এক বছর পরও অজানা শেফালির মৃত্যুর রহস্য

শেফালি জারিওয়ালা
জীবন যে কতটা অনিশ্চিত, তার বড় প্রমাণ আমাদের প্রিয় তারকাদের হঠাৎ চলে যাওয়া। গত বছরের ২৭ জুন পুরো বিনোদন জগৎকে স্তব্ধ করে বিদায় নিয়েছিলেন 'কাঁটা লাগা'খ্যাত জনপ্রিয় পপ তারকা শেফালি জারিওয়ালা।
মাত্র ৪২ বছর বয়সে তার এই আচমকা চলে যাওয়া কেউ-ই সহজে মেনে নিতে পারেননি। আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতেও ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন, ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে? কেন একটি বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জানা গেল না তার মৃত্যুর আসল কারণ?
২০২৫ সালের ২৭ জুনের গভীর রাতে স্বামী পরাগ ত্যাগী শেফালিকে মুমূর্ষু অবস্থায় মুম্বাইয়ের বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ বা হৃদরোগের কথা বলা হলেও, মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে ডজনখানেক প্রশ্ন ও বিতর্ক দানা বাঁধে।
মৃত্যুর পেছনে অতিরিক্ত ডায়েট, উপোস এবং গ্ল্যামার ধরে রাখার সস্তা ‘অ্যান্টি-অ্যাজিং’ চিকিৎসা ও অননুমোদিত ‘ভিটামিন আইভি ড্রিপ’ নেওয়ার মতো ভয়ংকর সব দাবি সামনে আসতে শুরু করে।
পুলিশ তদন্তে শেফালির ঘর থেকে ত্বক ফর্সা করার উপাদান ‘গ্লুটাথিয়ন’, ভিটামিন সি ইনজেকশন এবং অ্যাসিডিটির ওষুধ উদ্ধার করে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা দিন উপোস থেকে এ ধরনের কড়া ডোজের সাপ্লিমেন্ট সরাসরি শিরার মাধ্যমে নিলে তা হৃদযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি বা ব্লাড প্রেসার হঠাৎ কমিয়ে দিতে পারে। তবে চিকিৎসকদের একাংশের মতে, এগুলোকে সরাসরি মৃত্যুর একমাত্র কারণ বলা যায় না।
সুশান্ত সিং রাজপুত কিংবা মাইকেল জ্যাকসনের মতো অল্প বয়সে সফল তারকাদের মৃত্যুর পর যেমন নানা ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ডালপালা মেলে, শেফালির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এমনকি তার স্বামী পরাগ ত্যাগীর ওপর কালো জাদুর প্রভাবের মতো কুৎসিত অভিযোগও আনা হয়েছিল।
সবচেয়ে লজ্জাজনক ছিল পাপারাজ্জি ও মিডিয়ার একাংশের অসংবেদনশীল আচরণ। শেফালির মৃত্যুর পরের দিন পরাগ যখন বিষণ্ন মনে তাদের পোষা কুকুর সিম্বাকে নিয়ে রাস্তায় বের হন, তখন সেই ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে দিয়ে প্রচার করা হয় যে পরাগ খুব দ্রুতই ‘শোক কাটিয়ে উঠছেন’!
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, বরুণ ধাওয়ান, রশ্মি দেশাই ও গুল পানাগের মতো তারকারা। প্রিয়াঙ্কা লিখেছিলেন, ‘বড্ড অল্প বয়সে চলে গেল মেয়েটা। পরাগ ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা।’
পরবর্তীতে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে স্বামী পরাগ ত্যাগী জানালেন, ‘শেফালি কোনো ক্ষতিকারক অ্যান্টি-অ্যাজিং ওষুধ খেত না। ও প্রতিদিন মাল্টিভিটামিন খেতে ভুলে যেত বলে মাসে একবার চিকিৎসকের পরামর্শে আইভি ড্রিপ নিত, যাতে কোলাজেন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকত। ও সেদিন উপোসও থাকেনি। ও কঠোর ডায়েট ও ওয়ার্কআউট করত বলেই ওকে বয়সের চেয়ে অনেক তরুণ দেখাত, কোনো শর্টকাট ওষুধের কারণে নয়।’
আজ শেফালিহীন একটি বছর পার করে দিয়েছেন পরাগ। ভালোবাসার মানুষকে হারানোর এই গভীর ক্ষত বুকে নিয়েই তিনি দিন কাটাচ্ছেন। তাদের ১৫তম বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে পরাগ তার বুকে শেফালির একটি বিশাল মুখাবয়বের ট্যাটু করিয়েছেন।





