শ্যারন স্টোন চান, ‘ইউফোরিয়া’ দেখানো হোক স্কুলে স্কুলে

শ্যারনের দাবি সকলের এই সিরিজটি বাধ্যতামূলকভাবে দেখা উচিত
টিনএজার বা বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেমেয়েদের মাদকাসক্তি, মানসিক অবসাদ আর অন্ধকার জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত হলিউডের অন্যতম বিতর্কিত অথচ সুপারহিট সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’। এবার এই জনপ্রিয় সিরিজের চূড়ান্ত সিজনে এন্ট্রি নিয়েছেন ‘বেসিক ইনস্টিঙ্কট’ খ্যাত হলিউডের কালজয়ী আবেদনময়ী অভিনেত্রী শ্যারন স্টোন। তবে কেবল অভিনয়ই নয়, সিরিজটির বাস্তবসম্মত গল্পে এতটাই বুঁদ হয়ে আছেন ৫৪ বছর বয়সী এই তারকা যে, তিনি দাবি করেছেন পৃথিবীর প্রতিটি হাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের বাবা-মায়েদের এই সিরিজটি বাধ্যতামূলকভাবে দেখা উচিত!
বিখ্যাত ম্যাগাজিন ভ্যারাইটি-র ‘অ্যাক্টরস অন অ্যাক্টরস’ টক-শোতে হাজির হয়ে নিজের জীবনের এক ট্রাজিক বা বেদনাদায়ক অধ্যায় টেনে আনেন শ্যারন স্টোন। তিনি জানান, ‘ইউফোরিয়া’র গল্পে মাদকাসক্ত তরুণদের যেভাবে দেখানো হয়েছে, তা কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, বরং এক নির্মম বাস্তব। নিজের কান্না চেপে শ্যারন বলেছেন, "এই সিরিজের প্রথম পর্বটা দেখার পর আমি স্রেফ স্তব্ধ হয়ে বসে কেঁদেছিলাম। কারণ এই অন্ধকারের মধ্য দিয়ে আমি নিজে এবং আমার পরিবার গেছে। আমার নিজের ভাই নিউ ইয়র্কের সবচেয়ে বড় জেলে সাজা কেটেছে। সে একসময় ড্রাগ বিজনেসে জড়িয়ে পড়েছিল। আমি কোটি কোটি টাকা দিয়ে তাকে এই গ্যাংস্টার আর মাদকের জগৎ থেকে বের করে আনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ভাই বলেছিল— ‘সিস্টেমটা এত সহজ না বোন, টাকা দিয়ে এখান থেকে ফেরা যায় না।’ তাই ইউফোরিয়াতে যা দেখানো হয়েছে, তা একশো ভাগ সত্যি।"
অনেকেই এই সিরিজের অন্ধকার ও রূঢ় সমাপ্তি নিয়ে সমালোচনা করলেও শ্যারন স্টোন এর পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। একজন মা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেছেন, আজকালকার দিনে অনেক পরিবারই তাদের সন্তানদের মাদক বা মানসিক সমস্যা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে চান না, লুকিয়ে রাখেন। শ্যারনের মতে, ‘ইউফোরিয়া বর্তমান সমাজের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমি মনে করি, প্রতিটি হাই স্কুলে এটি দেখানো উচিত যাতে শিক্ষার্থীবৃন্দ এর পরিণতি দেখে সচেতন হতে পারে। একই সাথে সব বাবা-মায়েরও এটি দেখা উচিত, যাতে তারা বুঝতে পারেন তাদের সন্তানরা চোখের আড়ালে কী ধরণের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’
সিরিজটির নির্মাতা স্যাম লেভিনসন যাতে ইন্টারনেটে কোনোভাবেই গল্প লিক বা ফাঁস না হয়ে যায়, সেজন্য অভিনব এক কায়দা বেছে নিয়েছেন। শ্যারন স্টোন জানান, শুটিংয়ের সময় অভিনেতাদের পুরো স্ক্রিপ্ট দেওয়া হয় না, স্রেফ যার যার দৃশ্যের ছোট ছোট সংলাপ ধরিয়ে দেওয়া হয়! ফলে পুরো গল্পে আসলে কী ঘটতে চলেছে, তা অভিনেতারা নিজেরাও আগে থেকে জানতে পারেন না। শ্যারনের মতে, এটি যেন একটা ধাঁধা মেলানোর মতো অভিনয়— যেখানে চরিত্রটি কেন এমন আচরণ করছে, তা অভিনেতাকে অন-স্পট বুঝে নিয়ে দর্শকের সামনে বিশ্বাসযোগ্য করতে হয়।







