তৈমুরের প্রশ্ন ছিল, ‘বাবা, তুমি কি মারা যাচ্ছ?’

ছেলে তৈমুরের সঙ্গে সাইফ আলী খান
সাইফ আলী খানকে বলা হয় বলিউডের নবাব। গত বছর তার সঙ্গেই ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা। মুম্বাইয়ের বাসভবনে তার ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংস ছুরি হামলার ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল গোটা বলিপাড়া। বান্দ্রার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে এক চোর সাইফসহ তার গৃহকর্মীকে রক্তাক্ত করে।
ঘটনার কয়েক মাস কেটে গেলেও সেই রাতের ট্রমা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি তার পরিবার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন অভিনেতা। জানালেন, কীভাবে স্রেফ ভাগ্য জোরে সেদিন বেঁচে ফিরেছিলেন তিনি, আর বড় ছেলে তৈমুরের একটি প্রশ্ন কীভাবে তাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ১৬ই জানুয়ারি। সাইফ জানিয়েছেন, সেদিন রাতে সব কিছু স্বাভাবিকই ছিল। তিনি ও কারিনা বিছানায় শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ তাদের ন্যানি হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকে জানান যে, ছোট ছেলে জেহের ঘরে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ছুরি হাতে ঢুকে টাকা দাবি করছে।
সাইফ বলেছেন, ‘খবর পাওয়া মাত্রই আমি জেহের ঘরে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি চোরটি আমার ছোট্ট জেহ-কে ধরে রেখেছে এবং ওর শরীরে ধারালো ছুরি দিয়ে সামান্য কেটে ফেলেছে। চোরটির আঘাতে আমাদের এক গৃহকর্মীও জখম হয়েছিল। পরিস্থিতি দেখে আমার মাথা ঠিক ছিল না, আমি সরাসরি ওই সশস্ত্র চোরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ি। এরপর আমাদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি শুরু হয়। সে পাগলের মতো ছুরি চালাতে শুরু করে এবং পুরো ঘর রক্তে ভেসে যায়।’
সাইফ জানালেন, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার বিশ্বস্ত গৃহকর্মী এসে ওই চোরকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের অন্য প্রান্তে ছুঁড়ে ফেললে তিনি রক্ষা পান। ততক্ষণে সাইফের শরীরে পিঠের মেরুদণ্ডের কাছসহ মোট ৬টি গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে।
নবাবের কথায়, ‘আমার পরনের সাদা কুর্তা-পাজামা তখন পুরো রক্তে লাল হয়ে গেছে। মেঝের ওপর শুয়ে আমার মনে হচ্ছিল, আমি হয়তো আর বাঁচব না। সেই চরম মুহূর্তে আমি আমার ছেলে তৈমুরকে নিজের কাছে ডেকেছিলাম। ও যেন আমার সঙ্গে হাসপাতালে যায়, সেই অনুরোধ করেছিলাম। তৈমুর তখন আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘বাবা, তুমি কি মারা যাচ্ছ?’ আমি ওকে অভয় দিয়ে ‘না’ বলি এবং আমরা একসঙ্গে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হই।’
হামলার ঠিক তিন দিন পর মুম্বাই পুলিশ দুর্দান্ত তৎপরতা দেখিয়ে অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
হামলাকারীর প্রতি কোনো ক্ষোভ আছে কি না— জানতে চাওয়া হলে সাইফ কিছুটা দার্শনিক ভঙ্গিতে উত্তর দেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি মানুষটাকে ক্ষমা করে দিতে চেয়েছিলাম। কারণ আমার মনে হয় সে স্রেফ চুরির উদ্দেশে এসেছিল, কোনো মারামারি করতে চায়নি। সে এক মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছে। কিন্তু যে অংশটিতে সে আমাকে ও আমার সন্তানকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল, তা মন থেকে মুছে ফেলা বা ভুলে যাওয়া আমার পক্ষে খুব কঠিন হচ্ছে। এটি আসলে সমাজের উচ্চবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের মধ্যকার বৈষম্যের ফসল।’
কাজের ক্ষেত্রে সাইফ আলী খানকে সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের প্রশংসিত সিনেমা ‘কর্তব্য’-তে দেখা গেছে। আগামীতে তিনি প্রিয়দর্শনের ‘হৈওয়ান’ এবং রাহুল ঢোলাকিয়ার ‘হাম হিন্দুস্তানি’ সিনেমায় প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করবেন।





