৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল ফের প্রকাশের নির্দেশ

সংগৃহীত ছবি
সহকারী শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার ১৯৯ পরীক্ষার্থীর ফল নতুন কোটাপদ্ধতির ভিত্তিতে আবার প্রকাশ করতে বলেছেন সর্বোচ্চ আদালত। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ২০২৩ সালের সার্কুলারে পুরনো কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তারা। একই সঙ্গে বিষয়টি আদালতে উত্থাপনকারী ১৫১ রিট আবেদনকারীকে সহকারী শিক্ষক পদে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ‘আইন অনুযায়ী’ নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ আপিল বিভাগের।
গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। তবে আইন অনুযায়ী নতুন মেধাতালিকা করলে ১৫১ জনের মধ্যে ১৭ জন কোয়ালিফাই করেন বলে দাবি করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
ব্রিফিংয়ে তার ভাষ্য, আইন অনুযায়ী কেউ যদি যোগ্য প্রার্থী ওই ১৫১ জনের মধ্যে থাকেন, তাহলে তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে আপিল বিভাগের এই আদেশ। সর্বোচ্চ আদালতের প্রথম ডিরেকশনটা হচ্ছে মেধার ভিত্তিতে তাদের এই ফল আবার প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি যারা এর মধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের নিয়োগও বহাল রেখেছেন আদালত। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী তাজুল ইসলাম। পরে তিনি জানালেন, প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে ২০২৩ সালে একটি সার্কুলার হয়েছিল। সেই সার্কুলার অনুযায়ী তখনকার সময়ে বিদ্যমান যে কোটাপদ্ধতি ছিল অর্থাৎ ৮৪ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে দেওয়া হয় নিয়োগ। সেটাকে চ্যালেঞ্জ করে ১৫১ জন রিট পিটিশনার হাইকোর্ট ডিভিশনে মামলা করেছিলেন, জুলাই বিপ্লবের পরে সুপ্রিম কোর্টে যেহেতু একটা জাজমেন্ট হয়েছে, সেখানে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগটা হবে এবং মেধা হবে ৯৩ শতাংশ, তার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়া উচিত। এই মামলার ভিত্তিতে হাইকোর্ট ডিভিশন আগের নিয়োগটাকে অবৈধ ঘোষণা করে ১৫১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।
‘সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিল সরকার। সেই আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় হয়েছে। আপিল ডিভিশন সেই রায়ে তিনটি অবজারভেশন দিয়ে নিষ্পত্তি করেছেন আপিলটি। প্রথমত, ৪৬ হাজার ১৯৯ পরীক্ষার্থীর ফল সুপ্রিম কোর্টের কোটার রায়ের আলোকে আবার প্রকাশ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ১৫১ জন রিট পিটিশনার যারা ছিলেন, তাদের আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আইন অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে এবং তৃতীয়ত, যারা এরই মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের নিয়োগটা ন্যায়বিচারের স্বার্থে রাখতে হবে বহাল’— ব্যাখ্যা করলেন তিনি।




