আয়রন ম্যান, থর নাকি ক্যাপ্টেন আমেরিকা—মার্ভেলে সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি কার?

মার্ভেলের জনপ্রিয় সুপারহিরো আয়রন ম্যান, থর এবং ক্যাপ্টেন আমেরিকা
‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-র প্রেক্ষাপট তৈরি করতে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে পুনরায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম: এনকোর’। বিভিন্ন ভাষায় মুক্তি পেতে যাওয়া এই বিশেষ সংস্করণে যুক্ত করা হয়েছে কিছু নতুন ফুটেজ। মার্ভেলের অত্যন্ত প্রতীক্ষিত এই মুক্তির আগে, বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মনে ফিরে আসছে প্রিয় চরিত্রগুলোর পুরোনো স্মৃতি।
রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের আয়রন ম্যান থেকে শুরু করে থ্যানোসের বিরুদ্ধে থরের মহাকাব্যিক লড়াই, মার্ভেলপ্রেমীরা সবই নতুন করে ঝালাই করে নিচ্ছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, মার্ভেলের সিনেমায় সবচেয়ে বেশিবার পর্দায় আবির্ভূত হয়েছেন কোন তারকা? রবার্ট ডাউনি জুনিয়র ও ক্রিস ইভান্স শীর্ষ তালিকায় থাকলেও সবাইকে চমকে দিয়ে তালিকার শীর্ষে যিনি রয়েছেন, তিনি মূল কোনো ‘অ্যাভেঞ্জার’ নন।
চলুন দেখে নেওয়া যাক মার্ভেল চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি থাকা তারকাদের তালিকা:
জেরেমি রেনার
২০১১ সালের ‘থর’ সিনেমায় ক্লিন্ট বার্টন ওরফে ‘হকআই’ চরিত্রে অভিষেকের পর জেরেমি রেনার মার্ভেলের মূল ছয় অ্যাভেঞ্জারের একজন হয়ে ওঠেন। তিনি ‘দ্য অ্যাভেঞ্জার্স’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন’-সহ মোট ৬টি মার্ভেল চলচ্চিত্রে অংশ নিয়েছেন। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে—থর (২০১১), দ্য অ্যাভেঞ্জার্স (২০১২), অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন (২০১৫), ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার (২০১৬), অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম (২০১৯) এবং ‘ব্ল্যাক উইডো’ (২০২১)-র ভয়েস ক্যামিও। একক ‘হকআই’ সিরিজ এই গণনার বাইরে।
টম হিডেলস্টন
গড অব মিসচিফ বা ‘লোকি’ চরিত্রে টম হিডেলস্টনের ডেবিউ ঘটেছিল ২০১১ সালের ‘থর’ চলচ্চিত্রে। এরপর খলনায়ক ও পরবর্তীতে অ্যান্টি-হিরো হিসেবে মোট ৭টি সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। এর মধ্যে রয়েছে—থর (২০১১), দ্য অ্যাভেঞ্জার্স (২০১২), থর: দ্য ডার্ক ওয়ার্ল্ড (২০১৩), থর: রাগনারক (২০১৭), অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার (২০১৮), অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম (২০১৯) এবং অ্যান্ট-ম্যান অ্যান্ড দ্য ওয়াস্প: কোয়ান্টাম্যানিয়া (২০২৩)। তার একক সিরিজ ‘লোকি’-র দুটি সিজন এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
মার্ক রাফালো
২০১২ সালের ‘দ্য অ্যাভেঞ্জার্স’ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ (২০২৬) পর্যন্ত মোট ৯টি চলচ্চিত্রে ব্রুস ব্যানার চরিত্রে পর্দায় এসেছেন মার্ক রাফালো।
সেবাস্টিয়ান স্ট্যান
২০১১ সালের ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার’ দিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘থান্ডারবল্টস’ (২০২৫) পর্যন্ত মোট ৯টি চলচ্চিত্রে দেখা গেছে এই উইন্টার সোলেজার বাকি বার্নসকে।
স্কার্লেট জোহানসন
২০১০ সালের ‘আয়রন ম্যান ২’ দিয়ে শুরু করে নিজের একক চলচ্চিত্র ‘ব্ল্যাক উইডো’ (২০২১) সহ মোট ৯টি মার্ভেল চলচ্চিত্রে নাতাশা রোমানফ চরিত্রে উজ্জ্বল উপস্থিতি ছড়িয়েছেন তিনি।
ক্রিস হেমসওয়ার্থ
২০১১ সালের ‘থর’ সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করা ক্রিস হেমসওয়ার্থ মার্ভেলের দীর্ঘতম সময় ধরে কাজ করা অন্যতম প্রধান তারকা। একমাত্র মূল অ্যাভেঞ্জার হিসেবে চারটি একক চলচ্চিত্রে নেতৃত্ব দেওয়া হেমসওয়ার্থকে অতিথি উপস্থিতি ও আর্কাইভ ফুটেজসহ মোট ১০টি মার্ভেল চলচ্চিত্রে দেখা গেছে।
রবার্ট ডাউনি জুনিয়র
২০০৮ সালের ‘আয়রন ম্যান’ দিয়ে এমসিইউ-এর সূচনা করেছিলেন তিনি। সংক্ষিপ্ত ক্যামিও ও আর্কাইভাল ফুটেজসহ তিনি ‘দ্য ফ্যান্টাস্টিক ফোর: ফার্স্ট স্টেপস’ (২০২৫) পর্যন্ত মোট ১২টি মার্ভেল চলচ্চিত্রে আবির্ভূত হয়েছেন।
ক্রিস ইভান্স
২০১১ সালের ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার’ দিয়ে শুরু করে ক্যামিও ও ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’ (২০২৪)-এ হিউম্যান টর্চ রূপসহ মোট ১২টি চলচ্চিত্রে দেখা গেছে তাকে।
স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন
সবাইকে পেছনে ফেলে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের সবচেয়ে বড় সংযোগ সূত্র হিসেবে শীর্ষে রয়েছেন নিক ফিউরি খ্যাত অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন। ২০০৮ সালের ‘আয়রন ম্যান’-এর বিখ্যাত পোস্ট-ক্রেডিট দৃশ্য থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের ‘দ্য মার্ভেলস’ পর্যন্ত রেকর্ড ১২টি চলচ্চিত্রে হাজির হয়ে তিনি পরিণত হয়েছেন এমসিইউ চলচ্চিত্রের সবচেয়ে নিয়মিত মুখ হিসেবে।













