সালমান শাহর ইস্কাটনের সেই ফ্ল্যাট, এখনো তেমনই আছে

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের ব্যস্ত পথের পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘ইস্কাটন প্লাজা’। বাইরে থেকে দেখলে আর দশটি সাধারণ আবাসিক ভবনের মতোই মনে হলেও, ঢালিউড চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই ভবনের বি-১১ ফ্ল্যাটটি বহন করে চলেছে এক বিষাদময় অধ্যায়। মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এই ফ্ল্যাটেই অকালমৃত্যু ঘটেছিল ঢালিউডের ক্ষণজন্মা ও তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর। দীর্ঘ তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এই ফ্ল্যাট এবং ভবনটি আজও বহন করে চলেছে সেই ট্র্যাজেডির স্মৃতি, যা আজও বিনোদনপ্রেমী মানুষের মনে কৌতূহল ও বিষাদের দোলা দেয়।
মাঝে অল্প কিছু সময়ের জন্য ভাড়াটিয়া বদল হলেও সেখানে কোনো জীবনযাত্রার স্থায়ী আলো জ্বলেনি। ভবনের সিকিউরিটি গার্ড এবং দেখভালের দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকারদের নিয়মিত রুটিনকাজে এই ফ্ল্যাটটির ধুলোবালি ঝাড়াই-মোছা ছাড়া তেমন কোনো নড়াচড়া দেখা যায় না। একসময়ের উৎসবমুখর এবং তারকার আনাগোনায় মুখরিত স্থানটি এখন শুধুই এক নিস্তব্ধতার সাক্ষী।
ইসকাটন প্লাজার কেয়ারটেকার সেলিম বলছেন, ‘মালিক সমিতি এখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা বন্ধ কইরা দিছে। সেই ফ্ল্যাটে কে থাকে সেটাও জানি না। মালিকরা বইলা দিছে যাতে সেখানে কেউ না যেতে পারে।’
ইস্কাটন রোডের প্রবীণ ব্যবসায়ী ও দীর্ঘদিনের প্রতিবেশীদের স্মৃতিতে আজও স্পষ্ট ১৯৯৬ সালের সেই সেপ্টেম্বর সকালের বিভীষিকাময় ছবি। প্রিয় নায়ককে শেষবারের মতো একনজর দেখতে বা ঘটনার সত্যতা জানতে সেদিন পুরো এলাকা রূপান্তরিত হয়েছিল জনসমুদ্রে। আজ সেই ভিড় নেই, তবে এখনো প্রতিবছর ৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবার্ষিকী বা ১৯ সেপ্টেম্বর জন্মবার্ষিকীতে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা নীরবে এসে এই ভবনের সামনে দাঁড়ান। অনেকেই কেবল ভবনটির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে শ্রদ্ধা জানান কিংবা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন।
ইস্কাটন প্লাজার পাশের এক ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক জানালেন, অনেকেই এসে এখানে দাঁড়িয়ে থাকেন। বললেন, ‘এখানে দাঁড়িয়ে সালমান শাহ যে বারান্দায় দাঁড়াতেন সেটা দূর থেকে দেখার চেষ্টা করেন, কেউ কেউ ফ্ল্যাটটি চিহ্নিত না করতে পারলে আশেপাশের কাউকে জিজ্ঞেস করেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, তারপর চলে যান।’
তিন দশকের ব্যবধানে ঢাকা শহরের স্থাপত্য ও জীবনযাত্রায় অনেক রূপান্তর ঘটলেও ইস্কাটন প্লাজার সেই নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটটি রূপ নিয়েছে এক জীবন্ত স্মারকে। কোনো বর্ণিল আয়োজন বা শোরগোল ছাড়াই ইস্কাটনের এই নীরব ফ্ল্যাটটি যেন আজও নীরবে বহন করে চলেছে রুপালি পর্দার এক নক্ষত্রের আকস্মিক প্রস্থান আর ভক্তদের কোটি হৃদয়ের অপূর্ণ ভালোবাসার গল্প।





