চলচ্চিত্রপ্রেমীদের ভিড়ে মুখর টিআইএফএফ

টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে কিং স্ট্রিট ওয়েস্ট- লেখক
টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব উপলক্ষে শহরের কিং স্ট্রিট ওয়েস্ট জুড়ে সাজ সাজ রব। গত ১০ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠেছে উৎসবের ৫১তম আসরের। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের চলচ্চিত্র এবং তারকাদের দেখতে মানুষের অভাব নেই!
অফিসিয়াল লোগো ‘টিআইএফএফ’-এর সামনে ছবি তোলার জন্য দিনভর সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকেন সিনেমাপ্রেমীরা। এর আশপাশে কোথাও লাইভ মিউজিক ও ডিজে পরিবেশনা চলছে। এর তালে তালে ফুর্তিতে মেতে উঠছেন দর্শক। ফেস্টিভ্যাল স্ট্রিটে আরও রয়েছে স্থানীয় শিল্পী ও কমিউনিটি সংগঠনের অংশগ্রহণে আর্ট মার্কেট, ফুড ট্রাক, বিনামূল্যের বিভিন্ন আউটডোর আয়োজন, নানা ধরনের খেলা ও উপহারের ব্যবস্থা।
প্রতি বছরের সেপ্টেম্বরে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (টিআইএফএফ) ঘিরে এই শহর মেতে ওঠে। আশপাশের শহরগুলোর বাসিন্দারাও ভিড় করেন। সব মিলিয়ে লাখো দর্শক উপস্থিতি! এবারও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের বৈশ্বিক মিলনস্থলে পরিণত হলো এই আয়োজন। দুই শতাধিক চলচ্চিত্র এবং অসংখ্য উন্মুক্ত আয়োজন নিয়ে চলছে আসর।
এবারের আসরে ছয়টি ভেন্যুর ২৩টি স্ক্রিনে রয়েছে শত শত উন্মুক্ত প্রদর্শনী। অধিকাংশই দর্শক উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ দেখা গেছে। উৎসবের মূল ভেন্যুগুলো হলো— কিং স্ট্রিটের টিআইএফএফ বেল লাইটবক্স, প্রিন্সেস অব ওয়েলস থিয়েটার (এবার এর নাম রাখা হয়েছে ‘ভিসা স্ক্রিনিং রুম’), রয় থমসন হল, রয়্যাল আলেকজান্দ্রা থিয়েটার, স্কশিয়াব্যাংক সিনেমা এবং নতুন যুক্ত হওয়া মেট্রো টরন্টো কনভেনশন সেন্টারের জন ডব্লিউ এইচ বাসেট থিয়েটার। সাধারণ প্রদর্শনীর টিকিটের দাম ৩০ কানাডিয়ান ডলার থেকে শুরু। আর প্রিমিয়াম গালা প্রদর্শনীর টিকিটের দাম ৪৬ কানাডিয়ান ডলার থেকে শুরু। এ ছাড়া প্রতিটি প্রদর্শনীতে রাশ টিকিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো দর্শক না এলে সেই খালি আসনে বসার জন্য এগুলো দেওয়া হয়। দাম ৩২ থেকে ৪৮ কানাডিয়ান ডলার।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং নামিদামি তারকাদের উপস্থিতি। এসবের অনেকটাই বিনামূল্যে উপভোগের বেশ কিছু সহজ পন্থা আছে। লালগালিচায় আসা তারকাদের দেখার জন্য একাধিক ফ্যান ভিউয়িং এরিয়া রয়েছে কিং স্ট্রিট ও ডেভিড পিকট স্কয়ারে। কিং স্ট্রিটে প্রিন্সেস অব ওয়েলস থিয়েটার এবং রয়্যাল আলেকজান্দ্রা থিয়েটারের বাইরে দর্শকের ভিড় চোখে পড়ার মতো।
ডেভিড পিকট স্কয়ারে থাকছে তিনটি নির্দিষ্ট এলাকা— টিআইএফএফ ফ্যান জোন সাউথ, রজার্স ফ্যান জোন এবং আরবিসি রেড কার্পেট গ্যালারি। টিআইএফএফ ফ্যান জোন সাউথে দর্শক পৃথক লালগালিচার জন্য লাইনে দাঁড়াতে পারেন।
ডেভিড পিকট স্কয়ারের সিনেমা পার্কে প্রতিদিন রাত ১০টায় বিনামূল্যে আউটডোরে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী দেখা যাচ্ছে বিনামূল্যে। এর মধ্যে রয়েছে চার্লি চ্যাপলিনের ‘সিটি লাইটস’ এবং ‘উইলি ওঙ্কা অ্যান্ড দ্য চকলেট ফ্যাক্টরি’র মতো জনপ্রিয় ও ধ্রুপদি চলচ্চিত্র।
এ ছাড়া রয়েছে ছোট-বড় সবার জন্য নানা খেলা, বিনামূল্যে খাবার ও কোমল পানীয়, ফ্যান অ্যাক্টিভেশন। এগুলোতে সাধারণত লম্বা সারি থাকে দর্শকের। টিআইএফএফের পপ-আপ শপে পাওয়া যাচ্ছে নতুন মার্চেন্ডাইজ।
বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের ব্যাজ দেওয়া হচ্ছে মেট্রো কনভেনশন সেন্টারের নিচতলায়। দোতলায় উৎসবের বাণিজ্যিক শাখা। এতে নানা দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের প্রদর্শনী হচ্ছে। হলিউডের হেভিওয়েট স্টুডিওগুলোর প্রচারণাও চলছে এখানে। টরন্টোর এবারের আসর চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
উৎসব নির্বিঘ্নে করতে টরন্টোর বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখে পথচারীর জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। রয়েছে ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউ, ইয়র্কভিল অ্যাভিনিউ।



