আগামীর সময়কে ব্র্যাডলি কুপার: কল্পনার জগতে বাঁচতে ভালোবাসি

আমেরিকান অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা
‘অ্যা স্টার ইজ বর্ন’ ও ‘মায়েস্ত্রো’র দারুণ সাফল্যের পর আমেরিকান অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ব্র্যাডলি কুপার তৃতীয় সিনেমা ‘ইজ দিস থিং অন?’ পরিচালনা করলেন। ৫১ বছর বয়সী এ তারকার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জনি হক
হ্যালো, ব্র্যাডলি!
হেই, আপনি কি আমাকে দেখতে পাচ্ছেন?
হ্যাঁ, দেখতে পাচ্ছি। দারুণ লাগছে!
ধন্যবাদ।
প্রশ্ন শুরু করি। এর আগে আপনি দুটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। দুটিই সফল হয়েছে। এবার বানালেন ‘ইজ দিস থিং অন?’ এটিও প্রশংসিত হয়েছে। একজন অভিনেতার চেয়ে পরিচালক হিসেবেই কি নিজেকে বেশি সফল মনে হয়?
জানি না! কখনো এভাবে দেখিনি, আমি একজন অভিনেতার চেয়ে পরিচালক হিসেবে বেশি সফল কি না। গত দুই দশকে, বোধ হয় লেখালেখি ও পরিচালনার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি। দুই দশক হয়ে গেল? ভাবতেই খারাপ লাগছে! (হাসি) হ্যাঁ, ২০১৪ বা ২০১৫ সাল থেকেই এটা ঘটেছে, যখন ‘অ্যা স্টার ইজ বর্ন’ সিনেমার কাজ শুরু করি। যদিও ওগুলোতে অভিনয়ও করেছি। আর ‘ইজ দিস থিং অন?’-এ স্বল্প উপস্থিতির একটি চরিত্র আছে আমার। আমার কাছে সবকিছুই একই প্রক্রিয়ার অংশ বলে মনে হয়।
পরিচালক হিসেবে আপনার সাফল্যের পেছনে কোনো বিশেষ মন্ত্র আছে?
আমার মনে হয়, সত্যের নিরন্তর অনুসন্ধান— এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর যে গল্পই বলি না কেন, তার পথে কখনো বাধা হয়ে না দাঁড়ানো। সবসময় নিজেকে এই বিষয়টি মনে করিয়ে দিই। কারণ, কোনো ক্যামেরা শট, চমৎকার সংলাপ কিংবা বিশেষ কোনো দৃশ্যের প্রতি আমরা অতিরিক্ত মুগ্ধ হয়ে পড়তে পারি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গল্পই আপনাকে বলে দেবে, সে কী চায়। চলচ্চিত্র নিজেই জানিয়ে দেবে, তাকে কোন পথে এগোতে হবে। তাই চলচ্চিত্র ও গল্পের হাতে নিজেকে সঁপে দেওয়া জরুরি। আরেকটি বিষয় হলো, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং কখনো হাল না ছাড়া। শেষ পর্যন্ত লেগে থাকা, লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। আমি বলব, এটাই আমার মূলমন্ত্র।
অভিনয় ও পরিচালনার মধ্যে কোন কাজটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ বা তৃপ্তি দেয়?
এক্ষেত্রে আমার দুটি ভিন্ন উত্তর আছে। আমি কল্পনার জগতে বাঁচতে ভালোবাসি। কোনো কাল্পনিক পরিস্থিতির মধ্যে নিজেকে পুরোপুরি ডুবিয়ে দেওয়া, এমনভাবে সেই চরিত্রের জীবনকে যাপন করা, যেন আমি অভিনয় করছি না, সত্যিই সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এসব অনুভূতির রোমাঞ্চ আমাকে দারুণভাবে আচ্ছন্ন করে। বলা যায়, এটি এক ধরনের নেশার মতো, প্রায় আসক্তিকর।
কিন্তু পরিচালনার ক্ষেত্রে, একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্মিলিত অনুভূতিই সবচেয়ে বেশি তৃপ্তিদায়ক। একদল মানুষের সঙ্গে একযোগে একটি লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করার মধ্যে যে আনন্দ মিশে থাকে, সেটির চেয়ে বেশি উপভোগ্য আর কিছু আমার কাছে নেই।
অবশ্যই অভিনয়ের ক্ষেত্রেও সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সময় এমন অনুভূতি হয় আমার। কিন্তু অন্তত আমার ক্ষেত্রে, চলচ্চিত্র পরিচালনার সময় এই অনুভূতি অনেক বেশি কাজ করে। তখন সত্যিই মনে হয়, আমি নিবিড়ভাবে পুরো কলাকুশলী দলেরই একজন। যেন তাদের ঘনিষ্ঠজন।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
জনি, আপনার সব প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।
ব্র্যাডলি কুপারকে নিয়ে দু’ছত্র
১২ বার অস্কার এবং ছয়বার গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন ব্র্যাডলি কুপার। ব্রিটিশ একাডেমি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস (বাফটা) ও তিনটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর বিশ্বব্যাপী আয় ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের বার্ষিক তালিকায় চারবার ছিলেন তিনি। ছোট পর্দায় ১৯৯৯ সালে ‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’ সিরিজে অতিথি চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু। ২০০০ সালে অ্যাক্টরস স্টুডিওর মাস্টার অব ফাইন আর্টস (এমএফএ) প্রোগ্রামে ভর্তি হন। ২০০১ সালে ‘ওয়েট হট আমেরিকান সামার’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক। ২০০৫ সালে ‘ওয়েডিং ক্র্যাশার্স’ চলচ্চিত্রে ছিলেন পার্শ্বচরিত্রে। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কমেডি চলচ্চিত্র ‘দ্য হ্যাংওভার’ কুপারের ক্যারিয়ারে বড় সাফল্য এনে দেয়। ২০১১ ও ২০১৩ সালে মুক্তি পায় এর দুটি সিক্যুয়েল। ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’ দিয়ে শুরু, এরপর মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ছয়টি চলচ্চিত্রে রকেট চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।
‘সিলভার লাইনিংস প্লেবুক’ (২০১২), ‘আমেরিকান হাসল’ (২০১৩), ‘আমেরিকান স্নাইপার’ (২০১৪), ‘অ্যা স্টার ইজ বর্ন’ (২০১৮) এবং ‘মায়েস্ট্রো’ (২০২৩) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য অস্কারে মনোনয়ন পান কুপার। এর মধ্যে তার পরিচালিত ও অভিনীত ‘অ্যা স্টার ইজ বর্ন’ অস্কারের আটটি বিভাগে মনোনীত হয়। প্রযোজক হিসেবেও সফল তিনি। তার প্রযোজিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘জোকার’ (২০১৯) ও ‘নাইটমেয়ার অ্যালি’ (২০২১)।



