সালমান শাহর নামে সুইসাইড নোটটি কার লেখা

সালমান শাহ ও ইনসেটে সেই সুইসাইড নোট
সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে সামনে এসেছে একটি সুইসাইড নোট। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন গার্ডেন এলাকার বাসায় মারা যান সালমান শাহ। পরে সালমানের বাবা কমর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছেলের অপমৃত্যুর মামলা করেন রমনা থানায়। সেই সময় সালমানের বাসা থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট বা আত্মহত্যার চিঠি উদ্ধার করে।
পুলিশের পাওয়া ওই সুইসাইড নোটে যা লেখা ছিল, ‘আমি চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার, পিতা-কমর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ১৪৬/৫, গ্রিন রোড, ঢাকা-১২১৫ ওরফে সালমান শাহ এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে আজ অথবা আজকের পরে যেকোনো দিন মৃত্যু হলে তার জন্য কেউ দায়ী থাকবে না। স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে আমি আত্মহত্যা করছি।’
সুইসাইড নোটের শেষে কারও স্বাক্ষর ছিল না। এরপর ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ এনে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। ওই সময় অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) নির্দেশ দেন আদালত।
পরে সিআইডির হস্তবিশারদরা চিঠিটা পরীক্ষা করেন এবং তারা বলেন, এটা সালমান শাহের হাতের লেখা। এরপর সেই সময় এ সুইসাইট নোট প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি অস্বীকার করেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী।
নীলা চৌধুরী বলেছিলেন, ‘আমরা ওকে ইমন নামেই ডাকতাম। অথচ চিঠিতে ইমন নাম কোথাও নেই। ও থাকতো ইস্কাটনের বাসায়। সালমান শাহ নামটিও ঠিকানার পর লেখা। কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করার আগে এ রকম গুছিয়ে বাবার নাম, ঠিকানা উল্লেখ করে চিঠি লিখে বলে আমার জানা নেই। এ চিঠি যারা আমার ছেলেকে খুন করেছেন তারাই লিখেছেন।’
তবে ২০২০ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই তদন্তের পর জানায় হত্যাকাণ্ড নয়, পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় বাংলা চলচ্চিত্রের সেরা নায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেন।
সেসময় পিবিআইও ওই সুইসাইড নোটটি সালমান শাহর লেখা বলেও জানায়। সেসময় পুলিশের বক্তব্য ছিল, পুলিশ বিভাগে সুনীল কুমার মুখার্জি হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্ট হিসেবে সুপরিচিত। বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি রিপোর্ট দিয়েছেন সুইসাইড নোটটি সালমান শাহর লেখা। সালমান শাহর স্বাক্ষর ও বিভিন্ন সময়ে তার হাতের লেখাগুলো অতি সূক্ষ্ম ভাবে যাচাই বাছাই করে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, সুইসাইড নোটটি সালমান শাহ মৃত্যুর আগে নিজে লিখে গিয়েছেন।
তবে সম্প্রতি সালমান শাহর মৃত্যু, হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হওয়া ও এই মামলার চার নম্বর আসামি ডন গ্রেপ্তার হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে সেই সুইসাইড নোটটি কার লেখা?





