দর্শক চাহিদার ওপর সব নির্ভর করে

অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী ছোট পর্দায় ব্যস্ত। নতুন কাজ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
শুটিংয়ের ব্যস্ততা কেমন?
জাকারিয়া সৌখিনের ‘কাজল চোখের মেয়ে’ নামের একটি নাটকের শুটিং শেষ করেছি। এতে আমার সহশিল্পী ফারহান আহমেদ জোভান। গল্পটা নতুন ধরনের, একই সঙ্গে এতে ক্লাসিক স্বাদ পাওয়া যাবে। এখন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘পথহারা মন’ নামের একটি ফিকশনের কাজে ব্যস্ত। ১০ জুলাই থেকে এর শুটিং শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাপিটাল ড্রামার ব্যানারে নতুন আরও দুটি কাজ আসবে সামনে। একটির পরিচালক রুবেল হাসান, অন্যটি ইমরাউল রাফাতের পরিচালনা।
ইয়াশ রোহানের সঙ্গে আপনার নতুন নাটক ‘ভালোবাসার গল্প’ নিয়ে সাড়া পাচ্ছেন?
বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। দুই দিনে নাটকটি ৫০ লাখ ভিউ পেয়েছে। এতে আমার চরিত্রটি প্রথমে খুবই প্রাণবন্ত এবং সাবলীল। কিন্তু কাহিনি এগোনোর সঙ্গে মেয়েটির মধ্যে একটা বড় পরিবর্তন আসে।
জোভান ও ইয়াশ রোহানের সঙ্গে বেশি কাজ করতে দেখা যায় আপনাকে...
সত্যি বলতে, সবার সঙ্গেই কাজ করি। জোভান ভাই, ইয়াশ ভাই, তৌসিফ ভাই, খায়রুল বাসার ভাই— যারা এখন নিয়মিত কাজ করছেন, তাদের সবার সঙ্গেই অভিনয় করেছি। আর জুটি তো নিজেরা তৈরি করা যায় না। এটা দর্শক তৈরি করে দেন। যদি কোনো জুটিকে দর্শক বেশি পছন্দ করেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাজ বেশি হবে। এটা শুধু নাটকে নয়, সব ক্ষেত্রেই হয়। আগে যেমন নিশো ভাই ও মেহজাবীন আপুর জুটি দর্শক খুব পছন্দ করতেন। এখনো দর্শকের চাহিদার ওপরই সবকিছু নির্ভর করে। আমরা সেই চাহিদা পূরণের চেষ্টা করি।
কী ধরনের চরিত্র বেশি পান? নিজের পছন্দের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ হচ্ছে?
সব ধরনের গল্পই আসে, কিন্তু খুব এক্সক্লুসিভ বা একেবারে ব্যতিক্রম গল্প খুব বেশি পাই না। ঈদের সময় সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা থাকে। কিন্তু খুব বেশি নিরীক্ষাধর্মী কাজ করতে পারি না। কারণ ঈদে দর্শকের একটা নির্দিষ্ট চাহিদা থাকে। পরিবারের সবাই মিলে বসে আরামদায়ক ও নিরাপদ গল্প দেখতে চান। ফলে তখন তেমন কাজই বেশি হয়। এখন যেহেতু ঈদ শেষ, তাই চেষ্টা থাকবে একটু ভিন্ন ঘরানার গল্পে কাজ করার। যেটি হয়তো খুব বেশি ভিউ না-ও পেতে পারে, কিন্তু অভিনয়শিল্পী হিসেবে যেন তৃপ্তি পাই।
এমন কোনো চরিত্র আছে, যেটি পাওয়ার বিশেষ ইচ্ছা আছে?
আমাকে সাধারণত রোমান্টিক গল্পেই বেশি দেখা যায়। কারণ এ ধরনের কাজই বেশি হয়। কিন্তু সবসময়ই একটু আলাদা কিছু করার চেষ্টা থাকে আমার। যেমন, এখনো ডিমেনশিয়া কিংবা শর্ট টার্ম মেমোরি লসের রোগীর চরিত্রে অভিনয় করিনি। সিঙ্গেল মাদার কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীর চরিত্রও এখনো পর্দায় সেভাবে তুলে ধরিনি। থ্রিলারধর্মী কাজও খুব কম করেছি। এ ধরনের চরিত্রে কাজ করা অনেক কঠিন। যে চরিত্রটি পর্দায় উপস্থাপন করব, সেটি যদি দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য না হয়, তাহলে পুরো বিষয়টাই নষ্ট হয়ে যাবে। তাই ভালো গল্প এবং শক্তিশালী স্ক্রিপ্ট দরকার। যখন মনে হবে গল্প ও চরিত্র— দুটোই একদম ঠিক আছে, তখন অবশ্যই সেই ঝুঁকি নেব।
এখন নাটকের বড় সমস্যা কী বলে মনে হয়?
নাটকে ভালো ও বৈচিত্র্যময় গল্পের অভাব দেখি। একই ধরনের গল্প বারবার আসে। ফলে আমাদের একই ধরনের চরিত্রে দেখা যায়। অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, কেন একই ধরনের চরিত্রে কাজ করি। কিন্তু শিল্পীরা তো নিজেরা গল্প তৈরি করেন না। এটা আসলে টিমওয়ার্ক। একজনের ইচ্ছায় কিছু হয় না। লেখক, পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী— সবাই মিলে চেষ্টা করলে ভালো কাজ সম্ভব। তবে ইতিবাচক দিকও আছে। আমি যখন পথচলা শুরু করেছি, তার চেয়ে বাজেট এখন ভালো। ফলে সময় নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ওটিটি নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
ওটিটিতে কাজ করার ইচ্ছা অবশ্যই আছে। কিন্তু নাটকের সুবাদেই আজকের অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, তাই আমার মনে হয়, নাটকের প্রতি এখনো আমার অনেক দায়িত্ব আছে। আপাতত কোনো কিছুর জন্য নাটক ছাড়ব না। ওটিটির কাজ অনেক সময়সাপেক্ষ। সেখানে দীর্ঘ সময় দিতে হয়। যদি সত্যিই খুব ভালো গল্প পাই, তাহলে অবশ্যই করব।




