ভাগ্যশ্রী থেকে শর্বরী, নায়িকাদের কেন হলুদ রঙে সাজান নির্মাতা সুরজ?

ভাগ্যশ্রী, শর্বরী ও মাধুরী
বলিউডের পারিবারিক ড্রামা এবং নিখাদ রোমান্সের কথা বললেই সবার আগে যার নাম আসে, তিনি প্রখ্যাত পরিচালক সুরজ বরজাতিয়া। তার পরিচালিত সিনেমা মানেই জমকালো পারিবারিক উৎসব, মিষ্টি প্রেম এবং নিখুঁত ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা।
তবে একটা জিনিস কি খেয়াল করেছেন? সুরজের সিনেমার নায়িকাদের পরনে বারবার ঘুরেফিরে আসে উজ্জ্বল হলুদ রঙের পোশাক।
‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’-র ভাগ্যশ্রী থেকে শুরু করে ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’-এর মাধুরী দীক্ষিত, সবার গায়েই কেন এই বিশেষ রঙটি দেখা যায়? এর পেছনে রয়েছে এক দারুণ ব্যক্তিগত গল্প।
সুরজ বরজাতিয়া তার নতুন সিনেমা ‘ইয়ে প্রেম মোল লিয়া’-এর মিউজিক ও টাইটেল ট্র্যাক লঞ্চিং ইভেন্টে মিডিয়া এবং দর্শকদের সামনে এই রহস্য প্রকাশ করেছিলেন নিজেই।
সিনেমাটির ‘সাওয়ান আয়া হ্যায়’ গানটি মুক্তি পাওয়ার পর যখন সবাই গানটিতে অভিনেত্রী শর্বরীর পরা উজ্জ্বল হলুদ শাড়ি নিয়ে আলোচনা শুরু করে, তখনই পরিচালক জানান, তার এই হলুদ প্রীতির নেপথ্যে রয়েছে তার ব্যক্তিগত জীবন।
সুরজের স্ত্রী হলুদ রঙটি ভীষণ পছন্দ করেন। স্ত্রীর এই পছন্দকে সম্মান জানিয়েই পরিচালক তার সিনেমার প্রধান চরিত্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ গান ও দৃশ্যে নায়িকাদের গায়ে হলুদ রঙের পোশাক পরানোর রেওয়াজ শুরু করেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যা ছিল নির্মাতার ব্যক্তিগত পছন্দ, তা আজ তার সিনেমার একটি অন্যতম সিগনেচার ভিজ্যুয়াল ডিটেলে পরিণত হয়েছে।
১৯৮৯ সালের ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ সিনেমাতে ভাগ্যশ্রীর সেই উজ্জ্বল হলুদ স্যুটের কথা আজও সিনেপ্রেমীদের মনে আছে। এরপর মাধুরী দীক্ষিতের ‘মায়ে নি মায়ে’ গানের সোনালী-হলুদ রূপ কিংবা ‘হাম সাথ-সাথ হ্যায়’-এ টাবু, সোনালি ও কারিশমার হলুদ উৎসব, সবখানেই ছিল এই রঙের জয়জয়কার।
এমনকি ‘বিবাহ’ সিনেমাতে অমৃতা রাওয়ের শান্ত হলুদ রূপ কিংবা ‘প্রেম রতন ধন পায়ও’-তে সোনাম কাপুরের রাজকীয় হলুদ লেহেঙ্গাও সেই ঐতিহ্য বজায় রেখেছে।
আর সম্প্রতি ‘ইয়ে প্রেম মোল লিয়া’ ছবির ‘সাওয়ান আয়া হ্যায়’ গানে আয়ুষ্মান খুরানার বিপরীতে শর্বরীও যখন একটি সুন্দর হলুদ শাড়িতে ধরা দিলেন, তখন স্পষ্ট হয়ে গেল সুরজ বরজাতিয়ার সিনেমায় নায়িকাদের হলুদ রঙে রাঙানোর এই মিষ্টি ঐতিহ্য আজও একইভাবে সমানভাবে বহমান।




