বিচ্ছেদের পর যেভাবে মুখোমুখি হয়েছিলেন দেব আনন্দ ও সুরাইয়া

দেব আনন্দ ও সুরাইয়া কয়েক বছর একে অপরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন
রূপালি পর্দার গল্পকেও কখনো কখনো হার মানায় বাস্তব জীবনের প্রেম। বলিউডের স্বর্ণালী যুগের তেমনই এক ট্র্যাজিক ও রোমাঞ্চকর প্রেমের নাম— দেব আনন্দ ও সুরাইয়া।
পর্দায় তাদের রসায়ন যতটা জমজমাট ছিল, বাস্তবে ধর্মীয় বাধা ও পরিবারের অমতের কারণে তাদের প্রেম থেকে গিয়েছিল অসম্পূর্ণ।
সম্প্রতি দেব আনন্দের দীর্ঘদিনের পিএ ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী অশোক সিনহা এক সাক্ষাৎকারে বিচ্ছেদের বহু বছর পর এই দুই তারকার প্রথম মুখোমুখি হওয়ার এক অবিশ্বাস্য মুহূর্তের কথা প্রকাশ করেছেন।
১৯৪৮ সালে ‘বিদ্যা’ সিনেমার ‘কিনারে কিনারে চালে জায়েঙ্গে’ গানের শুটিংয়ের সময় নৌকা উল্টে পানিতে পড়ে যান তৎকালীন সময়ের সুপারস্টার গায়িকা ও অভিনেত্রী সুরাইয়া। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লেকে ঝাঁপ দিয়ে তাকে বাঁচান দেব আনন্দ। সেদিনের পর থেকেই একে অপরের প্রেমে পড়ে যান তারা।
প্রেম এতটাই গভীর হয়েছিল যে দুজনে পালিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু সুরাইয়ার নানির তীব্র আপত্তির কারণে সেই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায় এবং চিরতরে আলাদা হয়ে যান এই দুই তারকা। পরবর্তী সময়ে দেব আনন্দ বিয়ে করলেও সুরাইয়া আজীবন অবিবাহিতই থেকে যান।
বিচ্ছেদের বহু বছর পর ফিল্ম সিটিতে এক জাঁকজমকপূর্ণ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঘটে এক অভাবনীয় ঘটনা। অশোক সিনহা জানান, জনপ্রিয় উপস্থাপক অমীন সায়ানী দেব আনন্দ ও সুরাইয়াকে যৌথভাবে মঞ্চে ডাকার পরিকল্পনা করেছিলেন লতা মঙ্গেশকরের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার জন্য।
তবে ব্যাকস্টেজে এই ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে বিষয়টি টের পেয়ে যান দেব আনন্দ। তিনি বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যান এবং চমকে উঠে তার পিএ-কে বলেন, ‘এটা নিশ্চয়ই আয়োজকদের কোনো কৌশল! আমাকে এখান থেকে বের করো।’
কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। ব্যাকস্টেজে যখন উত্তেজনা চরম, ঠিক তখনই দূর থেকে দেব আনন্দের দিকে হেঁটে আসতে দেখা যায় সুরাইয়াকে।
সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে অশোক সিনহা বলেছেন, “আমি দেব সাহেবকে বললাম, ‘স্যার, উনি আপনার দিকেই আসছেন।’ দেব সাহেব বিশ্বাস করতে না পেরে বললেন, ‘তুমি নিশ্চয়ই আমার সাথে মজা করছ!’ আমি বললাম, ‘স্যার উনি ঠিক আপনার পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন।’ দেব সাহেব ঘুরে দাঁড়ালেন। বহু বছর পর দুই প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকা মুখোমুখি! কারো মুখে কোনো কথা ছিল না। সুরাইয়ার চোখ যেকোনো মুহূর্তে জলে ভেসে যেতে পারত, আর দেব সাহেবের মুখেও ছিল একই অনুভূতি। শান্ত পরিবেশে দেব সাহেব হাত বাড়িয়ে সুরাইয়ার গাল স্পর্শ করলেন এবং ফিসফিস করে বললেন— সুরাইয়া।”
শেষপর্যন্ত দেব আনন্দের অনুরোধে আয়োজকরা যৌথভাবে তাদের নাম ঘোষণা করা থেকে বিরত থাকেন। ব্যাকস্টেজে থাকা সংগীত কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকরের সাথে কথা বলেন দেব আনন্দ এবং সুরাইয়াকেই এককভাবে লতাজির হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
এরপর জনসম্মুখের কৌতূহলী চোখ এড়িয়ে ব্যাকস্টেজ দিয়ে নিঃশব্দে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন চিরসবুজ নায়ক দেব আনন্দ।
দেব আনন্দ নিজের আত্মজীবনী ‘রোমান্সিং উইথ লাইফ’-এ লিখেছিলেন— ‘আমাদের ভাগ্য হয়তো এমনই ছিল। আমি যদি সুরাইয়াকে বিয়ে করতাম, তবে হয়তো আজকের এই দেব আনন্দ হতে পারতাম না।’
তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের পরও তাদের সেই সংক্ষিপ্ত দেখা বলিউডের ইতিহাসে এক অমর স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।






