কেউ ডাকছে না, তাই অভিনয় করছি না : হাসান মাসুদ

হাসান মাসুদ
অভিনেতা হাসান মাসুদ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানালেন, আপাতত অভিনয় করছেন না। হজ করে এসে এখন ধর্মকর্মেই মনোযোগী। এ বক্তব্যের কারণে সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশের সমালোচনার শিকারও হচ্ছিলেন অভিনেতা।
আবার অনেকেই মনে করছেন, তিনি আর অভিনয় করবেন না। একেবারেই সরে গেছেন; কিন্তু বিষয়টি তেমন নয় বলে জানালেন হাসান মাসুদ। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেছেন, ‘ওই কথাটা বলা আমার ভুল হয়েছে। আমি বলেছিলাম, দুই বছর ধরে অভিনয় করছি না এবং মাঝেমধ্যে বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করি। এই মুহূর্তে ভালো কনটেন্টও তেমন নেই। কিন্তু আমি কখনো বলিনি যে, আর অভিনয় করব না।’
হাসান মাসুদকে অভিনয়ে দেখা যায় না, কেন? এর কারণ হিসেবে আলোচিত এই অভিনেতা আজ মঙ্গলবার আগামীর সময়কে জানালেন কোনো নির্মাতাই এখন তাকে ডাকছে না। আর এ কারণেই তার অভিনয় করা হয়ে উঠছে না। বললেন, ‘অভিনয় বা বিজ্ঞাপনের কাজের বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো নির্মাতা যোগাযোগ করছেন না। এ কারণেই আমার অভিনয় করা হয়ে উঠছে না।’
একসময় যেসব নির্মাতার সঙ্গে কাজ করে হাসান মাসুদ আলোচিত হয়েছিলেন, তারাও কোনো কাজের জন্য ডাকছে না বলে জানালেন ‘চিরকুমার সংঘ’খ্যাত অভিনেতা।
হাসান মাসুদ বলছেন, ‘অভিনয় নিয়ে আমার কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। আমাকে কেউ যদি ডাকে, চরিত্র দেখে যদি মনে হয় এটা আমার করা যায়, তাহলে করব।’ হজ করে আসার পর দুটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেছেন। পছন্দসই কাজ পেলে সামনেও করবেন।
ভালো গল্প পেলে এখনো তিনি অভিনয় করতে চান। আর অভিনয়ের সঙ্গে ধর্মচর্চার বিষয়টিকে সাংঘর্ষিক বলেও মনে করেন না তিনি। তার ভাষ্য, ‘আপনি ধর্ম পালন করতে পারেন, আবার শুটিং সেটেও নামাজ পড়তে পারেন। গত চার-পাঁচ বছরে যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তারা সবাই জানেন যে আমি ২০০০ সাল থেকে নিয়মিত নামাজ পড়ি। শুটিংয়ের সময় সবাই আমাকে নামাজ পড়ার জন্য বিরতি দিতেন। আমি চেষ্টা করতাম ওই সময়ে যেন আমার কোনো দৃশ্যের শুটিং না থাকে। পরে পরিচালকরাই বলতেন, ‘বিরতির সময় হয়েছে হাসান ভাই। যান, নামাজ পড়ে আসেন।’
সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে পথচলা শুরু করেছিলেন হাসান মাসুদ। পরে অবসর নিয়ে আসেন সাংবাদিকতায়। ২০০৩ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ দিয়ে চলচ্চিত্রে আসেন তিনি। এরপর নাটকেও নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন। তার অভিনীত জনপ্রিয় কিছু নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘হাউসফুল’, ‘এফডিসি’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘রঙের দুনিয়া’, ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’, ‘খুনসুটি’ ইত্যাদি। গানও করেছেন তিনি। ২০০৬ সালে তার গানের অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছিল।





