরিচালক কস্তুরী রাজা এক অনুষ্ঠানে মেগাস্টার ধানুশের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এই অজানা ও মজার গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন।
নিজের নাতি পাভিশের নতুন সিনেমা ‘লাভ ওহ লাভ’-এর এক প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে এসে কস্তুরী রাজা তার পরিবারের সিনেমা-যোগসূত্র নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি জানালেন, তার পরিবারে বর্তমানে তিনজন নামকরা পরিচালক রয়েছেন, কিন্তু একমাত্র ধানুশের বড় ভাই সেলভারাঘবন ছাড়া আর কেউ স্বেচ্ছায় এই লাইনে আসেননি।
ধানুশের প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে বাবা কস্তুরী রাজা বলেছেন, “ধানুশ সিনেমা জগৎটাকে একদমই পছন্দ করত না। প্রথম ৫-৬টা সিনেমা শেষ করার আগ পর্যন্ত সিনেমার প্রতি ওর কোনো আগ্রহই ছিল না। আমি যখন ওকে নিয়ে ওর প্রথম ছবি ‘থুল্লুভাধো ইলামাই’ তৈরি করছিলাম, ও প্রায়ই সেটে এসে কান্নাকাটি করত। শট নেওয়ার ঠিক আগে কেঁদে কেঁদে বলত— ‘বাবা, দয়া করে আমাকে ছেড়ে দাও, আমি চলে যাব, আমি অভিনয় করব না!’”
কস্তুরী রাজা আরও জানালেন, তিনি নিজে সিনেমা জগতের মানুষ হলেও চাননি তার সন্তানরা এই অনিশ্চিত পেশায় আসুক। সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে বড় মানুষ করার জেদ ছিল তার। কস্তুরী রাজা এতটাই কঠোর ছিলেন, ধানুশ বা তার ভাইকে কখনো কোনো সিনেমার প্রিভিউ শো বা শুটিং দেখাতেও নিয়ে যেতেন না।
ধানুশের বড় ভাই সেলভারাঘবন ছিলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গোল্ড মেডেলিস্ট। সে যখন হুট করে পড়াশোনা ছেড়ে সিনেমায় আসার বায়না ধরে, তখন কস্তুরী রাজা তাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে আগে ডিগ্রি শেষ করান এবং পরে ধানুশ ও সেলভারাঘবন দুজনেই সিনেমার দুনিয়ায় পা রাখেন।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ধানুশকে ছাড়া তামিল সিনেমা কল্পনাই করা যায় না। যে ছেলেটি একসময় সেটে এসে অভিনয়ের ভয়ে কাঁদত, আজ তার ঝুলিতে রয়েছে একাধিক ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার!
ধানুশের বাবার মুখ থেকে তার এই রুপালি পর্দায় আসার পেছনের সংগ্রামের গল্প শুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে দারুণ চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ধানুশ হয়তো সিনেমাকে চাননি; কিন্তু নিয়তিই ধানুশকে টেনে এনেছে তার আসল জায়গায়!





