রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ফুটবল টুর্নামেন্ট, উদ্বোধনে উপাচার্য

পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির মাঠে ‘অদম্য-১৮ ফুটসাল ফুটবল’ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। এ সময় আরও ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান। এছাড়াও ছিলেন পাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি শেখ মুজাহিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কে. এম. তরিকুল ইসলামসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ওই অফিস আদেশে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রিজেন্ট বোর্ডের নীতিনির্ধারণী ব্যক্তিদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ধারা ১১(১২) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হয়েছে। এর আওতায় সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন, ছায়া সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়।
এ অবস্থায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকার পরও ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এ ধরনের উপস্থিতি ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের প্রয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফুল হক তমাল বলেন, ‘ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটা সংগঠন টিকে থাকে মূলত শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে। যে কোনো একটা পক্ষ বিমুখ হলেই সেই সংগঠনের গতি থেমে যায় বলে মনে করি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রীয় কোনো আয়োজন নেই। শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক কিংবা ক্যারিয়ার উন্নয়ন সংগঠনের আয়োজিত প্রোগ্রামগুলোতে প্রশাসনের অনীহা বরাবরই চোখে পড়ার মতো। এসব প্রোগ্রামে একাধিকবার আমন্ত্রণ জানিয়েও ভিসি, প্রো-ভিসি কিংবা ট্রেজারার স্যারের দেখা তো দূর, শুভেচ্ছাবার্তাও পাওয়া যায় না, যদি না সেই প্রোগ্রামের একটা বড়সড় বাজেট থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক দলের আয়োজিত প্রোগ্রামগুলোতে তাদেরকে স্বপ্রণোদিত হয়েই উপস্থিত হতে দেখা যায়। ব্যাপারটা তাদের কাছে দৃষ্টিকটুও লাগে কি না জানি না। কিন্তু আমরা শিক্ষার্থীরা যারা একটা সুস্থ, সুন্দর, প্রাণোচ্ছল ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করি, তাদের এমন ঘটনা এই বার্তাই দেয় যে এসব দলীয় কার্যক্রমের দৌরাত্ম্য প্রশাসনের ছত্রছায়াতেই বাড়ছে। আজকে মিছিল, কালকে তর্ক, পরশু হয়তো মারামারি কিংবা তার চেয়েও বড় কিছু, কেবল সময়েরই অপেক্ষা। সম্প্রতি ইবিতে ঘটে যাওয়া ঘটনা মোটেও পাশ কাটানো যায় না। সুতরাং আমরা উদ্বিগ্ন, আমরা শঙ্কিত। ক্যাম্পাসের সুস্থ, সুন্দর একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্নিত হলে এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই দায়ী থাকতে হবে।’
রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে দলীয় আয়োজনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বক্তব্য দিতে রাজি হননি।






