সেশনজট কাটাতে এসএসসি-এইচএসিতে ‘শকথেরাপি’

সংগৃহীত ছবি
ফ্রেব্রুয়ারিতে এসএসসি, এপ্রিলে এইচএসসি ২০১০ সাল থেকে এভাবেই চলছিল পাবলিক পরীক্ষাগুলো। ২০২০ সালের করোনা মহামারি সেই সূচি লণ্ডভণ্ড করে দেয়। পরীক্ষা চলে যায় জুলাই-সেপ্টেম্বরে। গত ৬ বছর চেষ্টা করেও পরীক্ষার রুটিন আগের সময়ে আনতে পারছিল না শিক্ষা প্রশাসন। অবশেষে ২০২৭ সাল থেকে পরীক্ষার ক্যালেন্ডার স্বাভাবিক ধারায় ফেরাতে বড় ধরনের ‘শকথেরাপি আসল। নতুন রুটিন অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এতে দীর্ঘদিনের সেশনজট কাটার পাশপাশি শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় বাঁচবে। তবে হঠাৎ কয়েক মাস এগিয়ে আসা পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।
তাদের ভাষ্য, কমে যাবে পাঠদানের সময়, মানসিক চাপ বাড়বে, কোচিং নির্ভরতা আরও বাড়বে। অন্যদিকে বর্ষাকালে এইচএসসি আয়োজনে অতিবৃষ্টি ও বন্যা নতুন দুর্যোগ সৃষ্টি হতে পারে।
গতকাল সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন নতুন সূচি জানিয়ে বলেছেন, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। রমজানের ছুটির সম্ভাব্য ১০ ফেব্রুয়ারি আগেই এই পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এইচএসসি পরীক্ষা ৬ জুন শুরু হয়ে শেষ হবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।
মুন্সি আব্দুর রউফ কলেজের শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার আইরিন। ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেবেন। তিনি জানান, তাদের এখন তড়িঘড়ি করে কোর্স শেষ করতে হবে। এতে তার ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ বাড়বে এবং শর্টকাট সিলেবাস পড়তে হবে। এদিকে জুনে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বর্ষাকাল ও বন্যা। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে অনেক জেলায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়। সিলেট বা উত্তরাঞ্চলে বন্যার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়া বা পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
দুটি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, ২০২৭ ব্যাচের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের গড়ে ৩-৪ মাস আগে পরীক্ষায় বসতে হবে। ফলে তাদের ক্লাসরুমে পাঠদানের কাটছাঁট করতে হবে। তড়িঘড়ি করে সিলেবাস শেষ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময় ধরে প্রস্তুতি নিতে অভ্যস্ত। কিন্তু হঠাৎ করে সময় কমে যাওয়ায় কোচিং বা প্রাইভেট নির্ভরতা বেড়ে যাবে। শিক্ষকদের ওপরও দ্রুত কোর্স শেষ করার চাপ বাড়বে।
রাজধানীর একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেছেন, ২০২৬ ও ২০২৭ ব্যাচের মধ্যে ওভারল্যাপিং বা জট তৈরি হতে পারে। চলতি বছরের এইচএসসি ২ জুলাই এবং ২০২৭ সালেরটা জুনে শুরু হবে। ফলে দুটি ব্যাচের পরীক্ষার সময় কাছাকাছি চলে আসায় উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফল প্রকাশ এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। শিক্ষা বোর্ডগুলো একই সময়ে দুটি ভিন্ন ব্যাচের ফল নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কতটা সক্ষমতা দেখাতে পারবে, সেটিও দেখার বিষয়।
তার দাবি, সরকার হুট করে সময় কমিয়ে না এনে বরং পর্যায়ক্রমে প্রতিবছর ১৫-২০ দিন এগিয়ে আনলে সেটি বেশি টেকসই হতো।
তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবিরের ভাষ্য, আগামী বছরের ব্যাচগুলো সিলেবাস শেষ করতে কিছুটা কম সময় পেলেও সেশনজট নিরসনে এর বিকল্প নেই। জুন-জুলাইয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মেনেই প্রস্তুতি নিতে হবে। আস্তে আস্তে এইচএসসি মার্চ-এপ্রিলে চলে আসবে।
শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের টার্গেট ২০২৮ সালের মধ্যে পরীক্ষাগুলো আবার স্বাভাবিক ক্যালেন্ডারে (ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলে) ফিরে নিয়ে আসা। সেটার জন্য এর বিকল্প নেই। এটা করতে গিয়ে সিলেবাস কিছুটা শর্টকাট হবে, এটা মেনে নিতে হবে।




