দুর্ঘটনায় চেহারায় আঘাত, কাজ পাওয়া নিয়ে হতাশাগ্রস্ত অভিনেত্রী

রাজধানীর বনানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তা। দুর্ঘটনার ঘটনায় কাঙ্ক্ষিত আইনি ব্যবস্থা না হওয়ায় এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে বনানী থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তিনি। এ সময় নিজের ক্ষোভ ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন অভিনেত্রী।
গত ২৮ জুলাই রাতে বনানী এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি মেঘলা মুক্তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় মুখ ও মাথায় আঘাত পান তিনি। পরে প্রায় এক মাস আইসিইউ ও কেবিনে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় মেঘলাকে। মুখে একাধিক অস্ত্রোপচারও করা হয়।
এ অবস্থায় গাড়ির মালিক ও চালকের বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ৪ অক্টোবর দুপুরে বনানী থানার সামনে অবস্থান নেন মেঘলা মুক্তা। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের প্রতিবাদের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, তার পাশে দাঁড়ানোর মতো সময় বা প্রস্তুতি কেউ নিতে পারেননি।
মেঘলা বলেন, ‘সামনে থেকে কেউ এসে পাশে দাঁড়াতে পারেননি। অন্তত ফেসবুকে আমার লেখা, আমার পোস্টগুলো শেয়ার করেও পাশে দাঁড়াতে পারেননি। অথচ আমি যখন এক রাতের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে বনানী থানার সামনে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন আমার হাতে কোনো সময় ছিল না। ব্যানার বানানোর সময় পর্যন্ত পাইনি। একজন ছোট ভাই দৌড়ে এসে নিজের মতো করে একটা ব্যানার বানিয়ে আমার হাতে দিয়েছে। আমি বরং তার প্রতি কৃতজ্ঞ, অন্তত সে সেই মুহূর্তে আমার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে।’
এর আগে নিজের হতাশার কথা জানিয়ে মেঘলা মুক্তা বলছেন, ‘চেহারার ওপর যে পরিমাণ আঘাত, দাগ আর ট্রমা গেছে, সত্যি বলতে আমি জানি না বাংলাদেশের কোনো পরিচালক এখন আমাকে এই অবস্থায় নিয়ে কাজ করার কথা ভাববেন কি না। যখন আমি সুস্থ ছিলাম, ফিট ছিলাম, তখনও মিডিয়ায় কাজ পেতে কতটা লড়াই করতে হয়েছে। সেটা আমরা সবাই জানি। আর এখন আমার চেহারা ও শারীরিক অবস্থা এতটাই বদলে গেছে যে কাজ পাওয়া তো দূরের কথা, আমি আদৌ কামব্যাক করতে পারব কি না সেটাও অনিশ্চিত মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানুষ একদিন, দুইদিন, তিনদিন পাশে থাকে। তারপর একটা সময় নিজের লড়াইটা নিজের একারই লড়তে হয়। আমি কীভাবে আবার ফিরব, আদৌ ফিরতে পারব কি না আমি জানি না।আজ কোনো লজ্জা বা কিছু লুকিয়ে না রেখে আমার মনের কথাটাই বললাম। এটাই এখন আমার মানসিক ও শারীরিক বাস্তবতা।’
মেঘলার এই অবস্থান কর্মসূচির মূল দাবি ছিল দুর্ঘটনার ঘটনায় জড়িত গাড়ির মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।





