সুশান্তের মৃত্যুর আগেই দিশার মৃত্যু, ৬ বছর পর সিবিআই তদন্তে নতুন মোড়

দিশা সালিয়ান ও সুশান্ত সিং রাজপুত
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অন্যতম আলোচিত ও রহস্যময় নাম দিশা সালিয়ান। দীর্ঘ ৬ বছরের আইনি লড়াই ও টানাপড়েনের পর অবশেষে বোম্বে হাইকোর্ট এ মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের এই আদেশের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান। সিবিআই তদন্তের নির্দেশের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এবার তার মেয়ের আত্মাও শান্তি পাবে।
২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বাইয়ের মালাদের এক বহুতল ভবন থেকে পড়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় সেলিব্রিটি ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের। এর ঠিক ছয় দিন পরই উদ্ধার হয় অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মরদেহ।
মুম্বাই পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও শুরু থেকেই এটিকে পরিকল্পিত খুন ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা বলে দাবি করে আসছিল দিশার পরিবার।
আদালতের নির্দেশের পর কান্নাভেজা কণ্ঠে আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাতে সতীশ সালিয়ান বলেছেন, ‘আজ প্রায় ৬ বছর পর এফআইআর দায়ের হলো। আমি নিজেকে কথা দিয়েছিলাম, বিচার না পাওয়া পর্যন্ত কাঁদব না। আজ রাতে আমি বাড়ি গিয়ে প্রাণভরে কাঁদব। আমার চোখের জলই আজ দিশার আত্মাকে শান্তি দেবে। ও মারা যাওয়ার দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি এক ফোঁটা পানিও ফেলিনি।’
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বোম্বে হাইকোর্ট সরাসরি সিবিআইকে এ রহস্যজনক মৃত্যুর বিস্তারিত পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয়। তবে আদালত স্পষ্ট সতর্ক করে দিয়েছে যে, উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকেই অযথা আসামি বা অভিযুক্ত করা যাবে না।
পরিবারের মানসিক যন্ত্রণার কথা স্মরণ করে সতীশ সালিয়ান বলেছেন, ‘বহু মানুষ তাকে বলেছিল প্রভাবশালী কারও বিরুদ্ধে লড়াই করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি।’
তার ভাষায়, ‘যারা অন্যায় করেছেন, তাদের শাস্তি পেতেই হবে। তাদের সবকিছু থাকা সত্ত্বেও কেন এমন অন্যায় করলেন? বিচার আমরা দেওয়ার কেউ নই, উপরওয়ালা ও দেশের আইন সব দেখছেন। সত্য শতভাগ সামনে আসবেই।’
বর্তমানে কেসটি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এর হাতে যাওয়ায় দিশা সালিয়ান এবং পরে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন তারা।






