যে গল্পে আমি নিজে বিশ্বাস করি সেটাই বলতে চাই

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ
‘এটা আমাদেরই গল্প’র অভাবনীয় সাড়া পাওয়ার পর নতুন ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’ লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। আজ থেকে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সিনেমাওয়ালার ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে এর পর্ব। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জনি হক
দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করা, নাকি নতুন কিছু আবিষ্কার করা, ‘ফিরে আসার গল্প’ নির্মাণের সময় কোন বিষয়টি আপনাকে বেশি তাড়িত করেছে?
দর্শকের প্রত্যাশা একটা বড় দায়িত্ব। তবে সেই প্রত্যাশার কথা ভেবে নিজের গল্প বলার স্বাভাবিক জায়গাটা হারাতে চাই না। ‘ফিরে আসার গল্প’ তৈরি করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভেবেছি, চরিত্রগুলো যেন দর্শকের আপন মানুষ হয়ে উঠতে পারে।
সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার কাছে ফিরে আসার অর্থ কী?
আমার কাছে ফিরে আসা শুধু কোনো মানুষ বা সম্পর্কে ফিরে যাওয়া নয়। নিজের ভুলটা বুঝতে পারা, অভিমান সরিয়ে কারও সামনে দাঁড়ানোও ফিরে আসা। কখনো কখনো মানুষ নিজের কাছেও ফিরে আসে।
ধারাবাহিকটিকে পারিবারিক সম্পর্কের চেনা গল্প থেকে আলাদা করে কোন জায়গায় দাঁড় করাতে চেয়েছেন?
সম্পর্কের গল্প চেনা হলেও প্রতিটি মানুষের অনুভূতি আলাদা। সেই আলাদা অনুভূতিগুলো ধরতে চেয়েছি। আমরা কাছের মানুষকে ভালোবাসি, কিন্তু সবসময় বুঝতে পারি না। এ জায়গাটা দর্শক নিজের জীবনের সঙ্গে মেলাতে পারবেন বলে মনে হয়।
‘এটা আমাদেরই গল্প’র অভাবনীয় সাফল্য কি আপনাকে আরও স্বাধীনভাবে গল্প বলার সাহস দিয়েছে?
দর্শকের ভালোবাসা সাহসও দেয়, দায়িত্বও বাড়ায়। তাদের পছন্দ মাথায় থাকে, তবে শুধু জনপ্রিয়তার জন্য গল্পের স্বাভাবিক গতি বদলাতে চাই না। যে গল্পে আমি নিজে বিশ্বাস করি, সেটাই বলতে চাই।
‘ফিরে আসার গল্প’তে কি আগে থেকেই পুরো গল্পের গন্তব্য নির্ধারণ করেছেন? দর্শককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখার জন্য আপনার কৌশল কী?
গল্প কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, তার একটা ধারণা থাকে। তবে লিখতে গিয়ে চরিত্রের আচরণ থেকেও নতুন অনেক কিছু আসে। দর্শককে ধরে রাখার জন্য চরিত্রগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তৈরি করতে চাই।
আবেগঘন দৃশ্য নির্মাণের সময় কীভাবে মেলোড্রামা এড়িয়ে চরিত্রের অনুভূতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলেন?
বাস্তবে সব সম্পর্কের সহজ সমাধান হয় না। সেই অসম্পূর্ণতাও নাটকের গল্পে রাখতে চাই। আবেগপ্রবণ দৃশ্যে ভাবি, এ মানুষটা সত্যি সত্যি এমন পরিস্থিতিতে পড়লে কী বলত। অনেক সময় বড় সংলাপের চেয়ে একটু চুপ করে থাকাই বেশি ছুঁয়ে যায়।
নির্মাতা হিসেবে এ গল্পের মধ্য দিয়ে দর্শকের মনে কী রেখে যেতে চান?
দর্শক যদি একবার ভাবেন, আমার কাছের মানুষটাকে ঠিকমতো বুঝছি তো— সেটাই বড় পাওয়া। এ গল্প দেখে কারও সঙ্গে কারও কথা বলতে ইচ্ছা হলে এবং কেউ কারও অভিমান বুঝতে পারলে, আমার কাজ সার্থক হবে।




