সামাজিক মাধ্যমে সরব তারকারা: আত্মপ্রচার নাকি আয়ের নতুন মাধ্যম

শাকিব খান, মোশাররফ করিম, জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী, পূজা চেরী ও সাবিলা নূর- ফেসবুক
ডিজিটাল যুগে তারকারা শুধু টেলিভিশন, সিনেমা বা নাটকে পারফর্ম করেই থেমে থাকছেন না। নিজেদের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, টুইটার এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। লিখেছেন পান্থ আফজাল
অভিনয়, গান কিংবা নাচের পাশাপাশি তারকারা তৈরি করছেন ভিডিও কনটেন্ট, যা সরাসরি দর্শক-ভক্তদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। নিজেরাই হয়ে উঠেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। নিজস্ব ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল, টিকটক অ্যাকাউন্ট চ্যানেল খুলে তুলে ধরছেন পছন্দ-অপছন্দ, কাজের গল্প, এমনকি ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন দিক। ফেসবুকে রিলস, টিকটকে ছোট ছোট ভিডিও প্রকাশ করছেন। মিলিয়ন মিলিয়ন ভক্ত তাদের। বিষয়টি শুধু আত্মপ্রচারণা নয়; বরং ডিজিটাল মিডিয়ার এক নতুন বাস্তবতা, যেখানে তারাও নিজেদের ব্র্যান্ড তৈরি করছেন। নিজের কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনকেও ভাগ করে নিচ্ছেন তারকারা, যা আগের সময়ে ছিল অনেকটাই কল্পনাতীত।
কে কী করছেন
বাংলাদেশি তারকাদের কাছে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, যেখানে তারা নানা সময়, মুহূর্ত, কাজ ও ব্যক্তিগত বিষয়ের আপডেট দেন। কোনো বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামত, বিশেষ কিছু নিয়ে লেখা কিংবা দেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও ছবিসহ পোস্ট করছেন নিয়মিতই। কেউ কেউ মজার ভিডিও বানিয়ে নিজস্ব ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করছেন। কেউ আবার প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন নানা রকম ভিডিওতে। কারও কারও ভিডিওতে উঠে এসেছে কাজের পেছনের গল্প কিংবা দেশে-বিদেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। কেউ কেউ নাটক বা সিনেমার প্রচারণায় ব্যবহার করছেন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ও ইউটিউব আর টিকটক। এই সময়ে নবীন-প্রবীণ বেশির ভাগ সেলিব্রেটিই ফেসবুকে দারুণ ব্যস্ত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব রয়েছেন আফজাল হোসেন, ববিতা, আবুল হায়াত, শাকিব খান, মোশাররফ করিম, জয়া আহসান, পরীমণি, পূর্ণিমা, হানিফ সংকেত, তারিক আনাম, সাবিলা নূর, আশিকুজ্জামান টুলু, প্রিন্স মাহমুদ, বুবলি, অপু বিশ্বাস, মেহজাবীন চৌধুরী, শবনম ফারিয়া, সিয়াম, স্পর্শিয়া, পূজা চেরী, শাবনূর, তমা মির্জা, আফরান নিশো, রায়হান রাফি, সাফা কবির, টয়া, হৃদয় খান, ইমরান মাহমুদুল, কনা, নুসরাত ফারিয়া, ন্যান্সি, ঐশী, রুনা খান, নিলয় আলমগীর, হিমি, টনি ডায়েস, কনকচাঁপা, তাহসান খান, চমক, চয়নিকা চৌধুরী, পড়শী, বিদ্যা সিনহা মিম, তানিয়া আহমেদ, হাবিব ওয়াহিদ, অহনা, মাবরুর রশীদ বান্নাহ, কাজল আরেফিন অমি, জিয়াউল পলাশ, মারজুক রাসেল, শরাফ আহমেদ জীবন, ফারিয়া শাহরিন, পারসা ইভানা, মিশু সাব্বির, শিমুল, চাষী আলম, পাবেল, শামীম হাসান সরকার, এস আই টুটুল, অনন্ত জলিল, প্রভা, দীঘি, সালহা খানম নাদিয়া, অপূর্ব, নিরব, ইমন, তৌসিফ, জোভান, তটিনী, নিহা, খায়রুল বাসার, আরশ খান, নওশাবা, মম, ভাবনা, তানজিন তিশা, মুশফিক আর ফারহান, রোজিনা, ইমন চৌধুরী, আঁখি আলমগীর, প্রিয়া জান্নাতসহ অনেকেই।
অনেক তারকা বেশ আগেই খুলেছেন নিজের নামে ইউটিউব চ্যানেল। কেউ কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছেন খোলার। কেউ খুললেও আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর অপেক্ষায় আছেন। শাকিব খানের রয়েছে এস কে ফিল্মস নামে ইউটিউব চ্যানেল। সংগীতশিল্পী কনার ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘কনা’। অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর চ্যানেলের নাম ‘মেহজাবীন চৌধুরী’। অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়ারও নিজের ইউটিউব চ্যানেল আছে। এর পাশাপাশি অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম, মাহিয়া মাহি ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে কাজ শুরু করছেন।
মোশাররফ করিমের ‘টিভি গেট’ নামের একটি চ্যানেল রয়েছে। এদিকে টিকটকে সরব রয়েছেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, মাহিয়া মাহি, পূজা চেরী, মুমতাহিনা টয়া, সালহা খানম নাদিয়া, সালমান মুক্তাদির, অহনা, শামীম হাসান সরকার, জেসিয়া, ইমরান মাহমুদুলসহ তারকাদের অনেকেই।
আত্মপ্রচারণা না নতুন ব্যবসায়িক দিগন্ত
একটি সময় পর্যন্ত তারকারা মিডিয়া কাভারেজ, টিভি অনুষ্ঠান, পত্রিকার সাক্ষাৎকার কিংবা পাবলিক ইভেন্টের মাধ্যমেই নিজেদের তুলে ধরতেন। কিন্তু বর্তমান যুগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়া একটি স্বাধীন ও সরাসরি প্রচারের জায়গা করে দিয়েছে। এখানে তারা ইচ্ছামতো কনটেন্ট বানাতে, সম্পাদনা করতে এবং দর্শকের কাছ থেকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া পেতে পারেন। আরও বড় বিষয় হলো, এসব প্ল্যাটফর্ম শুধু প্রচারের মাধ্যম নয়; আয়েরও উৎস। গুগল অ্যাডসেন্স, স্পন্সরশিপ, ব্র্যান্ড কলাবরেশন-- সব মিলিয়ে তারকাদের জন্য একটি লাভজনক ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এসব। এই প্ল্যাটফর্মে তারকারা দিন দিন আগ্রহী হলেও কনটেন্টের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেকেই পেশাদার ভিডিও বানালেও, কিছু তারকার ভিডিও পরিকল্পনাহীন, তাড়াহুড়া করে বানানো কিংবা শুধুই ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্দেশ্যে তৈরি। এ থেকে দর্শকের বিরক্তি তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এ ছাড়া কিছু তারকা ইউটিউব চ্যানেল খোলার পর আর নিয়মিত আপডেট দিচ্ছেন না। এতে ভক্তদের আগ্রহ হারিয়ে যায়।
সামগ্রিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া আর ইউটিউব তারকাদের জন্য একটি স্বাধীনতা ও সুযোগের নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। এখান থেকে যেমন নিজেদের প্রচার সম্ভব, তেমনি গুণগত কনটেন্টের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দর্শকপ্রিয়তা ও আস্থা অর্জন করারও সুযোগ আছে।



