স্ত্রীর জন্য পকেটে গুলি নিয়ে শোতে হাজির গোবিন্দ

সংগৃহীত ছবি
বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ এবং তার স্ত্রী সুনিতা আহুজার দাম্পত্য জীবন মানেই যেন এক হাই-ভোল্টেজ ড্রামা! কখনো প্রেম, কখনো পরকীয়ার গুঞ্জন, আবার কখনো প্রকাশ্যেই একে অপরকে খোঁচা দেওয়া— সব মিলিয়ে তাদের ৩১ বছরের সংসার চিরকালই বলিপাড়ার হট টপিক।
এবার এই তারকা দম্পতির অন্দরমহলের কোন্দল আর খুনসুটি সরাসরি চলে এলো ওটিটির জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘লক আপ ২’-এর মঞ্চে।
এই শো-এর অন্যতম প্রতিযোগী হিসেবে লড়ছেন গোবিন্দের স্ত্রী সুনিতা। আর স্ত্রীকে সারপ্রাইজ দিতে গোবিন্দ হাজির হলেন শো-এর মঞ্চে। তবে খালি হাতে নয়, পকেটে করে একটি আসল ‘গুলি’ নিয়ে সেটে আসেন তিনি!
শো-এর নতুন প্রমোতে দেখা যায়, সঞ্চালক ফারহা খান ও রিতেশ দেশমুখের সামনে এসে গোবিন্দ বলেছেন, ‘সুনিতা কিছুদিন আগে ইন্টারভিউতে বলেছিল যে ও যদি আমাকে গুলি করত, তবে পায়ে না মেরে বুকে মারত। তাই আমি আজ গুলিটা পকেটেই নিয়ে এসেছি। ওকে বলো— এই তো গুলি, এবার মেরেই ফেল!’
গোবিন্দের এই কৌতুক জড়ানো কাণ্ড দেখে সেটের সবাই হেসেই খুন। তবে হাসির ছলে নিজের বিয়েকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি অভিনেতা। শো-এর জেলের দিকে তাকিয়ে গোবিন্দ বলেছেন, ‘এই লক আপটা তো সবাই দেখছে, কিন্তু আমার জীবনে এমন এক অদৃশ্য লক আপ আছে যা কেউ দেখে না। আমি আসলে সেই জেলখানা থেকেই আসছি!’
২০২৪ সালে নিজের রিভলভার পরিষ্কার করার সময় অসাবধানতাবশত নিজের পায়ে গুলি চালিয়ে বসেন গোবিন্দ। সে সময় বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি ঠাট্টা করে জানতে চেয়েছিলেন, গুলিটা সুনিতা মেরেছেন কি না।
এক সাক্ষাৎকারে সুনিতা এর জবাবে বলেছিলেন, ‘গোবিন্দ তো অর্ধেক গল্প বলেছে! আমি শিল্পাকে বলেছিলাম, আমি গুলি চালালে পায়ে মারতাম না, এক্কেবারে বুকে মারতাম। কোনো কাজ করলে তা পারফেক্টলি করা উচিত, আধাখেচড়া নয়!’
হাসি-ঠাট্টার আড়ালে গোবিন্দের পরকীয়া ও বৈবাহিক জীবনের চরম তিক্ততাও ‘লক আপ ২’-এর মঞ্চে অকপটে স্বীকার করেছেন সুনিতা। শো-এর প্রথম দিনেই তিনি দাবি করেন, গোবিন্দ ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অসংখ্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
শো-এর এক পর্বে সহ-প্রতিযোগী শ্রেয়া কালরা সুনিতাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘গোবিন্দ কি এখনও আপনার সাথে চিটিং করেন?’ জবাবে সুনিতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছেন, ‘যা শুরু থেকেই হয়ে আসছে, তা নিয়ে এখন আর কী বলব? ও একজন সুপারস্টার হিরো, ওকে তো আর আটকে রাখা যায় না। হিরোদের কিছু বলাও যায় না।’
সুনিতা আরও জানান, আমাদের সমাজ মেয়েদের শেখায় বিয়েতে স্বামী যা-ই করুক না কেন, সব সহ্য করে সংসার টিকিয়ে রাখতে হয়। আর সেই কারণেই গোবিন্দের শত পরকীয়া সত্ত্বেও আজীবন তার ‘অর্ধাঙ্গিনী’ হয়েই থেকে গেছেন তিনি।





