ঢাকা কলেজ
ছাত্র হলের ডাইনিং টেবিলে খাচ্ছে কুকুর

ঢাকা কলেজের হলের ডাইনিংয়ে খাচ্ছে কুকুর—ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া
কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রদের ডাইনিং টেবিলে উঠে প্লেটে রাখা খাবার খাচ্ছে কুকুর। রাজধানীর ঢাকা কলেজের উত্তর ছাত্রাবাসের ডাইনিংয়ের এই দৃশ্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও শঙ্কা।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তর ছাত্রাবাসের ডাইনিংয়ে দুটি কুকুর অবাধে ঘোরাফেরা করছে। এর মধ্যে একটি কুকুর খাবারের টেবিলে উঠে ব্যবহৃত প্লেটে মুখ দিচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ডাইনিংয়ে কুকুরের অবাধ প্রবেশের কারণে খাবার ও ব্যবহৃত সামগ্রী দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ডাইনিংয়ের পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় স্বাস্থ্যহানির আতঙ্ক বিরাজ করছে তাদের মধ্যে।
বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ হোসাইন বলেন, ‘ডাইনিংয়ে কুকুরের অবাধ যাতায়াত এবং সংশ্লিষ্টদের অসতর্কতার কারণে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে পড়ছেন। টাকা দিয়ে খাবার গ্রহণের পর কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে এর দায়ভার হল প্রশাসন ও ডাইনিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিতে হবে।’
উত্তর ছাত্রাবাসের ডাইনিং ম্যানেজার মো. মুমিন বলেন, ‘হলের গেট নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ রাখা নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী রাত ১১টার পর গেট বন্ধ রাখার কথা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট সময়ের পর বাইক নিয়ে বা বাইরে থেকে এসে গেট খোলার জন্য চাপ দেন। এ সময় স্টাফদের সঙ্গে খারাপ আচরণের ঘটনাও ঘটে।’
তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসের কুকুরগুলো ডাইনিংয়ের আশপাশ কিংবা হলের ভেতরে ঢুকে পড়ায় খাবারে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ডাইনিংয়ের ফ্লোর ও বিভিন্ন সামগ্রী নিয়মিত পরিষ্কার এবং জীবাণুনাশক দিয়ে ধোয়া হলেও গেট খোলা থাকা ও কিছু শিক্ষার্থীর অসচেতনতার কারণে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।’
নর্থ হলের প্রভোস্ট মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘ডাইনিং থেকে শুরু করে আবাসিক হলের চারপাশে কুকুরের অবাধ চলাচল রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কলেজ প্রশাসনকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কুকুরগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া অথবা টিকাদানের আওতায় আনার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাতে ডাইনিংয়ে পানি পান করার পর অনেক শিক্ষার্থী গেট খোলা রেখে দেন বা পুরোপুরি বন্ধ করেন না। এতে কুকুর সহজেই হল ও ডাইনিংয়ে প্রবেশের সুযোগ পায়। হলের স্টাফ ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিয়মিত শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও কুকুর নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’



