অনবদ্য ৭৮-এ পা ডুয়ার, শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে কেউ শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, গবেষক, ব্যবসায়ী কিংবা হয়েছেন উদ্যোক্তা। কর্মজীবনের প্রয়োজনে তারা ছড়িয়ে পড়েছেন দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আত্মার বন্ধন আজও অটুট রয়েছে।
সাবেক শিক্ষার্থীদের এই সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (ডুয়া)। প্রতিষ্ঠার ৭৭ বছর পূর্ণ করে আজ শনিবার ৭৮ বছরে পা দিয়েছে সংগঠনটি। দীর্ঘ এই পথচলায় সাবেক শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ ও পুনর্মিলনের সংগঠন থেকে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীসহায়তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অংশীদার হওয়ার দিকে এগিয়েছে।
সংগঠনটির ওয়েবসাইটে থাকা তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ডুয়ার জীবনসদস্য ১৭ হাজারের বেশি। বিভিন্ন প্রজন্মের এসব অ্যালামনাই দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা পেশায় যুক্ত। তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সক্ষমতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে যুক্ত করার ওপর এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি।
ঢাবির অ্যালামনাই সংগঠনের ধারণাটি প্রথম সামনে আনেন ১৯২৫ সালের ব্যাচের শিক্ষার্থী ড. মুমতাজউদ্দিন আহমদ। পরে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের জনশিক্ষা বিভাগের পরিচালক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। তার উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রেজিস্ট্রার খান বাহাদুর নজিরউদ্দিন আহমদ।
১৯৪৯ সালে ‘ওল্ড বয়েজ অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। প্রথম সভাপতি ছিলেন বিচারপতি এম ইব্রাহিম এবং প্রথম মহাসচিব ছিলেন প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান। ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত এ নামেই কার্যক্রম চলে। পরের বছর নাম হয় ‘ওল্ড স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’। নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ যুক্ত হওয়ার পর ১৯৬০ সালে নাম হয় ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।
ডুয়ার সাংগঠনিক কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আসে ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সভাপতি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী ও মহাসচিব রকিবউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন সময়ে। এ সময় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের নিচতলায় সংগঠনটির নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১৬ হাজার বর্গফুটের একটি অফিস কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়। ২০০৭ সালে কাজ শেষ হওয়ার পর এটি ‘অ্যালামনাই ফ্লোর’ নামে পরিচিতি পায়। প্রশাসনিক কার্যালয়ের পাশাপাশি এখানে রয়েছে সভা ও সম্মেলনকক্ষ, লবি, লাইব্রেরি ও পাঠাগার, কম্পিউটার ল্যাব ও সাইবার ক্যাফে, কফি হাউজ, সামাজিক আড্ডার জায়গা, জিমনেসিয়াম ও নামাজের হল।
ডুয়ার দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ শিক্ষার্থীদের আর্থিকসহায়তা। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হয় অ্যালামনাইদের অনুদান ও বিভিন্ন ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে। বছরে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়। এ ছাড়াও মেন্টরশিপ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, নেতৃত্ববিষয়ক কর্মশালা, পুনর্মিলনী ও পেশাগত যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগেও যুক্ত করা হচ্ছে অ্যালামনাইদের।
ডুয়ার সদস্য সচিব আব্দুল বারী ড্যানী আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের আমরা প্রতি বছর বৃত্তি দিয়ে থাকি। দায়িত্ব নেওয়ার পর শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ বৃত্তির ব্যবস্থাও করেছি। এটি আমাদের নতুন উদ্যোগগুলোর একটি।’
ড্যানী বললেন, ‘গবেষণা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোগত উন্নয়ন— কোন কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রয়োজন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছি। এরপর দেশ-বিদেশে থাকা আমাদের অ্যালামনাইদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সক্ষমতা ও আগ্রহ অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।’
৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ‘অনবদ্য আটাত্তর’। এ উপলক্ষে সদস্য সচিব বললেন, ‘দীর্ঘ ৭৮ বছরের পথচলায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন একটি বড় পরিসরের পরিবারে পরিণত হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এ শক্তিকে আরও সংগঠিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজে লাগানো। আমরা সবাই মিলে এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে চাই, যেখানে সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে নিয়মিত অবদান রাখতে পারবেন।’



