চলচ্চিত্র উৎসব
দর্শকের মন মাতানো যত সিনেমা

টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে দর্শকের ভিড় । ছবি: জনি হক
এই লেখা যখন পড়ছেন, ততক্ষণে পর্দা নেমে গেছে টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের আসরের। তবু কবিতার মতো নির্মাণ, চিত্রভাষার সৌন্দর্য এবং আবেগের গভীরতা— সব মিলিয়ে এই উৎসবে দেখানো কিছু সিনেমা অনেকের মনে রয়ে যাবে অনেক দিন। আসরের পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড ঘিরে বেশ জমজমাট প্রতিযোগিতা হয়েছে এবার। সবচেয়ে বেশি দর্শকনন্দিত হয়েছে পিটার ফ্যারেলির ‘আই প্লে রকি’। সমালোচকদের চোখে এটি এককথায় দুর্দান্ত এবং দর্শক মাতানোর মতো একটি সিনেমা। ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বক্সিং সিনেমা ‘রকি’র নির্মাণ কাহিনি নিয়ে এটি তৈরি হয়েছে। পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ডের দৌড়ে আরও ছিল জেসি আইজেনবার্গের ‘দ্য ডেব্যু’ এবং মার্টিন ম্যাকডোনার ‘ওয়াইল্ড হর্স নাইন’। দুটি সিনেমাই সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ তালিকায় আরও ছিল ‘বিইং হিউম্যান’, কানে স্বর্ণপামজয়ী ‘ফিয়র্ড’, ‘ক্লাব কিড’, ‘দ্য অনলি লিভিং পিকপকেট ইন নিউ ইয়র্ক’ এবং ‘টেন্ডার লাভিং কেয়ার’।
অসাধারণ অভিনয়ের জন্য এবারের উৎসবে বেশি হাততালি পেয়েছেন ‘বিইং হিউম্যান’ সিনেমার তারকা রুথ মেডলি। ‘আই প্লে রকি’তে হলিউড তারকা সিলভেস্টার স্ট্যালোনের ভূমিকায় অভিনয় করা অ্যান্থনি ইপ্পোলিটোর নৈপুণ্য মন কেড়েছে অনেকের। এ ছাড়া জর্ডান ফার্স্টম্যান (ক্লাব কিড), জুলিয়ান মুর ও পল জিয়ামাত্তি (দ্য ডেব্যু), জন ম্যালকোভিচ ও স্যাম রকওয়েল (ওয়াইল্ড হর্স নাইন), অ্যান্ড্রু স্কট (এলসিনোর), ক্লেয়ার ফয়, জ্যাক ও’কনেল এবং গাই পিয়ার্স (ইঙ্ক), ক্যারি কুন (দ্য লিবারেশন), জন টারটুরো (দি অনলি লিভিং পিকপকেট ইন নিউ ইয়র্ক), কেট ও’ফ্লিন, মারিয়ন বেইলি এবং অ্যালিস বেইলি জনসন (টেন্ডার লাভিং কেয়ার) অভিনয়ে দর্শক মাতিয়েছেন।
আশা-হতাশা
সিনেমা শুরুর আগে পর্দায় প্রচারিত বিজ্ঞাপন ঘিরে দর্শকদের হইচই টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবের এক মজার ঐতিহ্য। এ যেন নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করা এক ধরনের আনন্দ। প্রতি বছরের মতো এবারও পাইরেসিবিরোধী সতর্কবার্তা পর্দায় ভাসতেই দর্শক তুমুল হাততালিতে সমর্থন জানান।
এদিকে উৎসব কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সিনেমা নিয়ে আলাদা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেনি। তা ছাড়া অনেক স্টুডিও তাদের কর্মপরিধির সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছিল। এসব কারণে বড় তারকাদের কাছ থেকে সরাসরি কথা শোনার সুযোগ কমেছে।
লালগালিচায় রাজনীতিবিদ
টিআইএফএফ ট্রিবিউট অ্যাওয়ার্ডস বিতরণের আগে ফেয়ারমন্ট রয়্যাল ইয়র্ক হোটেলের সামনে লালগালিচায় হাজির হন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তখন তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে সাধারণ দর্শক। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বিনোদনমূলক নতুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘হোপ অ্যান্ড হার্ড ওয়ার্ক’ যাত্রা শুরু করার মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন টরন্টো উৎসবকে। দীর্ঘদিনের চিফ অব স্টাফ কেটি টেলফোর্ডকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন।
বাণিজ্যিক শাখা
টিআইএফএফের প্রথম আনুষ্ঠানিক ‘মার্কেট’ নির্মাতাদের প্রকল্প উপস্থাপন, পরিবেশক খোঁজা কিংবা অর্থায়ন নিশ্চিত করার সুযোগ দিয়েছে। এর মাধ্যমে উৎসবের দীর্ঘদিনের অনানুষ্ঠানিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। উৎসবের মুখপাত্র নিকোল ক্রাইসোস্টম-মারে জানালেন, মার্কেটের মাধ্যমে ২৮টি আসন্ন সিনেমার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে হ্যালি বেরি, জোয়ি ক্রাভিৎজ ও কলিন ফার্থ অভিনীত একটি রোমান্টিক কমেডি; মাইলস টেলার ও জেসন মোমোয়া অভিনীত একটি ক্রাইম থ্রিলার এবং টম হ্যাঙ্কসের কণ্ঠে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের চরিত্র নিয়ে একটি অ্যানিমেশন-লাইভ-অ্যাকশন হাইব্রিড সিনেমা।
আয়োজকদের তথ্যানুযায়ী, এবারের মার্কেটে অংশ নিয়েছেন সাত হাজারের বেশি ডেলিগেট। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রায় দেড় হাজার ক্রেতা। এসব ক্রেতার ৪০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের। শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় আরও রয়েছে কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য।
১০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া টিআইএফএফের আলো নিভে গেছে। গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে লালগালিচা। তারকারা ফিরে যাচ্ছেন নিজ নিজ শহরে। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমার প্রদর্শনী, লালগালিচা, তারকাদের আনাগোনা, পার্টি আর দর্শকের উচ্ছ্বাসে টরন্টো শহর প্রাণবন্ত ছিল ১১টি দিন। এবারের উৎসব উপহার দিয়েছে অসাধারণ কিছু সিনেমা, দারুণ কিছু সময় এবং অসংখ্য স্মৃতি।



