ঐশ্বরিয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন শুনেই টেবিল ভাঙেন সালমান

সংগৃহীত ছবি
বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত প্রেমগাথা সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সম্পর্ক। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে শুরু হওয়া এই সম্পর্কটি ২০০২ সালে চরম তিক্ততার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
সেই সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর সালমানের বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলা ও শারীরিক নির্যাতনের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন ঐশ্বরিয়া। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোনো একটি সাক্ষাৎকার নতুন করে ভাইরাল হতেই আবারও আলোচনায় এসেছে সেই পুরোনো বিতর্ক।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রভু চাওলাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে শারীরিক নির্যাতনের প্রশ্ন উঠতেই মেজাজ হারিয়ে টেবিলে সজোরে ঘুষি মারেন সালমান খান!
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিক প্রভু চাওলা সালমানকে প্রশ্ন করেন, “আপনার জীবনের নারীদের সাথে বারবার কেন দ্বন্দ্ব হয়? যেমনটা ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সাথে হয়েছিল?”
জবাবে বেশ শান্ত সুরেই সালমান বলেছেন, “তিনি আমার খুব ভালো একজন বন্ধু ছিলেন, এখন আর সেই বন্ধুত্বটা নেই— ব্যাস এতটুকুই! এখন তিনি আমার জীবনে নেই, তাই তাকে নিয়ে কথা বলার কোনো মানে হয় না। যে যার জীবনে এগিয়ে গেছে। বিচ্ছেদ তো হতেই পারে, ব্রেকআপের পর সবাই যার যার পথে এগিয়ে যায়। জীবন থেমে থাকে না।”
কথোপকথনের একপর্যায়ে সাংবাদিক যখন সালমানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন যে, তার বিরুদ্ধে প্রেমিকাদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ রয়েছে— তখন হঠাৎ রেগে গিয়ে নিজের পুরো শক্তি দিয়ে সামনের টেবিলে সজোরে ঘুষি মারেন সালমান।
টেবিল থরথর করে কেঁপে উঠলে সালমান জানান, আমি যদি সত্যিই কারো গায়ে হাত তুলতাম, তবে সে কি সেটা সহ্য করতে পারত?
পরবর্তীতে অন্য এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার স্মৃতি টেনে সালমান আরও বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। তিনি বলেছেন, “প্রভু চাওলা যখন আমাকে প্রশ্নটি করেছিলেন, আমি রেগে গিয়ে টেবিলে এতটাই জোরে ঘুষি মেরেছিলাম যে টেবিলটাই ভেঙে গিয়েছিল! আমি স্পষ্ট বলতে চাই, আমি যদি সত্যিই কাউকে মারতাম, তবে পুরো শক্তি দিয়েই মারতাম। আমার মনে হয় না আমার মার খাওয়ার পর ওই মেয়েটি বেঁচে থাকত!”
অন্যদিকে, বিচ্ছেদের পর ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সালমানের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ এনেছিলেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া।
ঐশ্বরিয়া বলেছিলেন, “বিচ্ছেদের পরও সে আমাকে ফোন করে বাজে কথা বলত। এমন অনেক সময় গেছে যখন সালমান আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে। ভাগ্য ভালো যে শরীরে কোনো দাগ থাকত না। আর আমি পরদিন সেটে এমনভাবে শুটিং করতে যেতাম, যেন কিছুই হয়নি।”
পরবর্তীতে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঐশ্বরিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি নিজের আত্মসম্মানের খাতিরে ভবিষ্যতে আর কখনোই সালমান খানের সাথে কোনো সিনেমায় কাজ করবেন না।
বহু বছর পেরিয়ে গেলেও দুই তারকার সেই পুরোনো বিতর্ক আজও চর্চায় ফিরে আসে অনুরাগী ও নেটিজেনদের মাঝে।





