গানের কথায় যিনি বুনেছিলেন বিজয়ের স্বপ্ন

নজরুল ইসলাম বাবু
সময়টা ১৯৭১ সাল। চারদিকে বারুদের গন্ধ আর বুলেটের শিষ। দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করতে কাঁধে বন্দুক তুলে নিয়েছিলেন এক তরুণ। যুদ্ধ শেষে স্বাধীন দেশে ফিরে সেই তরুণই আবার হাতে তুলে নিলেন কলম। তবে এবার তার অস্ত্র হলো শব্দ আর সুর।
বন্দুকের গর্জন থামলেও তার কলম থেকে ঝরতে লাগল একটার পর একটা কালজয়ী সৃষ্টি, যা দোলা দিল কোটি বাঙালির হৃদয়ে। স্বাধীন বাংলা ও আধুনিক বাংলা গানের জগতে অনন্য এক স্রষ্টা নজরুল ইসলাম বাবু। আজ তার ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী।
জামালপুরের মাদারগঞ্জের এক সুরপিয়াসী পরিবারে যার জন্ম। বাবার গানের প্রতি ভালোবাসা ছোটবেলাতেই গভীর প্রভাব ফেলেছিল তার ওপর। পড়ালেখা শেষ করে সত্তর দশকের শুরুতে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত হন তিনি। এরপর থেকেই শুরু হয় সুরের এক মায়াবী সফর।
‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ কিংবা ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’ এই গানগুলো শোনেননি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। একসময় দেশের টেলিভিশন খুললেই ভেসে উঠত তার গানের সুর। তার লেখা দেশাত্মবোধক গানগুলো এখনো প্রতিটি জাতীয় দিবসে আমাদের জাতীয় চেতনাকে নতুন করে জাগ্রত করে।
আয়রন ম্যান, থর নাকি ক্যাপ্টেন আমেরিকা—মার্ভেলে সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি কার?
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুধু কি দেশাত্মবোধক গান? দিলরুবা খানের কণ্ঠে ‘দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা’, ‘কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো’ কিংবা ‘কাঠ পুড়লে কয়লা হয়’-এর মতো অসংখ্য তুমুল জনপ্রিয় রোমান্টিক ও আধুনিক গান সৃষ্টি হয়েছে তার নিখুঁত ছন্দে।
বাংলা চলচ্চিত্রের রুপালি জগতেও তিনি ছড়িয়েছেন সুরের জাদু। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সুবীর নন্দী, এন্ড্রু কিশোর থেকে শুরু করে ওপার বাংলার কুমার শানু, আশা ভোঁসলে ও হৈমন্তী শুক্লার মতো কিংবদন্তি শিল্পীরা কণ্ঠে তুলেছেন তার লেখা গান।
‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ চলচ্চিত্রে অসাধারণ গীত রচনার জন্য তিনি লাভ করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পরে সংগীত জগতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে তাকে মরণোত্তর ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়।
১৯৯০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সুরের ভুবন নীরব করে মাত্র ৪১ বছর বয়সে তিনি পাড়ি জমান না-ফেরার দেশে। তিনি চলে গেছেন ঠিকই, কিন্তু রেখে গেছেন তার গানের অবিনাশী সুর।
প্রতিটি বিজয়ে, প্রতিটি ভালোবাসায় আর মেঠো পথের বাঁকে বাঁকে নজরুল ইসলাম বাবু বেঁচে আছেন, আর বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।




