উপস্থাপনা আমার পেশা, কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই : সূচনা

সাদিয়া রোশনি সূচনা
উপস্থাপিকা সাদিয়া রোশনি সূচনা সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। লিখেছিলেন, ‘একদম রিহার্সেল ও স্ক্রিপ্ট ছাড়া উপস্থাপনা করতে হলো, তাও আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে! সুন্দরভাবে যে শেষ হবে, এটা কল্পনারও বাইরে ছিল। আজকের আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে এবং উপস্থাপক হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানাতে পারাটা নিঃসন্দেহে দারুণ একটি অভিজ্ঞতা।’
গত ৪ জুলাই রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ উপস্থাপনার পর সূচনাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। অনেকেই অভিযোগ আনেন, সূচনা আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে আগামীর সময়ের সঙ্গে আলাপকালে সূচনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা পেশাদার উপস্থাপক। কোনো দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই।’
আওয়ামী লীগ সিআরআই নামে একটি অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে একটি থিংকট্যাংক, প্রোপাগান্ডা ট্যাংক বা দলের বিভিন্ন প্রচারণা চালাত। এর পেছনে শত শত কোটি টাকা খরচ করা হতো
ফাতিমা তুজ জোহরা নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আর জোবায়দা রহমানের এই অদ্ভুত সুন্দর একটি ছবিতে খালেদা জিয়ার ভ্রু নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে পোস্ট শেয়ার করেছে যে মেয়েটা, তার নাম সাদিয়া রোশনি সূচনা। আওয়ামী লীগ সিআরআই নামে একটি অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে একটি থিংকট্যাংক, প্রোপাগান্ডা ট্যাংক বা দলের বিভিন্ন প্রচারণা চালাত। এর পেছনে শত শত কোটি টাকা খরচ করা হতো। রেদওয়ান সিদ্দিকী ববি ছিলেন এর প্রধান। এদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল সাদিয়া রোশনি সূচনা। তাদের অনেক অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেছেন, পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতার সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ছিল।’
মঙ্গলবার বিকেলে আগামীর সময়ের সঙ্গে আলাপকালে সূচনা বলেছেন, ‘আমি ‘জয় বাংলা কনসার্ট’ উপস্থাপনা করেছি, ‘লেটস টক’ করেছি। দেখেন, একটা কনসার্টে আমি যে একাই ছিলাম, তা নয়। সেখানে অংশ নিয়েছিল আটটি ব্যান্ড, ছিলেন একাধিক উপস্থাপক। যদি কোনো ব্যান্ডকে নিষিদ্ধ করা না হয়, তাহলে আমাকে কেন করা হবে?’
সূচনার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে সয়লাব সামাজিক মাধ্যম। ফেসবুকে একাধিক ছবি পোস্ট করা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন আয়োজন উপস্থাপনা করছেন তিনি। এসব ছবি শেয়ার করেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, কেন এই উপস্থাপিকা প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান উপস্থাপনার সুযোগ পেলেন।
উপস্থাপনা আমার পেশা, সেটাই আমি করেছি। আমি সব ধরনের উপস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। আমার কোনো দল নেই। আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই
উপস্থাপনাই তাঁর পেশা—এমনটাই উল্লেখ করে সূচনা বললেন, ‘আমি সিআরআইয়ের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি। তার মানেই এই নয় যে আমি তাদের সঙ্গে যুক্ত। উপস্থাপনা আমার পেশা, সেটাই আমি করেছি। আমি সব ধরনের উপস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। আমার কোনো দল নেই। আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। আমার পরিবারের কেউই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়।’
সামাজিক মাধ্যমে মব তৈরি করা হচ্ছে দাবি করে এই উপস্থাপিকা বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে নানা কার্ড বানিয়ে পোস্ট করা হচ্ছে, যার ৯০ শতাংশই ভুয়া। সেখানে ১০ শতাংশ হয়তো সত্য। ভ্রু নিয়ে মন্তব্যের একটি স্টোরি ও কমেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। ওই অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল ছবি দেখলেই বোঝা যাবে, সেটি ভুয়া। মব তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিহিংসা ছড়ানো হচ্ছে।’
সূচনা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে উপস্থাপনা করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরে আসা তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তার সম্মানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও নৈশভোজ সঞ্চালনার দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
এসবি থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল, পূর্বের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি কাজ করেছি কি না। আমি বলেছি, না করিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুষ্ঠান উপস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে সূচনা বলেন, ‘তারা আমার সবকিছুই যাচাই করেছে। আগে আমি যেসব কাজ করেছি, সেগুলো আমার ফেসবুকেই রয়েছে। এসবি থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল, পূর্বের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি কাজ করেছি কি না। আমি বলেছি, না করিনি। পরে তারা আমার সম্পর্কে আরও যাচাই-বাছাই করে, সব ঠিক করার পরই দায়িত্ব দিয়েছে।’





