হলিউড অভিনেতা খুনে চাঞ্চল্য, ‘আমি পাপিষ্ঠকে হত্যা করেছি’ বলল ঘাতক

জেমস হ্যান্ডি
হলিউডের এক জাঁকজমকপূর্ণ জীবনের আড়ালে ঘনিয়ে এলো নির্মম অন্ধকার। লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের বাড়ির সামনেই নৃশংসভাবে খুন হলেন ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’ এবং ‘জুমানজি’ খ্যাত প্রবীণ হলিউড অভিনেতা জেমস হ্যান্ডি। কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করা এই অভিনেতার বুকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এই ঘটনায় এরই মধ্যে পুলিশ অভিনেতার প্রেমিকার ৪৪ বছর বয়সী ছেলে মাইকেল গ্লেডহিলকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সামনে এসেছে কিছু হাড়হিম করা তথ্য ও একটি সিসিটিভি ফুটেজ, যা দেখে শিউরে উঠছে পুরো হলিউড পাড়া।
বিখ্যাত মার্কিন গণমাধ্যম টিএমজেড এবং ফক্স ১১ লস অ্যাঞ্জেলেস-এর প্রকাশ করা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জেমস হ্যান্ডিকে ছুরিকাঘাত করার ঠিক পরপরই সন্দেহভাজন খুনি মাইকেল গ্লেডহিল অত্যন্ত শান্ত ও স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছেন। কোনো তাড়া বা ভয়ের চিহ্ন ছিল না তার চোখে-মুখে। কিছুদূর যাওয়ার পর সে আবার অবলীলায় সেই একই অকুস্থলে ফিরে আসে! এক প্রতিবেশীর বাড়ির সিকিউরিটি ক্যামেরায় ধরা পড়া এই ঠান্ডা মাথার খুনের ভিডিওটি এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।
হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন জরুরি সেবা ‘৯১১’-এ একটি ফোন কল আসে, যা শুনে পুলিশ কর্মকর্তারাও অবাক হয়ে গিয়েছিল। ফোন করে স্বয়ং খুনি মাইকেল অত্যন্ত অদ্ভুত এক ধর্মীয় উন্মাদনার সুরে অপারেটরকে বলে— ‘আমি ঈশ্বরের পুত্র, আমি এইমাত্র পৃথিবীর এক মহাপাপিষ্ঠ মানুষকে হত্যা করে পাপমুক্ত করলাম।’
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জেমস হ্যান্ডিকে তার বাড়ির সামনে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা এই প্রবীণ তারকাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এক মুহূর্ত দেরি না করে এলাকা থেকেই মাইকেলকে গ্রেপ্তার করে এবং বর্তমানে তাকে এলএপিডির ভ্যালি জেলে রাখা হয়েছে। জামিনের জন্য আদালত তার বন্ড নির্ধারণ করেছে রেকর্ড ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার!
জেমস হ্যান্ডির এই আকস্মিক ও নৃশংস বিদায় মেনে নিতে পারছেন না হলিউডের সহকর্মীরা। তাকে ইন্ডাস্ট্রির একজন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং প্রতিভাবান চরিত্রাভিনেতা হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে প্রেমিকার নিজের ছেলে কেন এই বৃদ্ধ অভিনেতার ওপর এমন জঘন্য হামলা চালাল, তার আসল কারণ বা মোটিভ এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।
ঘরের ভেতরের কোনো পারিবারিক কলহ নাকি মাইকেলের মানসিক বিকৃতি তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে লস অ্যাঞ্জেলেস ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ।








