প্রসবের সময় ‘মরতে মরতে বাঁচা’ রিচা চাড্ডা ফিরছেন ক্যামেরার সামনে

রিচা চাড্ডা
বলিউডের অন্যতম সাহসী ও প্রভাবশালী অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা। ‘মাসান’ কিংবা ‘ফুক্রে’ সিনেমার দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে ভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এ তারকা দীর্ঘদিন ধরে বড় পর্দা কিংবা ওটিটির প্রচার আলো থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন। কেন কাজ থেকে বিরতি নিয়েছিলেন, অবশেষে তা নিয়ে মুখ খুললেন রিচা।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে স্বামী আলী ফজলের সঙ্গে তাদের প্রথম কন্যাসন্তান জুনেয়রা ইদা ফজলকে পৃথিবীতে স্বাগত জানান রিচা।
সঞ্জয় লীলা বনসালির ওয়েব সিরিজ ‘হীরামান্ডি’-র অভূতপূর্ব সাফল্যের পর আর তাকে নতুন কোনো অভিনয় প্রজেক্টে দেখা যায়নি। নিউজ১৮-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিচা জানান, সন্তান প্রসবের সময়টি তার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন ছিল।
রিচা বলেছেন, ‘আমার নরমাল ডেলিভারি হয়েছিল এবং প্রসবের সময় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। শরীর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে মস্তিষ্ক কাজ করছিল না। স্বাস্থ্যগতভাবে পুরোপুরি ফিট হতে আমার দীর্ঘ সময় লেগেছে’।
শুধু সন্তান সামলানোই নয়, সন্তান জন্মের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই প্রযোজক হিসেবে নিজের প্রথম সিনেমা ‘গার্লস উইল বি গার্লস’ ওটিটিতে মুক্তির কাজ তদারকি করতে হয়েছিল তাকে।
রিচার কথায়, ‘প্রযোজক হিসেবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ডিল, প্রচার আর ছোট বাচ্চার যত্ন নেওয়া। সব মিলিয়ে শরীর আর কুলাচ্ছিল না। ডাক্তার আমাকে বাধ্য হয়েই বিশ্রামে যেতে বলেছিলেন এবং ওষুধ শুরু করতে হয়েছিল।’
তবে সব কঠিন সময় পেরিয়ে রিচা চাড্ডা এখন একদম ফিট এবং পুরোদমে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত। অভিনেত্রী জানান, শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও তিনি একটি ওটিটি শোর কাজ শেষ করেছেন এবং ‘মুসাফিরি’ নামে একটি বিশেষ নন-ফিকশন সিরিজের গবেষণা শেষ করেছেন। আর শিগগিরই নতুন সিনেমার শুটিং ফ্লোরে ফিরছেন তিনি।
রিচা জানান, মা হিসেবে পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা তাকে ভাবিয়ে তোলে। এআই এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ পৃথিবীর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে উদারমনস্ক হতে শেখাব না— ও চারপাশ দেখে নিজে শিখবে। তবে আমি তাকে শেখাব কীভাবে কাউকে বা কোনো কর্তৃপক্ষকে ভয় না পেয়ে নিজের মতো বাঁচতে হয়’।
বলিউডে প্রগতিশীল নারী চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রিচা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘পুরুষদের লেখা প্রগতিশীল নারী চরিত্রের চেয়ে নারীদের নিজেদের লেখা চরিত্র অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হয়। পুরুষ লেখকরা নারী স্বাধীনতা বোঝাতে শুধু একটি মদের বোতল হাতে ধরিয়ে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন।’




